পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইহাতে রায় মহাশয় এমন ভাবটা প্রকাশ করিলেন, যেন তিনিও অত্যন্ত দঃখিত। তিনি আর শ্যামাচরণ যেন উভয়েই এক অত্যাচারী রাজার শাসনাধীনে পীড়িত—তাই সমবেদনা অনুভব করিতেছেন। অপর সকলে মনে মনে ভাবিল, ছি এমন সত্ৰীবশ ! যাহা হউক, নিরাশার পাথর বকে বধিয়া সেই রাত্রেই শ্যামাচরণ গহে ফিরিলেন। তৃতীয় পরিচ্ছেদ ॥ বিবাহ বাড়ীতে একটা অাশা আনন্দের যে কোলাহল উঠিয়াছিল, শ্যামাচরণ ফিরির মাত্র তাহা থামিয়া গেল। বাড়ীসদ্ধ লোকের মুখ শুকাইয়া গেল। গহিণীর কান্না পাইতে লাগিল। আর শৈলবালা অত্যন্ত গোপনে বাসতবিকই ফুপিয়া ফাঁপিয়া কাঁদিল ।—শধ্যে কি মা বাপের দুঃখ দেখিয়া কাঁদিল, না আরও কিছর কারণ ছিল —আমার ত বিশ্বাস ছিল । কিন্তু সে পণ করিয়া বসিল না—যাহাকে মনপ্রাণ সমপণ করিয়াছি সে ছাড়, আর কাহাকেও আত্মদান করিব না;—আমি চিরকুমারী থাকিব। সে অতশত জানিত না। তাহার বকে যে কিসের বেদনা আসিয়া বাজিল, তাহা সে ভাল বুঝিতেই পারিল না । গহিণী বললেন—“এখন উপায় ?” শ্যামাচরণ দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন--"আমি আর কি উপায় করিব। ঈশবর কি উপায় করেন দেখি। আমি ত হাল ছাড়িয়া দিয়াছি।” কিন্তু হাল ছাড়িয়া দিয়া বেশী দিন থাকিতে পারলেন না। পাত্রের সন্ধানে বাহির হইতে হইল। হাজার বারো শত টাকায় হয় এমন একটি পাত্র। পাi-টাস হোক তার নাই হোক,-দইটা খাইতে পারতে দিতে পারে। আর নিতান্ত মুখ গোয়ার, মাতাল, দশচরিত্র না হয়। অনেক সন্ধান করিতে হইল। অধিক আর কি বণনা করিব-এ ভোগ কাহাকে না ভুগিতে হইয়াছে ? কয়েকটা স্থানে ত এই হইল—এই হইল—-সব ঠিকঠাক—আর হইল না। সেই বৈশাখ মাস হইতে আরম্ভ করিয়া পজা পৰ্যন্ত এই ভালে কাটিল। পাজার সময় একথানে সিথর হইল। হাজার টাকা দিতে হইবে। পারটি । উকীল, কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষের। তাই বলিয়া বয়স অধিক নয়—এই ত্ৰিশের মধ্যে। মেয়েটি বয়স্থা ও সন্দরী, বি-এ, বি-এল"-এর পিতা তাই হাজার টাকাতেই স্বীকৃত হইয়াছেন। স্বীকৃত হইবার জুরিও একটা বিশেষ গোপনীয় কারণ ছিল। পাঁচ বৎসর ছেলের sরবিয়োগ হইয়াছ, এই পাঁচ বৎসর বিস্তর সাধ্য সাধনাতেও ছেলেক বিবাহে সন্মত করতে পারেন নাই। এবার কোন শুভগ্রহবশে ছেলে রাজি হইয়ছে । সুতরাং টীকা ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য না করিয়া কাযর্ণটা শীঘ্র সম্পন্ন করিয়া ফেলা আবশ্যক হইয়াছিল । কারণ কি জানি, যদি বিলম্বে মতি ফিরিয়া যায়। ১৭ই আগ্রহায়ণ বিবাহের দিন স্থির হইয়াছে। শ্যামাচরণ গহনাগুলি একে একে বিক্রয় করিয়া সমস্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন। কিন্তু বিবাহের মাসখানেক পর্বে একটি ভারি দর্ঘটনা ঘটিল। রামাঘরের সমখেই বারান্দায় শৈল বসিয়া ছিল। একটি জল খাবার ছোট ঘটির ভিতর বামহস্তের মাঝের আংগলটি দিয়া, ঘটিটি ঘরাইতে ঘরাইতে, রান্নাঘরের ভিতর সালোচনার সঙ্গে গল্প করিতেছিল। এমন সময় উপর হইতে চণে সরকার একটা চাঙড় খসিয়া সেই হতের উপর পাঁড়ল । ঘটির কনাটা ভাঙ্গিয় গেল, আশুগলেও আধখানা সেই সঙ্গে কাটিয়া গেল । BBB BBB B BBBB BB BBBS BBBB BBBB BBBB BBBB BBBBS ব্যর শাণিত অস্ত্রে কাটিয়া, ঔষধাদি প্রয়োগ করিয়া গিয়াছিল। চারি পাঁচ দিনে জরে ছাড়িল; কিন্তু অঙ্গল ভাল হইতে পনেরো কুড়ি দিন লাগিয়া গেল। - একে মেয়ের বিবাহ হয় না, তাহার উপর আবার আংগল কাটিয়া গেল! খুব সাবধান, যেন প্রকাশ হইয়া সম্বন্ধ ভাঙ্গিয়া না যায়। ૨ જે