পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরদিন মাদকতা অপসত হইলে ফররুখপাল বলিল-“বন্ধ, গতকল্য হঠাৎ ক্ৰোধ হওয়ায় তোমার সহিত অন্যায় ব্যবহার করিয়াছি। আসল কথা এই যে তোমার প্রশেনর উত্তর আমি কিছুই অবগত নহি। তবে এই পৰ্যন্ত জামি যে, সনোবর আমাদের বাদশাহের নাম এবং গলে তাঁহার বেগমের নাম। বাদশাহ এই আজ্ঞা প্রচার করিয়া দিয়াছেন যে, যদি কোনও বিদেশী আসিয়া গলের নাম এবং আমার দশার কথা জিজ্ঞাসা করে, আমার প্রজার তৎক্ষণাৎ তাহার শিরশেছদন করিবে। তুমি যদি এ প্রশেনর উত্তর জানিতে চাহ, তবে আমার পরামর্শ, বাদশাহের নিকট চাকরি গ্রহণ কর, ক্ৰমে সুযোগ মত প্রশেনর উত্তর অনুসন্ধান করিও।” রাজকুমার বলিলেন-–“ভাই, বাদশাহের নিকট কেমন করিয়া চাকরিতে ভত্তি হইব ?” ফরািখপাল বললেন—“আমি সে বন্দোবসত করিয়া দিতে পারি। রাজবাড়ীতে আমার কিঞ্চিৎ আধিপত্য আছে ” পরদিন বাদশাহের নিকট রাজকুমারকে লইয়া গিয়া ফরািখপাল বলিল—“জাঁহাপনা, এই এক ব্যক্তি আপনার গণগ্রাম ও দয়াশীলতা শ্রবণ করিয়া, আপনার খেজমৎ করিবার অভিলাষী হইয়া অনেক দর হইতে আগমন করিয়াছে।” সনোবর শাহ রাজকুমারের রপ কান্তি দেখিয়া প্রীত হইয়া তাঁহাকে চাকরিতে বাহাল করিয়া লইলেন। কুমে তাঁহার উপর অধিকতর প্রীত হইয়া তাঁহাকে নিজ সভাসদ করিয়া মিত্রসস্থানীয় করিলেন। এইরুপে কিছুদিন যায়। রাজকুমারের প্রতি বাদশাহের মিত্রতা ক্ৰমে প্রগাঢ় হইতে লাগিল। একদিন সভামধ্যে তিনি রাজকুমারকে জিজ্ঞাসা করিলেন—“বন্ধ, তোমার, ব্যবহারে আমি অত্যন্ত প্রীত হইয়ছি। যদি তোমার কোনও মনস্কামনা থাকে নিবেদন কর, আমি তাহা পণ করিব।” একথা শুনিয়া রাজকুমার বলিলেন—“প্রভু, যদি নিজন পাইতাম তবে মনস্কামনা নিবেদন করিতাম।” ইহা শনিবামাত্র বাদশাহ সভাভঙ্গ করিয়া রাজকুমারকে লইয়া বিশ্রাম কক্ষে প্রবেশ করিলেন। বসিয়া বললেন—“কি তোমার মনস্কামনা ?” রাজকুমার বলিলেন—“যদি প্রাণদান দেন ত বলি।” বাদশাহ বলিলেন—“আচ্ছা, প্রাণদান দিতে স্বীকৃত হইলাম।” রাজকুমার তখন বলিলেন—“গল বা সনোবর, চে কন্দ ?” ইহা শনিবামার বাদশাহ ক্ৰোধে কপিত হইতে লাগিলেন। বললেন—“রে দািবত্ত নরাধম, কি বলিব তোকে প্রাণদান দিয়াছি, নচেৎ এই মহত্তেই তোর মণ্ডে দেহ হইতে বিচ্যুত করিতাম।” রাজকুমার কাঁহলেন—“প্রভু, আমাকে শধ্যে প্রাণদান দিবার প্রতিজ্ঞা করেন নাই। আমার বাসনা পণ করবেন বলিয়াও প্রতিশ্রত আছেন। এখন দনিয়ার বাদশাহ যদি কথা ঠিক না রাখেন, তবে সংসারে কে আর কাহাকে বিশ্বাস করবে ?” একথা শুনিয়া বাদশাহ মৌন হইয়া রহিলেন। আরও কিছ দিবস অতীত হইল। একদিন বাদশাহ পানোৎসবে রত হইলেন। রাজকুমারও সঙ্গে ছিলেন। যখন বাদশাহ পান করিয়া মত্ততার অবস্থায় উপনীত হইলেন, তখন রাজপত্র একটি বীণা লইয়া তাহার ঝঙ্কারসহ কণ্ঠ মিলাইয়া অপব্ব সঙ্গীত আরম্ভ করলেন। সেই বীণাবাদন ও গীত শনিয়া বাদশাহ অত্যন্ত মোহিত হইয়া গেলেন এবং রাজকুমারকে বললেন—“অদ্য তুমি আমায় যে গীত শনাইলে, তাহাতে আমি অত্যন্ত প্রীত হইয়াছি। তুমি কি বখশিস, চাও বল, আমি তাহাই দিব।” রাজকুমার তখন বললেন—“হে নপতিশ্রেষ্ঠ, আমার সেই প্রশ্নটি ছাড়া আর কিছ অভিলষিত নাই।” বাদশাহ তখন মত্ততার অবস্থায় বললেন—“যদি স্বীকার কর যে, সে ২৪৬ - - - - - --