পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সঙ্গে লইয়া যাও। এ তিন অস্ত্র অত্যন্ত দলভ সামগ্রী। এই আকবর সালেমানা তবরারির গণ এই যে, যদি পর্বতগাত্রেও ইহা আঘাত করা যায়, তবে সাবান যেমনি তারের ধারে সহজে কাটিয়া যায়, এ পৰ্ব্বতও সেইরূপ কাটিয়া যাইবে। আর এই তৈমসী ঢালের গণ এই যে, ইহা যাহার নিকট থাকিবে, শত যোদ্ধাও যুগপৎ তাহাকে আক্ৰমণ করিলে বিপদাশঙ্কা নাই। আর এই পয়গম্বর ইসাকের ধনবোণেরও গণ অদভুত। এই ধনর শরসন্ধান অব্যথা, যে যত বড়ই বলবান হউক, এই শরের আঘাতে তাহার নিশ্চিৎ মৃত্যু। এই তিনটি অমল্য বস্তু সাবধানে রক্ষা করিবে। আর এক কথা। এই পথে অগ্রসর হইলে সী-মোরগের বিনা সাহায্যে পথ অতিক্ৰম করিতে পরিবে না। কারণ, বাকাফ পথে সাতটি বৃহৎ বহৎ নদী আছে। সে নদী সমুদ্র অপেক্ষাও ভয়ানক, পার হওয়া মনুষ্যজাতির পক্ষে একান্ত অসম্ভব।” রাজকুমার জিজ্ঞাসা করিলেন—“প্রিয় সখি, সী-মোরগ কোথায় আছে ? এবং কি করিয়াই বা আমি সে পথানে পেপছিব ?” জমিলাবান কহিলেন—“এখান হইতে একদিনের পথের পর একটি গৃহ আছে। সে স্থানের নাম সফহাপথী। সেখানে একটি কুণ্ড দেখিতে পাইবে। তুমি সেখানে রাত্রে রিশ্রাম করিও । রাত্রে অনেক পশু সেখানে আসিবে, তাহার মধ্যে দুই চারিটা পশম বধ করিয়া আপনার কাছে রাখিয়া দিও। রাত্রি গভীর হইলে আশী হাত লম্বা একটি ব্যাঘ্ৰ আসিবে। সেই ব্যাঘ্র বনের রাজা। তাহার সহিত আরও অন্যান্য ব্যাঘ্রও আসিবে। ব্যাঘ্ররাজকে দেখিবামাত্র তাহর সম্মুখে গিয়া তাহাকে সেলাম করিও এবং রুমাল দিয়া তাহার সমস্ত শরীর সাবধানে মছিয়া দিও। তাহার পর বধ করা পশম মাংস তাহাকে খাইতে দিও। তাহা হইলে ব্যাঘ্ররাজ তোমার উপর সন্তুট হইবে এবং অপর কোনও পশ তোমার কোনও অনিষ্ট করিতে পারবে না। এই প্রকারে সারা পথ ব্যাঘ্ররাজের সেবা করিও। তাহার পর দই তিন দিনের পথ যাইলে সম্মুখে দুইটি রাস্তা দেখিতে পাইবে। সাবধান, দক্ষিণ দিকের পথে যাইও না। বামদিকের পথ ধরিও । সেই পথে যাইতে যাইতে ক্ৰমে হাবসীদিগের এক দাগ দেখিতে পাইরে। সেই নগরের নাম খমাশা। সেই স্থানে চল্লিশজন মহাবীর হাবসী সেনাপতি আছে। প্রত্যেকের অধীনে পাঁচ পাঁচ সহস্ৰ করিয়া হাবসী সৈন্য। তাহদের বাদশাহের নাম তুমতীক। যদিও তুমতাক অতি প্রতাপশালী তথাপি এই তরবারি প্রভৃতির প্রভাবে সে তোমার বশ্যতা সবীকার করবে। দই একদিন সেখানে থাকিয়া অগ্রসর হইও। ক্ৰমে সী-মোরগের গহে পেপছিবে। এই তরবারির প্রভাবে সেও তোমার বশ্যতা স্বীকার করিবে ও তোমার যথেষ্ট সহায়তা করিবে। তাহারই সাহায্যে তুমি নদী পার হইয়া বাকাফ দেশে পেপছিতে পারবে। সাবধান, আমি যাহা বলিলাম, ঠিক ঠিক সেই মত করবে, কোনওরূপ অন্যথা না হয়।” এই বলিয়া জমিলাবান নিজ অথবশালা হইতে পবনসদৃশ বেগবান এক অশব বাজকুমারকে আনাইয়া দিলেন। রাজকুমার তখন সতিজত হইয়া যাত্রা করিলেন। জমিলাবান তাঁহার বিরহক্লেশ সহ্য করিতে না পারিয়া অনেক দর অবধি তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে গেলেন। পরে সাশ্র-নয়নে বিদায় গ্রহণ করিয়া আপনার শান্য গহে ফিরিয়া আসিলেন। এদিকে রাজকুমার সমস্ত দিবস চলিয়া সফহাপথিৰ নামক স্থানে উপনীত হইলেন। সেখানে দইটা মাগ" দেখা গেল। তখন জমিলাবানর কথা সমরণ করিয়া, রাত্রির জন্য সেইখানেই বিশ্রামের আয়োজন করিলেন। অলপ রাত্রি হইলে বহুসংখ্যক পশু সেখানে চরিতে আসিল। বাদশাজাদা তাহাদের মধ্যে কয়েকটিকে বধ করিয়া আপনার পাশের রাখিয়া দিলেন। যখন অন্ধ্যরাত্রি সমাগত হইল, তখন সেই বন হইতে সমস্ত পশু চলিয়া গেল। ব্রুমে আশী হাত ল’বা ব্যাঘ্ৰ রাজ আসিয়া দিল। মনুষ্যচক্ষ কখনও সেরপ ব্যাঘ্র অবলোকন করে নাই। 8 ९ 8 )