পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রকাশ করলেন না। অগত্যা বাদশাহ পত্রের বয়স্যগণকে ডাকাইয়া জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন, তাহারা সকল কথাই বাদশাহ সমক্ষে নিবেদন করিল। বাদশাহ তখন পত্রকে ডাকাইয়া বলিলেন—“বৎস, যদি তুমি মেহেরতেগজকে লাভ করিবার জন্য এতই ব্যাকুল হইয়া থাক, তবে আমি তাহার সদ্যপায় করিতেছি। রাজনীতিঅনুসারে, প্রথমে রমের বাদশাহের নিকট এক বিনতিপর্ণ পত্র লিখিয়া তোমার জন্য তাঁহার কন্যার হস্ত প্রার্থনা করিব। বহমাল্য রত্নসকল উল্ট্রপষ্ঠে তাঁহার জন্য উপহার পাঠাইব । ইহাতে যদি তিনি সম্মত হন, উত্তম। না সক্ষমত হন, তখন সসৈন্যে রমযাত্রা করিয়া যুদ্ধে তাঁহাকে পরাজিত করিয়া তাঁহার কন্যাকে ছিনাইয়া লইয়া আসিব । তুমি তজন্য কিছুমাত্র চিন্তিত হইও না।” পিতার এই উক্তি শ্রবণ করিয়া বাদশাজাদা কহিলেন—"পৃথিবী-পালক, একজনকে বিনাদোষে লাঞ্ছনা করা নীতি ও ধর্মসঙ্গত নহে। তদপেক্ষ আমি গিয়া প্রশেনর উত্তর দিয়া মেহেরগেজকে বিবাহ করিয়া আনিব।” বাদশাহের পাত্রমিত্র সভাসদগণ, সকলেই কহিলেন—“বাদশাজাদা যদি নিতান্তই যাইবেন, তাহা হইলে উহার সহিত যথেষ্ট সৈন্যবল প্রেরণ করা হউক, কারণ পথে কি বিপদ উপস্থিত হইতে পারে কিছুই বলা যায় না।” ফলতঃ বাদশাজাদ। তহমাশ সৈন্যস্যমন্ত এবং উস্তুপঠে নানাবিধ রত্নরাজি উপহার লইয়া রমযাত্রা করলেন। কৈমশ বাদশাহের রাজধানী কুতন্তুনিয়া (অথবা ইস্তাবল) নগরে পেপছিয়া দেখিলেন, তথায় এক প্রকাণ্ড দলগ দণ্ডায়মান। দলগ বোরে বাদশাহ ও বাশাজাদাগণের এক হাজার কাট্য মণ্ড ঝুলিতেছে। বাদশাজাদার সংগীগণ ইহা দেখিয়া অতিশয় ভীত ও ব্যাকুল হইয়া পড়িলেন এবং তাঁহাকে কহিলেন—“মহাশয়, এখনও নিবৃত্ত হউন, নতুব আপনারও মস্তক কাটিয়া এইখানে ঝালাইয়া দিবে।” কিন্তু বাদশাজাদা কাহারও কথায় কর্ণপাত করলেন না। সহরের মধ্যে প্রবেশ করিয়া তহমাশ দেখিলেন যে, গহ ও পথাদি অতি রমণীয়। রাজপথে ধালি দমনাথ সব্বদা জল ছিটান হইতেছে। পথের পাশবদেশে ফলের বাগান। মালীগণ সব্বদা সেই সকল বাগানের শোভা বন্ধন করিতে ব্যস্ত। পথানে স্থানে বাদ্যমণ9 গঠিত আছে, সেখানে শানাই ও অন্যান্য বিবিধ যন্ত্র সমধর সঙ্গীত আলাপ করিতেছে। নাগরিকগণ নিৰ্ম্মল বসন পরিধান করিয়া হাস্যমুখে ইতস্তত বিচরণ করিতেছে । নগরের মধো মধ্যে সাধারণ বিহার-বাটিকা। পানাহারের জন্য স্থানে সথানে তাব রচিত হইয়াছে। জরির পদায় বারদেশগুলি অলঙ্কৃত। বাদশাজাদা এইরূপ নগরের শোভাসম্পদ দেখিতে দেখিতে বেড়াইতে বেড়াইতে ক্ৰমে রাজবাটীর সমখে উপস্থিত হইলেন। বারে একটি স্বর্ণ গঠিত ডঙ্কা ছিল এবং সেই ডঙ্কায় রত্নের অক্ষরে লেখা ছিল—“যদি কেহ এই নগরে আসিয়া বাদশাজাদী মেহেরণ্ডেগজের হসত প্রার্থনা করে, তবে সে যেন এই ডকা বজায়।” বাদশাজাদা তাহা দেখিয়া, আশব হইতে অবতরণ করিয়া, তৎক্ষণাৎ ডঙ্কা বাজাইতে উদ্যত হইলেন। তাঁহার বন্ধগণ তখনও একবার চেষ্টা করিতে লাগিল, যদি কোনও মতে তাঁহাকে এই ভীষণ দশা হইতে বাঁচাইতে পারে। তাহারা বলিল, রাজকুমার, আমরা অদ্যমাত্র এই নগরে উপস্থিত হইয়াছি। এখনও ইহার বিষয়ে কিছই অবগত নহি । বাসস্থানও এখনও স্থিরীকৃত হয় নাই ; অতএব এখন নিবত্ত হউন, পরে একদিন সময়মত ডকা বাজাইবেন।” তহমাশ কুদ্ধ হইয়া বলিলেন, “আমি কি এখানে ব্যথা সময়ক্ষেপ করিতে আসিয়াছি? ডঙ্কা বজাইলে আমি রাজসমীপে নীত হইব। আমার পরিচয় পাইলে বাদশাহ অবশ্যই আমার থাকিবার স্থান প্রভৃতি বন্দোবসত করিয়া দিবেন।” বলিয়া সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই ডণ্ডকা বাজাইয়া দিলেন । ডাকা বাজিবামার রাজবাটী হইতে লোক আসিয়া তাঁহাকে কৈমশশাহ বাদশাহের ২৩১ を