পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিব।” পরদিন প্রভাতে, প্রলয়ের মেঘপুঞ্জ সদশ, অগণ্য হাবসী সৈন্য সঙ্গে লইয়া, স্বয়ং তুমিতাক যন্ধক্ষেত্রে অবতীণ হইলেন। কিছুক্ষণ যন্ধের পর, রাজকুমার সহস্ৰাধিক হাবসী সৈন্য বধ করিলেন বটে, কিন্তু অত্যধিক পরিশ্রমে তাঁহার দেহ দলবল হইয়া পড়িল। হাবিলেন, এবার বঝি রণে পরাজয় মানিতে হয়। একো অত লোকের সঙ্গে কতক্ষণ যন্ধ করবেন? এমত সময়ে দেখা গেল, ব্যাঘ্ররাজ দুই সহস্র ব্যাঘ্র সৈন্য লইয়া, বজ্ৰগম্ভীর সবরে হুহুঙ্কার করিতে করতে, রাজকুমারের সাহায্যাথ ফন্ধক্ষেত্রে আসিয়া অবতীণ হইলেন। ব্যাঘ্রগণ হাবসী সৈন্যকে ধরিয়া সদ্য সদ্য ভক্ষণ করিতে লাগিল । ইহা দেখিয়া রাজকুমারের সাহস ও বলবন্ধি হইল । তিনি দ্বিগণ উৎসাহের সহিত পয়গম্বর ইসাকের ধন্যবাণের সাহায্যে সহস্ৰ সহস্ৰ হাবসী সৈন্য নিপাত করিতে লাগিলেন। তুমতাক ইহা দেখিয়া ভাবিলেন—“নিশ্চয়ই এ মনষে নহে-কেনিও দৈত্য বা দানব হইবে। মনুষ্য হইলে কি একাকী এত হাবসীকে বধ করিতে পরিত ? আর ব্যাঘ্ররাজই বা আসিয়া সাহায্য করে কেন ? অতএব যুদ্ধে আর মঙ্গল নাই। পলায়ন করিয়া দাগমধ্যে আশ্রয় লই।” এই চিন্তা করিয়া তুমিতাক সেনাগণকে পলায়ন করিতে আদেশ দিলেন। তাঁহার কথা শেষ হইতে না হইতেই পয়গম্বর ইসাক প্রদত্ত একশর আসিয়া তাহার মস্তকে বিদ্ধ হইল এবং তিনি ভূমিতলে পতিত হইয়া প্রাণত্যাগ করলেন। এইরপে হাবসীগণকে জয় করিয়া ব্যাঘ্ররাজের সহিত রাজকুমার দগমধ্যে প্রবেশ করিলেন। বিজেতাকে রাজা জানিয়া হাবসীগণ তাঁহাকে সিংহাসনে সমপণ করিল। নানাবিধ খাদ্যদ্রব্য ও সারা আনিয়া তাঁহার সম্মখে উপস্থিত করিল। তিনি ব্যাঘ্ররাজের সহিত সে সমস্ত পানাহার করিয়া, বিশ্রামসুখে সেই দগে দই তিন দিন কটাইলেন । তুমতীকের একটি মাত্র কন্যা ছিল। তিনি তাহাকে আনাইয়া, মহম্মদী কলমা শিখাইয়া, তাহাকে পবিত্র মসলমান ধমে দীক্ষিত করিলেন। সে কন্যা অতীব সুন্দরী। বলিলেন —“কুমারি, তুমি এখন তোমার পিতার স্থলাভিষিক্ত হইয়া রাজ্য প্রতিপালন কর।” এই বলিয়া তুমতাক কন্যাকে সিংহাসনে বসাইয়া, ব্যাঘ্ররাজকে অনুরোধ করিয়া এক ফৌজ ব্যাঘ্র সৈন্য তাহার রক্ষার্থ রাখিয়া, রাজকুমার বাকাফ অভিমুখে যাত্রা করিলেন। সপ্তম পরিচ্ছেদ হাবসী রাজ্য পরিত্যাগ করবার পর দই তিন মাস অতীত হইলে বাদশাজাদা অলমাশ এক প্রকাণ্ড উপবনে আসিয়া পেশছিলেন। তথায় বিবিধ বর্ণের পাপসকল প্রস্ফটিত হইয়া রহিয়াছে। চামেলি, চম্পা, গোলাপ প্রভৃতি ফলকুল মনোন্মাদকর সগন্ধি বিতরণ করিতেছে। উপবনের প্রান্তদেশে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন একটি লতাবক্ষেপণ উচ্চ পব্বত। নিনে বড় বড় বনস্পতিসকল দণ্ডায়মান। একটি সশীতল বারিপণ কুণ্ডও রহিয়াছে। পৰবত হইতে জল নামিয়া সেই কুডে প্রবেশ করিতেছে এবং অপর এক পথান দিয়া বাহির হইয়া যাইতেছে। বাদশাজাদা সেই কুণ্ড দেখিলেন, এই বোধ হয় জমিলাবান কাঁখুত সী-মোরগের আবাস পান। এই সিদ্ধান্ত করিয়া, অশব হইতে অবতরণ করিয়া সেই পথানে বিশ্রামের আয়োজন করিলেন। চারবার জন্য অশবকে ছাড়িয়া দিলেন। কুণ্ডে নামিয়া, হস্তপদাদি ধৌত করিয়া, প্রথমে' নামাজ পড়িলেন। অবশেষে পেটিকা হইতে খাদ্য বাহির করিয়া, কিছু ভোজন করিয়া জিনপোষ পাতিয়া ব্যক্ষতলে শয়ন করিলেন। কিঞ্চিৎ নিদ্রাবেশ হইয়াছে, এমন সময় তাঁহার অশব মহাভয়ে শব্দ করিতে করিতে তাঁহার বিছানার কাছে আসিয়া দণ্ডায়মান হইল। রাজকুমার জাগিয়া উঠিয়া, ইতস্ততঃ দৃষ্টিপাত করিতেই দেখিতে পাইলেন, এক বৃহৎ অজগর সপ ফণা বিস্তার করিয়া 丁丁 &8○