পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আছি বটে, কিন্তু আমার জীবন বিফল হইল। তাহার অপেক্ষা যদি আঁমি পলাইতে পারি, যদি ব্যাঘ্র ভল্লকেও আমাকে খাইয়া ফেলে, এ বিফল জীবন অপেক্ষা তাহাও ভাল।" এইরুপ ভাবিতে ভাবিতে তিনি ক্ৰমাগত পলাইবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন, কিন্তু নিগমনের কোনও পথ খুজিয়া পাইলেন না। . পঞ্চম পরিচ্ছেদ হরিণবেশী বাদশাজাদা এই প্রকার মনোদুঃখে সেই বাগানে দশ বারো দিন যাপন করিলেন। একদিন বাগানের এক কোণে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন, সেখানকার প্রাচীরের উপরাংশ বর্ষণ-জলে ভাঙ্গিয়া গিয়াছে। যাহ অবশিষ্ট আছে তাহা তাদশ উচ্চ নহে। দেখিয়া বাদশাজাদার মনে অত্যন্ত আনন্দ হইল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়া, বিপলে বলের সহিত এক লম্ফ প্রদান করিয়া প্রাচীরের বাহির হইয়া গেলেন। প্রাচীর লঙ্ঘন করিয়া, প্রাণপণে ছয়টিতে আরম্ভ করিলেন—আশঙ্কা পাছে আবার লতিফাবানর মায়াজালে বন্ধ হইয়া পড়েন । সারাদিন ছটিয়া ছটিয়া, সেই বাগান হইতে বহু ক্লোশ দরে গিয়া পড়িলেন। সেখানে একটি জলাশয় ছিল। কিgৎ জলপান কেরিয়া এবং তৃণাদি ভক্ষণ করিয়া রাত্রের মত সেই পথানেই বিশ্রাম করিতে লাগিলেন । পরদিন প্রাতঃকালে উঠিয়া, পনরায় চলিতে আরম্ভ করিলেন। কিছু দরে যাইয়া দেখেন, একটি বিপুল অট্টালিকা শোভা পাইতেছে। সেই আটালিকার চতুদিকে এক সহস্র বাতায়ন সন্নিবিল্ট ছিল। গহের নিকট গিয়া ভ্রমণ করিতেছেন, এমন সময় একটি বাতায়ন পথে এক পরমা সন্দেরী রমণীমত্তি দেখা গেল। সেই রমণীকে দেখিয়াই বাদশাজাদার বিশ্বাস হইল, ইনি স্নেহশীলা করুণাময়ী রমণী—লতিফাবানর মত কামকী ও পাষাণ-হৃদয়া নহেন। মনে হইল, এই রমণী হয়ত বা আমাকে এই ইন্দ্রজাল হইতে মুক্ত করিয়া প্রাণদান দিতে পারেন। এদিকে সেই রমণী হরিণকে দেখিয়া অত্যন্ত মগধ হইলেন। স্বীয় পরিচারিকাকে ডাকিয়া কহিলেন—“দেখ দেখ, কি সন্দর হরিণ । উহার শক্তগ কেমন সবণজড়িত । অঙ্গে কেমন সন্দর জারদার মখমলের আঙ্গরাখা। গলায় কেমন রেশমী রামাল বাঁধা রহিয়াছে। বোধ হয় কোনও বড়লোকের পালিত হরিণ হইবে—কি করিয়া পলাইয়া আসিয়াছে। তুমি যাও উহাকে ধত করিয়া আন। আমি পুষিব৷” আজ্ঞা পাইয়া পরিচারিকা নীচে নামিয়া আসিল। এক মাটি সবজি নবীন ঘাস লইয়া, হরিণের নিকট যাইয়া, “আয় অায়” বলিয়া প্রলোভিত করিতে লাগিল। বাদশাজাদারও মন সেই রমণীর সহিত সাক্ষাৎ করিবার জন্য ছটফট করিতেছিল, তিনি সহজেই ধরা দিলেন। দাসী তাঁহার গলার রমাল ধরিয়া ভিতরে লইয়া গেল। ভিতরে গিয়া বাদশাজাদা দেখিলেন, সেই সন্দেরী নবীনা যাবতী একটি রত্ব সিংহাসনে উপবিট আছেন। তাঁহার রপের জ্যোতিতে কক্ষখানি ঝলমল করিতেছে, যাবতীর নাম জমিলাবান। হরিণকে দেখিবমাত্র তিনি তাহকে কাছে অনিতে বললেন। হরিণের গায়ে আদর করিয়া হাত বলাইতে লাগিলেন। হরিণও নিজ মস্তকটি তাঁহার কোলে রাখিয়া চপ করিয়া দাঁড়াইয়া রহিল। মাঝে মাঝে মস্তক তুলিয়া জমিলাবানর প্রতি সকাতর ভাবে দটি করিতে লাগিল। জমিলাবান উত্তম মেওয়া ফল আনিয়া হরিণকে খাইতে দিলেন। উত্তম সুগন্ধি গোলাপী সরবৎ তাহকে পান করিতে দিলেন। বাদশাজাদা এতদিন ঘাস খাইয়া বিশেষ কষ্ট্ৰভোগ করিয়াছিলেন। এই সকল উপাদেয় পান ভোজন পাইয়া পরম পরিতৃপ্ত হইলেন। খাওয়া হইলে জমিলাবান নিজ রমাল দিয়া হরিণের মখ মছোইয়া দিয়া আবার আদর করিয়া তাহাঁর গায়ে হাত বলাইতে লাগিলেন। তাঁহার এই সেনহ-ব্যবহারে রাজকুমারের মনে অতি পরিতাপ উপস্থিত হইল। মনে করিলেন—“হায়, এই সন্দরী আমাকে সামান্য পশু বলিয়া জ্ঞান করিতেছেন। আমার যদি মনুষ্যদেহ থাকিত, যদি বাকশক্তি থাকিত, তবে আত্মপরিচয় দিয়া ইহার শরণাপন্ন - 'వ్సీ'