পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিয়া এই কপে নিক্ষেপ করিয়াছিল। এক ঔষধ বলিতেছি, তাহা আনিয়া আমাদের সুড় র ল ব শ স ষ এবং তোমার পরমা উপকার রব ।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম—“কি ঔষধ ?” তাহারা বলিল—“এখান হইতে অলপ দুরে এক নদী আছে। তাহার তীরে নদী হইতে উঠিয়া একটি গর চরিতে আসে। গর আসিলে তুমি লকাইয়া থাকিও, কারণ তোমার দেখিলে মারিয়া ফেলিবে। সেই গর চরিয়া গেলে তাহার গোবর কিঞ্চিৎ আনিয়া আমাদের চুক্ষে প্রলেপ দাও । ” তাহা শনিয়া আমি নদীতীরে গিয়া এক উচ্চ বক্ষে আরোহণ করিয়া লুকাইয়া রহিলাম। কিছুক্ষণ পরে জল হইতে এক প্রকাণ্ড গর বাহির হইয়া আসিল। তাহার গাত্র রপোর মত শত্র। তাহার শঙ্গ শাণিত ইস্পাতের ন্যায় চাকচিক্যশালী, গর কিয়ৎক্ষণ চরিয়া আবার জলমধ্যে প্রবেশ করিল। আমি তখন নামিয়া কিঞ্চিৎ গোবর উঠাইয়া লইলাম। কপের নিকট আসিয়া সেই বাদ্ধাদের চক্ষে অলপ গোবর প্রলেপ দিবামাত্র তাহারা দটিশক্তি ফিরিয়া পাইল এবং আমাকে বিস্তর আশীব্বাদ করিতে লাগিল। তখন বন্ধাগণ কাঁহল—“হে বিদেশি, ইহা পরীদিগের রাজ্য। এখানকার বাদশাহের এক পরম রুপবতী কন্যা আছে। তাহার মথে চন্দ্রের অপেক্ষাও দটিসুখকর। তাহার চক্ষ দেখিলে দগধ হৃদয় শীতল হয়। তাহার ওষ্ঠ কুন্দের মত লাল, তাহার একটি চমবনে সহস্ৰ দুঃখের শান্তি হয়। তাহার পিতামাতা তাহাকে অত্যন্ত আদর করেন সেই জন্য অদ্যাবধি বিবাহ দেন নাই, আমি তোমাকে সেই কন্যার নিকট লইয়া যাইব। সমস্তদিন সে কন্যা একাকী থাকে। তুমি পরমানন্দে তাহার সহিত মিলনসখে অতিবাহিত করিতে পরিবে। ঈশ্বর না করন, তাহার পিতামাতা যদি তোমাদের মিলনবাত্তা অবগত হয়, তবে তোমাকে জলন্ত অগ্নির মধ্যে নিক্ষেপ করবে। তুমি তাহাতে কিছমাত্র ভীত হইও না। অগ্নিকুণ্ডের নিকট যখন ভূত্যেরা তোমাকে লইয়া যাইবে তখন বলিও— “আমাকে একটা তেল মাখিতে দাও যাহাতে সহজেই পড়িয়া মরিতে পারি।” তাহারা সন্মত হইবে। তখন তুমি ফ্রকারিয়া বলিও—“কেহ আমাকে একটা তেল মাখাইয়া দিতে পার ? আমরা তখন আসিয়া তোমার আগে এমন তেল লেপন করিব যে, অগ্নি তোমার পক্ষে সশীতল অনভূত হইবে।” এই কথা শুনিয়া, সেই পরীকন্যার সহিত মিলিত হইবার জন্য আমি অধীর হইয়া উঠিলাম। তাহারা আমাকে লইয়া পরীর বাদশাহের মহলে লইয়া গেল। সেখানে সেই কন্যা ছাড়া আর কেহই ছিল না। সকলেই দরে বনে চরিতে গিয়াছিল। সেই পরীকন্যাকে দেখিবামাত্র আমি প্রণয়তুষ্ণায় পীড়িত হইতে লাগিলাম। সে একটি রত্নপালঙ্গেক নিদ্রিত ছিল। সেই পালঙ্কে মখমলের বালিস ছিল, রেশমের মশারি লাগানো ছিল। মশারি এত সক্ষম সন্তায় নিৰ্ম্মিত ছিল যে, তাহার মুখকমল পন্টরপে দেখা যাইতেছিল। আমি সেই পরিপণ সৌন্দয্যের শোভা অবাক হইয়া ক্ষণকাল দেখিতে লাগিলাম। মনে হইল, যদি পৃথিবীতে সবগ থাকে তবে ইহাই। কিয়ৎক্ষণ পরে বালা জাগরিত হইল। আমাকে দেখিয়া কিঞ্চিৎ ভীত হইল। কেশবেশ সসম্ভবত করিয়া, জিজ্ঞাসা করিল—“তুমি কে ?” আমি কহিলাম—“প্ৰাণেশ্বর, আমি তোমার প্রণয়ার্থী।” আমি তাহাকে দেখিয়া যেরপে প্রেমবিহবল হইয়াছিলাম, বোধ হয় আমাকে দেখিয়া সেও তদ্রপ হইল। আমি তখন সাহস করিয়া মশারি তুলিয়া, পালকে উপবেশন করলাম। তাহার সহিত উচ্ছসিত স্বরে সমধর প্রেমালাপ করিতে লাগিলাম। সে ষোড়শী স্কুমারীও আমার প্রেমালাপে প্রীতি অনুভব করিল এবং আমাকে প্রণয়জড়িত স্বরে নানা মধর বাক্য বলিতে , লাগিল । रे 8b>