পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তোমার প্রয়োজন নাই। আমি সহজেই তোমার মনস্কামনা সিদ্ধ করতে পার । , মেহেরঙ্গেজকে মদ্য দিবার কালে তাহার সহিত এমন বিষ মিশাইয় - মৃত্যু যর্ঘ্য হইবে।” iাইয়া দিতে পারি যে, তাহার রাজকুমার কহিলেন—“না প্রিয়তমে, ছলে শহবেধ করা পরষাথী নহে। আমি স্বয়ং বাকাফ সহরে গিয়া প্রশেনর উত্তর অনিয়ন করিয়া নিজ অভিপ্রায় সিদ্ধ করিব।” অতঃপর দিল-আরামের নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়া, সযোগ মত সেই কৃত্রিম নদী পথে রাজকুমার বাহির হইলেন। যাহার গহে পাবে অতিথি হইয়াছিলেন, সেই কৃষকের নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়া বকফ নগরাভিমুখে যাত্রা করিলেন। চতুর্থ পরিচ্ছেদ উত্তম বেগবান অশের আরোহণ করিয়া, বাদশাজাদা অলমাশ বাকাফ নগর উদ্দেশে যাত্রা করিলেন। কিন্তু বাকাফ নগর কোথায়, কোন দিকে, কোন পথে যাইতে হইবে, তাহা তিনি কিছই অবগত ছিলেন না। অথচ মনের আবেগে অশব ছটাইয়া যাইতে লাগিলেন। -- - - сх কয়েক দিবস এইরূপে অতিবাহিত হইল। পথচারী কত লোককেই জিজ্ঞাসা করেন, বাকাফ সহর কোথা ? কেহই সন্ধান বলিতে পারে না। এই কারণে বাদশাজাদার মন অত্যন্ত বিষগ্ন হইয়া উঠিল। সপ্তম দিবসে তিনি দেখিলেন, সবুজ বস্ত্র পরিধান করিয়া একটি বদ্ধ ব্যক্তি অশ্ববারোহণে পথে যাইতেছেন। রাজকুমার সেই বন্ধকে জিজ্ঞাসা করিলেন—“জনাব, বাকাফ নগর কোন পথে যাইতে হইবে বলিতে পারেন ?" বন্ধ জিজ্ঞাসা করিলেন—“হে যুবক, তুমি কে? কোথা হইতে আসিতেছ?” রাজকুমার উত্তর করিলেন—“আমি একজন পথিক মাত্র। যদি বাকাফ নগরের সন্ধান আমায় বলিতে পারেন ত বলিয়া উপকৃত করন।” বন্ধ কহিলেন—“বৎস, তুমি বাকাৰ্য নগরে যাইবার আশা পবিত্যাগ কর। সে পথ অতি ভয়ানক। যদি সারা জীবন সে পথ অন্বেষণ কর, তাহা হইলেও সফল হইবে না।” কিন্তু রাজকুমার অলমাশ কিছুতেই নিবত্ত হইলেন না। অবশেষে বন্ধ বলিলেন— “সহর বাকাফ, কাফ দেশে অবস্থিত। সে দেশে দৈত্যগণ বাস করে। এই সখান হইতে কিছু দরে যাইলে, সম্মুখে দুইটি পথ দেখিতে পাইবে । তোমার দক্ষিণ দিকে যে পথ সেই পথ অবলম্বন করিও। বামদিকের পথে কদাপি পদপিণ করিও না। দক্ষিণ দিকের পথ একদিন এবং এক রাত্রি চলিলে পর, সম্মুখে একটি স্তম্ভ দেখিতে পাইবে। সেই স্তম্ভে এক শেবত প্রস্তর খন্ড যোজিত আছে। সেই শিলায় সবর্ণের অক্ষরে কিছর লেখা আছে। সেই লেখা পড়িয়া, তদনুসারে পথ অবলম্বন করবে। কদাপি তাহার বিরধি পথ গ্রহণ করিবে না। করিলে তোমার সমাহ বিপদ উপস্থিত হইবে।” রাজকুমার এই কথা শুনিয়া বন্ধকে সেলাম করিয়া অশ্বচালনা করিলেন। একদিন এবং এক রাত্রির পর কথিত স্তম্ভ দণ্টিগোচর হুইল। বেত প্রস্তরে সবণাক্ষরে ক্ষোদিত ছিল যে পথিকের উচিত দক্ষিণ মাগ* অবলমবন করা। যদি কেহ বাম মাগ" অবলম্বন করে তবে তাহাকে অলপ ক্লেশ পাইতে হইবে কিন্তু শীঘ্ন আপনার মনোরথ পণ্য হইবে। অীর মধ্যবত্তী যে পথ তাহাই বাকাফ সহরের পথ। কিন্তু সে পথ এতই ভয়ানক ষে পথিকের প্রাণনাশের সম্পণে সম্ভাবনা। রাজকুমার সেই শিলালিপি পাঠ করিয়া, নিৰ্ভয়ে মধ্য পথই অবলম্বন করিলেন। একদিন এক রাত্রি সেই পথে চলিবার পর একটি সন্দর ময়দান দটিগোচর হইল। তথায় উচ্চ বনস্পতিরাজি আকাশে মস্তক মিলিত করিয়াছে। কিছু দরে একটি উদ্যানবাটিকাও রহিয়াছে রাজকুমার সেই বাটিকার অভিমুখে অগ্রসর হইলেন । তথায় পৌছিয়া দেখিলেন যে, উদ্যানবাটিকার প্রবেশপথ মন্মর প্রস্তরে গঠিত। একজন মসীবণ হাবসী দবার রক্ষা করিতেছে । তাহার ওপরের ওষ্ঠ উলটাইয়া নাসিকা ২৩৬