পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিকট লইয়া গেল। কৈমশশাহ বাদশাজাদা তহমাশের রপদশনে অত্যন্ত মগধ হইলেন। তাঁহার মনে অত্যন্ত স্নেহ উপস্থিত হইল। পরিচয় পাইয়া বলিলেন—বংস, তুমি কেন প্রাণ দিতে এখানে আসিয়াছ ? আমার কন্যা অতি রুপবতী বটে, কিন্তু তাহার হদয় পাষাপের মত কঠিন। কত কত বাদশাহ ও বাদশাজাদাকে সে যে প্রশ্নোত্তর দানে অক্ষম বলিয়া হত্যা করিয়াছে তাহার ইযতা নাই। সুতরাং আমার অনুরোধ, তুমি এ কঠিন সঙ্কল্প পরিত্যাগ কর।” বল বাহুল্য তহমাশ কোন মতেই নিজ প্রতিজ্ঞা হইতে বিচলিত হইলেন না। তখন অগত্যা বাদশাহ নিজ পত্নী গলেরখ বেগম সহ বাদশাজাদা তহমাশকে সঙ্গে লইয়া কন্যার নিকট উপস্থিত হইলেন। সেখানে গিয়া নিজ কন্যাকে কহিলেন—“তোমার এ কি পণ । কত কত বাদশাজাদা তোমার সহিত বিবাহথি আগমন করিল তুমি এক প্রশ্নের ছলে তাহাদের সকলকেই হত্যা করিলে। এখনও বলিতেছি, এই ভীষণ পণ পরিত্যাগ কর । এই দেখ খাদির দেশের বাদশাজাদ। তহমাশ বহুবিধ রত্নাদি উপহার লইয়া তোমার হসন্ত কামনায় সমাগত। প্রশ্নের পণ পরিত্যাগ করিয়া ইহাকে পতিত্বে বরণ কর । তাহ যাদু না কর, সহস্র বৎসর ধরিয়া লক্ষ মনুষ্য বধ করলেও কেহ তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হইবে না। তোমাকে আজন্ম কুমারীই থাকিম্বা যাইতে হইবে।” এ কথা শুনিয়া মেহেরগেজ কহিল—“পিতঃ, আমি একবার যাহা প্রতিজ্ঞা করিয়াছি, কখনই তাহা হইতে বিচ্যুত হইব না। আমার ভাগ্যে যদি আজন্ম পতিলাভ না হয় সেও ভাল, তথাপি বিনা প্রশ্নোত্তর-দানে কাহাকেও বিবাহ করিতে স্বীকৃত হইব না।” তখন মেহেরতেগজ রাজকুমারের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া বলিলেন,-“গল বা সনোবর চে কন্দ" " অর্থাৎ গলে সনোবরের সহিত কি করিয়ছিল ? রাজকুমারের মখে যাহা আসিল তাহাই বালযা উত্তর দিলেন। মেহেরগেজ বলিল—“হইল না।” বলিয়৷ জল্লাদকে হুকুম দিল--"অবিলম্বে ইহার শিরচ্ছেদ করিয়া মণ্ড দ্যগ বারে টাঙ্গাইয়া দাও।” আজ্ঞামাত্র জল্লাদ রাজকুমারকে বধ্যভূমিতে লইয়া গিয়া তহ্যির শিরচ্ছেদ করিল। এই সংবাদ শ্রবণ করিয়া বাদশাহ শ্যামশাদলালপোষ কৃষ্ণবর্ণ বসন পরিধান করিয়া চল্লিশ দিন অবধি পত্ৰশোকে মহামান নহিলেন। পরে তাঁহার দ্বিতীয় পত্র কহমাশও জেষ্ঠ ভ্রাতার পদানুসরণ করির মেহেরগেজের হস্তে প্রাণ দিল। পরে পরে আরও চারিপত্র এই প্রকারে প্রাণ দিলেন। কেবল সব কনিষ্ঠ পত্র অলমাশ রহিবক্স তখনও পিতামাতার শোক-দগধ হৃদয়ে সান্ত্বনা দিতে বাকী রহিলেন। তৃতীয় পরিচ্ছেদ বাদশাজাদা অলমাশ অত্যন্ত বৃদ্ধিমান ও সাহসী ছিলেন। তিনি সমস্ত বিদ্যায় নিপণ এবং চৌষটি কলায় সদক্ষ ছিলেন। একদিন তিনি দেখিলেন যে, তাঁহার পিতা রত্নজড়িত সিংহাসনে বসিয়া পত্ৰশোকে নেত্রনীর বিসর্জন করিতেছেন। অলমাশ পিতার এই দশা দেখিয়া তাঁহার নিকটে গিয়া সেলাম করিয়া বলিলেন;"পিতঃ, বাদশাহ কৈমশের কন্যা আমার ছয়টি ভ্রাতাকে হত্যা করিয়াছে, আমার অভিলাষ যে আমি গিয়া সেই পাপীয়সীর উপর প্রতিশোধ লই । তাহার প্রশ্নের উত্তর দিয়া, তাহাকে নিজ পত্নী করিয়া, যথোপযুক্ত দন্ড তাহাকে প্রদান করি।” ইহা শুনিয়া বাদশাহ কহিলেন—“বৎস, একে একে আমার ছয়টি পত্র কালকবলে পতিত হইয়াছে, এখন একমাত্ৰ তুমি অবশিষ্ট আছ। তুমিই আমার বন্ধদশার ভরসাসথল, তোমার দুবারাই আমার পৈত্রিক রাজ্য বজায় থাকিবে। তুমিও কি জানিয়া শুনিয়। সেই পাপীয়সীর হতে প্রাণ দিতে উদ্যত হইয়াছ ?” অলম্যশ রহ কহিলেন—“পিতঃ, যদি ভ্রাতৃহত্যার প্রতিশোধ না লইতে পারি, তবে এ জীবনে ফল কি ? তাহা হইলে আমার রাজ্যসখও ব্যথা, আমার পরষার্থও বথা।” ফলতঃ পিতাকে অনেক প্রকারে বাবাইয়া অলমাশ রমদেশের অভিমখে যাত্রা করিলেন। ૨ડરે