পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অলমাশ কোনও সৈন্যসামন্ত বা বন্ধুবান্ধব সঙ্গে লইলেন না। একাকীই যাত্রা করিলেন। কয়েক দিবসালন্তর কৈমশ শাহের রাজধানীতে পেপছিয়া, দগাবারে নিজ ছয় ভ্রাতার মণ্ড বিলম্বিত দেখিয়া অনেক বিলাপ করিতে লাগিলেন। যাহা কিছ দ্রষ্টব্য, যাহা কিছু জ্ঞাতব্য, সমস্ত দেখিয়া ও জানিয়া লইলেন, কিন্তু যাহা বিশেষ করিয়া জানিবার জন্য ব্যঞ্জ ছিলেন--অর্থাৎ প্রশেনর উত্তর--তাহার কোনও সন্ধান পাইলেন না । অবশেষে যখন সন্ধা সমাগত হইল, তখন নগর হইতে বাহির হইয়া একটি ক্ষুদ্র গ্রামে প্রবেশ করিলেন। সেখানে একটি সামান্য চাষা লোকের গহে উপস্থিত হইয়া আতিথ্য ফ্রাঞ্জা করিলেন। কৃষক আনন্দমনে তাঁহাকে আশ্রয় দিতে সম্মত হইল। সেই কৃষকের কুটীয়ে সমস্ত রাত্রি অবস্থান করিয়া, পরদিন প্রভাত হইবামার অলমাশ পুনরায় মগর ভ্রমণে বহিগতি হইলেন। এইরূপে কয়েক দিবস অতিবাহিত হইল। প্রশেনর উত্তর কি, সে বিষয়ে বাদশাজাদা বহল অনুসন্ধান করিলেন, কিন্তু কিছই কলকনারা পাইলেন না। এইরূপে দুঃখিত অন্তঃকরণে নগরে ভ্রমণ করিতে করিতে একদিন মেহেরঙ্গেজের মহালের নিকট উপস্থিত হইলেন। সেই মহালের চতুদ্দিক উচ্চ প্রাচীরে ঘেরা। বারে সশস্ত্র সৈন্যগণ পাহারা দিতেছে। রাজকুমারের মনে প্রবল ইচ্ছা হইল, একবার কোনও মতে ইহার ভিতর প্রবেশ করিয়া মেহেরগেজকে দেখিতে হইবে । না জানি সে কি রপ, যাহার লালসায় উন্মত্ত হইয়া এত বাদশাহ এবং বাদশাজাদা প্রাণ দিল ! এইরুপ চিন্তা করিতে করিতে রাজকুমার সেই প্রাচীরের চতুদিকে পরিভ্রমণ করিতে লাগিলেন। রাজকুমার ভাবিলেন, যদি কোথাও গোপন পথের সন্ধান পাই ত প্রবেশ করি। চতুদিকে ভ্রমণ করিতে করিতে দেখিলেন, একথানে একটি কৃত্রিম নদী মহালের ভিতর হইতে, প্রাচীরের নিম্নদেশ দিয়া বহিয়া, বাহির হইয়া আসিতেছে। সযোগ পাইয়া সেই কৃত্রিম নদীতে বাদশাজাদা অবতরণ করিলেন এবং ডাব দিয়া, প্রাচীরের নিমনপথে ভিতরে প্রবেশ করিলেন। g প্রবেশ করিয়া রাজকুমার দেখলেন, সে সখান একটি মনোহর প্রমোদ কানন। নদীর দুই পাশেব হরিদ্বণ বাক্ষরাজি ও লতাপাপ শোভায়মান, তাহার ছায়া নদীর নির্মল বসিয়া ঐক্যতানবাদন করিতেছে। ফলে ফলে ভ্রমরের গঞ্জেন করিয়া মধুপান করিয়া বেড়াইতেছে। কোকিল ও কোকিলাগণ পরস্পরের মনোহরণ করিবার জন্য অপর্বে সংগীতধ্বনিতে আকাশমাগ পরিপ্লাবিত করিতেছে। তখন সেখানে কেহই ছিল না। রাজকুমার এক স্থানে রৌদ্রে বসিয়া নিজ গাত্র ও পরিধেয় বস্ত্র শুকাইয়া লইলেন। তাহার পর সাবধানে প্রমোদ কাননের ভিতর অগ্রসর হইলেন। ক্ৰমে দেখিতে পাইলেন, তাঁহার নিকট হইতে অনতিদরে পরীসদৃশ কয়েকটি কন্যা বসিয়া আছে। কিংখাব নিমিত একটি সন্দর ফরাস, তাহার উপর রত্ন সিংহাসন । সেই সিংহাসনে দিব্যাঙ্গনা সদশ একটি কন্যা বসিয়া, তাহারই চতুষ্পপাশে পরীসদশ সখিগণ বসিয়া আছে। অনুমানে বঝিলেন, সিংহাসনথিত কন্যা মেহেরগেজ হইবে। সেই সন্দরীর অঙ্গের লাবণ্যে সমস্ত প্রমোদ কানন যেন উদ্ভাসিত। তাহার কেশদামের সৌগন্ধ কুসমগন্ধকেও পরাজিত করিয়াছে। দেখিয়া রাজকুমার ভাবিলেন, বিধাতা যাহাকে এরপে রপেলাবণ্যের অধিকারিণী করিয়াছেন, সে কেন এমন নিষ্ঠরবৎ সহস্ৰ প্রাণী হত্যা করিতেছে ? রাজকুমার মনে মনে এইরুপ চিন্তা করিতেছেন, এমন সময় একজন সখী একটি সবণনিমিত পেয়ালা হস্তে করিয়া নদী হইতে জল লইতে আসিল । তাহাকে ত্যাসিতে পেয়ালা ডবাইবার সময় দেখিল, জলে এক অপরাপ রূপবান পরষের ছায়া। সেই ছায়া দেখিবামাত্র সেই সুখীর হস্ত হইতে পেয়ালা খলিত হইয়া পড়িল এবং সে অত্যন্ত -- లిలి