পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রশেনর উত্তর শুনিলে পর, তোমার মাথা আমি কাটিয়া লইব, তবে বলিতে পারি।” রাজকুমার সাবধানতা অবলম্বন করিয়া বলিলেন—“প্রভু যদি আমার কৌতুহল সম্পণেভাবে চরিতাথ করিতে পারেন, কোনও বিষয়ে কটি না থাকে, তবে মাথা দিতে আমার আপত্তি নাই।” বাদশাহ তখন বলিলেন—“আচ্ছা, তবে অন্তঃপরে চল । সেখানে সমসত বৃত্তান্ত তোমাকে বলিয়া, তোমার মাথাটি কাটিয়া লইব।” এই বলিয়া রাজকুমারকে লইয়া বাদশাহ অতঃপরে প্রবেশ করিলেন। বাদশাহ হুকুম দিলেন—“কুকুরকে লইয়া আইস " কয়েকজন ভূত্য তখন একটি কুক্করকে আনিল। তাহার রত্নজড়িত গলাবন্ধ, সোনার শিকলে কুকুর বাঁধা ছিল। ভূতগণ তাহাকে আনিয়া একটি মখমলের গদীতে বসাইয়া দিল। কয়েকজন বাদী তখন একটি পরমা সন্দেরী সন্ত্রীলোককে আনিল। তাহার হাতে হাতকড়ি, পায়ে বেড়ি। কোমরে লোহার শিকল। একটি থালায় একজন হাবসীর কাটামণ্ড রাখা হইয়াছে। কয়েকটি পাত্র পণ করিয়া নানাবিধ সরস খাদ্য এবং একটি পেয়ালায় গোলাপের সরবৎ আনিয়া কুকুরের সম্মখে রাখিয়া দেওয়া হইল। কুকুর যাহা ইচ্ছা তাহা খাইল। তখন সেই উচ্ছিদটি সেই সীলোকটির সম্মখে রাখা হইল। সন্ত্রীলোকও ক্ষুধার যাতনায় সেই উচ্ছিনষ্ট কিয়দংশ ভক্ষণ করিল। তখন বাদশাহ উঠিয়া, একটি লাঠি লইয়া, সেই কাটামণ্ডের উপর সজোরে এক আঘাত করিলেন। আঘাতের চোটে সেই মণ্ড হইতে কয়েক বিন্দ রক্ত বহির হইল। রক্ষিগণ বলপবেক সেই রক্ত সীলোকটিকে চাটাইয়া দিল। অতঃপর কুকুর, কাটামণ্ড ও সেই স্ত্রীলোককে সেখান হইতে লইয়া যাওয়া হইল। রাজকুমার এসমসত ব্যাপার অতি আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়া দেখিতেছিলেন। উহারা চলিয়া গেলে জিজ্ঞাসা করিলেন—“শাহানশাহ-এ কি দেখিলাম ? জীবশ্রেষ্ঠ যে মানুষ্য, তাহাকে কেন কুক্করের উচ্ছিন্ট খাইতে বাধ্য করলেন ?” বাদশাহ বলিলেন—“যবেক, যে সত্ৰীলোক দেখিলে, উহারই নাম গলে। আমারই নাম সনোবর। আমাদের কাহিনী অতি হৃদয়বিদারক। তুমি কি না শুনিয়া নিবত্ত হইবে না ?” রাজকুমার উত্তর করলেন—“না প্রভু, না শুনিলে আমার মন শান্ত হইবে না।” তখন বাদশাহ নিজ কাহিনী বলিতে লাগিলেন। নবম পরিচ্ছেদ হে যবেক, আমি একদিন শিকার করিতে গিয়াছিলাম। একাকী এক বনের মধ্যে প্রবেশ করিয়া অনেকক্ষণ শিকার করিয়া, ক্ষুধায় ও তৃষ্ণায় অস্থির হইয়া পড়িলাম। জল অন্বেষণ করিতে করিতে গভীর জঙ্গল মধ্যে এক কাপ দেখিতে পাইলাম। কোথায় ডোল কোথায় দড়ি পাইব ? ইজারাবন্দকে দাঁড় করিয়া, টপীতে বধিয়া জল তুলিবার জন্য চেষ্টা করিলাম। আশ্চয্যের বিষয় এই যে কপের মধ্যে গিয়া টপী আটকাইয়া গেল। টানাটানি করি তথাপি উঠে না। তখন মনে করিলাম, কপের মধ্যে কোনও ভূতযোনি আছে, সেই টপী আটকাইয়াছে। তখন চীৎকার করিয়া বললাম—“এ কপের মধ্যে কোন মহাত্মন আছে ? আমি তৃষ্ণাতুর পথিক, টপী ছাড়িয়া দাও।” তখন কাপের মধ্য হইতে শব্দ হইল—“হে ঈশ্বরভক্ত, আমরা বঁহ বৰ্ষ হইতে এই কপের মধ্যে পড়িয়া আছি। আমাদের উত্তোলন করিয়া প্রাণদান কর।” অন্ধ স্মীলোক। উহাদের শরীর শুকাইয়া ধনকের মত হইয়া গিয়াছে। হাত পা শকাইয়া কাঠির মত হইয়া গিয়াছে। চক্ষ বসিয়া গিয়াছে। দাঁত সমস্ত পড়িয়া গিয়াছে। তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করলাম—“তোমরা এ বসুপে কেমন করিয়া পড়িয়াছিলে ?” স্মীলোকগণ কহিল—“হে পথিক, এদেশের বাদশাহ রাগ করিয়া আমাদিগকে অন্ধ - :8ፃ