পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাদশাজাদা সাহসপবেক ব্যায়ের নিকটে গিয়া তাহাকে সেলাম করিলেন এবং বান প্রদত্ত রমাল দিয়া ব্যান্ত্রের সমস্ত শরীর হইতে বনের ধলা ঝাড়িয়া দিলেন। পরে শিকারের পশ তাহাকে ভক্ষণ করিতে দিলেন। ব্যাঘ্র পরম আনন্দে সেই মাংস ভক্ষণ করিতে লাগিল। রাজকুমার হাত যোড় করিয়া ব্যায়ের সমখে দাঁড়াইয়া রহিলেন। আহার শেষ হইলে রাজকুমার সেই রমাল দিয়া ব্যান্ত্রের মখ ভাল করিয়া মছিয়া দিলেন। অন্যান্য ব্যাঘ্রগণ পরিত্যক্ত মাংস ভোজন করিতে লাগিল। আহারান্তে ব্যাঘ্ররাজ পরম আপ্যায়িত হইয়া রাজকুমারের কোলে মাথা দিয়া শয়ন করিল। বলিল—“তুমি নিভয়ে এখানে থাক। কোনও জন্তু তোমার হিংসা না করে. আমি এমন হুকুম দিতেছি। সমস্ত পথ আমার ব্যান্ত্রেরা তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবে।” কিয়ৎক্ষণ বিশ্রাম করিয়া ব্যাঘ্ররাজ প্রস্থান করিল। রাজপত্রকে রক্ষা করিবার জন্য একটি ব্যাঘ্রকে রাখিয়া গেল। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ পরদিন প্রভাত হইবামার বাদশাজাদা অপব ধাবিত করিলেন। কিছু দরে গিয়া দেখিলেন যে, সমুখে দুইটি পথ ভাবিলেন, বামদিকের পথে বিস্তর বিপদ, দক্ষিণদিকের পথেই যাই। ঈশ্বরের নাম স্মরণপবেক তাহাই করিলেন। দই তিন দিন সেই পথে যাইয়া সম্মখে এক প্রকাণ্ড দাগ দেখিতে পাইলেন। সেই দগের প্রত্যেক বরজে তোপ সজিত রহিয়াছে। দগাবারে বহবিধ যন্ধাসে সজিত হইয়া হাবসী সৈন্যগণ পাহারা দিতেছে। রাজকুমার ধীরে ধীরে সেই দগের দ্বারদেশের নিকট আসিয়া, অশব হইতে অবতরণ করিয়া, জিনপোষ বিছাইয়া রাত্রির জন্য বিশ্রামের বন্দোবস্ত করিলেন । এমন সময় কয়েকজন হাবসী আসিয়া রাজকুমারকে দেখিয়া আনন্দে নত্য করিতে লাগিল। বলিতে লাগিল—“ভাই সকল আজ বড় শুভদিন । একজন মনুষ্য আসিয়াছে। অামাদের বাদশাহ তুমিতাক মনষ্যের মাংস বড়ই ভালবাসেন। ইহাকে ধরিয়া তাঁহার কাছে লইয়া গেলে আমাদের সকলের ভাল বখশিস মিলিবে ।” রাজকুমার ধীরে ধীরে সুলেমান তরবারি বহির করিয়া, এক আঘাতে হাবসীগণকে বমালয়ে প্রেরণ করিলেন। দগেদবার হইতে সৈন্যগণ এই ব্যাপার দেখিয়া কয়েকজন সশস্ত্র হাসবীকে পাঠাইয়া দিল। সালেমান তরবারির প্রভাবে রাজকুমার তাহাদিগকেও মহত্তের মধ্যে ধংস করিয়া ফেলিলেন। এইরপে ক্ৰমে ক্ৰমে বহল হাবসী আসিল এবং রাজকুমারের হস্তে মৃত্যুমুখে পতিত হইল । তুম্মমতাক বাদশাহ এই সংবাদ শ্রবণ করিয়া আগমনের মত জুলিয়া উঠিলেন। নিজ প্রধান সেনাপতি চলমাক নামক মহযোদ্ধাকে ডাকিয়া সসৈন্যে যন্ধযাত্রা করিতে আদেশ দিলেন। চলমাক সহস্ৰ সহস্র হাবসী সৈন্য সঙ্গে লইয়া বাহির হইলেন। রাজকুমারের নিকটে আসিয়া কহিলেন—“ওরে নিবন্ধি, তুই গোটকতক হাবসী সৈন্য মারিয়াই কি নিজেকে মহাবীর বলিয়া মনে করিতেছিস ; তোর শক্তি কতখানি এবার আমি দেখিব।” রাজকুমার এই দৰবচন শুনিয়া ক্ৰোধে সালেমান তরবারি বাহির করিয়া হাবসীগণের মস্তক ছেদন করিতে আরম্ভ করলেন। তাহা দেখিয়া ক্ৰোধে চলমাক এক বশী ঘরাইস্না রাজকুমারকে লক্ষ্য করিলেন, এবং সঙ্গে সঙ্গে রাজকুমারকে ধরিবার জন্য ধাবিত হইলেন। রাজকুমার সালেমানী তরবার দ্বারায় চলমাককে এমন আঘাত করিলেন যে, তৎক্ষণাৎ তাহার প্রাণবায় বাঁহগত হইল। সেনাপতি নিহত দেখিয়া হাবসী সৈন্যগণ উদ্ধশবাসে পলায়ন করিল। . এই সমাচার তুমতাকের নিকট পেপছিবামার ক্ৰোধে ও অপমানে তিনি অগ্নিসমান হইয়া উঠিলেন। আজ্ঞা দিলে, “সৈন্যগণ সজিত হও, আমি স্বয়ং এবার যন্ধযাত্রা

  • - --- ९8२ । । -