পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইতাম।” এই কথা ভাবিতে ভাবিতে তাঁহার চক্ষ দিয়া অবিরল ধারায় আশ্রমজল নিগত হইতে লাগিল। তাহা দেখিয়া জমিলাবান আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়া দাসীকে বলিলেন—“দেখ দেখ, হরিণ কাঁদিতেছে। পশ্য হইয়া এমন করিয়া কাঁদে কেন ? এরুপ ত কখনও দেখি নাই!” দাসী বলিল—“সবমিনি, বোধ করি এ কোনও মনুষ্য হইবে। কাহারও ইন্দ্ৰজাল প্রভাবে পশুদেহ প্রাপ্ত হইয়াছে।” যখন এই প্রকার কথোপকথন হইতেছিল, তখন হরিণ ধীরে ধীরে নিজ মস্তক জমিলাবানর পদতলে স্থাপন করিয়া, বাকুল দটিতে তাঁহার পানে চাহিয়া রহিল। এই সকল দেখিয়া শুনিয়া জমিলাবানর মনে প্রতীতি জন্মিল যে, দাসীর কথাই সত্য। বলিলেন—“দাই, তুমি যাহা বলিয়াছ তাহাই ঠিক। নিশ্চয়ই ইহা লতিফাবানর কাৰ্য্য। সেই এইরূপে মনুষ্যকে পশ করিয়া রাখে। তুমি যাও, ও ঘর হইতে মাজমের ডিবিয়া লইয়া আইস।" আজ্ঞানসারে দাসী ডিবিয়া লইয়া আসিল। জমিলাবান, তাহার কিয়দংশ লইয়া আদর করিয়া হরিণকে খাওয়াইয়া দিলেন। মাজম খাইয়াই হরিণ অচেতন হইয়া গেল। তখন জমিলাবান গদির নিমন হইতে এক ছড়ি বাহির করিয়া, তাহা মন্ত্রঃপত করিয়া ধীরে ধীরে হরিণের কন্ধদেশে আঘাত করিলেন । হরিণ তখন মাটিতে লােটাপটি করতে লাগিল এবং অবিলম্বে মন্যযামত্তি পরিগ্রহ করিল। মনুষ্যকৃতি প্রাপ্ত হইয়া প্রথমে রাজকুমার জান পাতিয়া ঈশ্বর সমীপে নিজ অন্তরের ধন্যবাদ প্রেরণ করিলেন । তাহার পর জমিলাবানর দিকে ফিরিয়া বলিলেন—“তে সচরিতে, তুমি আমার পনর্জীবন দান করিলে ! কি বলিয়া তোমার ধন্যবাদ দিব ? আমার প্রত্যেক কেশ তোমার দয়ার জন্য কৃতজ্ঞ।” তখন জমিলাবান রাজকুমারকে সনন করাইয়া রাজবস্ত্র পরাইয়া দিলেন। তৎকালে রাজকুমারের অলৌকিক রূপ এরাপ জ্যোতিময় হইয়া প্রকাশ পাইল যে জমিলাবান তখনি তাঁহার পদে দেহ মন সমপণ করিলেন । রাজকুমার ত হরিণাবস্থা হইতেই জমিলাবানর র:পদর্শনে হাদয় হারাইয়াছিলেন। জমিলাবান তাঁহাকে বলিলেন—“আপনি কে এবং কোথা হইতেই বা আসিয়াছেন ? আপনার প্রয়োজনই বা কি, সমস্ত প্রকাশ করিয়া বলন।” রাজকুমার তখন নিজ আমলে বক্তান্ত জমিলাবানর সম্মুখে বর্ণনা করিলেন । তাঁহার ইতিহাস শনিয়া জমিলাবান কহিলেন—“হে প্রিয়, বাকাফ নগরে যাইবার এক চতুর্থ মাত্র পথ তুমি অতিক্ৰম করিয়াছ। এখনও বারো আনা অংশ পথ বাকী আছে। ইহারই মধ্যে তুমি এত দুঃখ ক্লেশ পাইয়াছ, বাকী পথ অতিক্ৰম করিতে হইলে তুমি প্রাণে বাঁচবে না। সে পথ অতীব ভয়ানক অতএব তোমার পণ পরিত্যাগ কর । মিছামিছি প্রাণ খোয়ানো বন্ধিমানের কম নহে। আমার এই অনাথভবন নিজ সখেভবন মনে করিয়া এইখানেই জীবনকালের সুখ সমেভাগ কর। তোমায় মনষোমত্তিতে দেখিবামাত্র আমি তোমাকে দেহ মন সমপণ করিয়াছি। তোমার সখিকেই আমি নিজ সখি বলিয়া জ্ঞান করিব এবং সকল প্রকারে তোমার সন্তোষ সাধনে যত্নবতী থাকিব।” রাজকুমার কহিলেন—“প্রেয়াস, তোমার নিকট আমি জীবন পাইয়াছি, সতরাং এ জীবন তোমারই। অলপদিনের জন্য তোমার বিচ্ছেদ ক্লেশ সহ্য করিয়া, বাকাফ নগরে গিয়া, নিজ অভীষ্ট সিদ্ধ করিয়া ফিরিয়া অসি। তাহার পর তোমায় মুসলমান ধর্মানসারে বিবাহ করিয়া, চিরদিন হাদয়ে বধিয়া রাখিব।” জমিলাবান, যখন দেখিলেন যে, রাজকুমার কোন মতেই বাকাফ যাত্রা হইতে নিবত্ত হইবেন না, তখন দাসীকে আজ্ঞা করিলেন—“হজরৎ ইসাক পয়গম্বরের ধনবাণ, তৈমসী ঢাল এবং আকবর সালেমানী তরবারি লইয়া আইস।” দাসী । উক্ত তিন অস্ত্ৰ আনিলে পর জমিলাবান রাজকুমারকে কহিলেন—“এই তিনটি অস্ত্ৰ তুমি ২৪ •