পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দিবা যখন শেষ হইল সেই তরণী তখন আমাকে একটি সিন্ধকে বন্ধ করিয়া লুকাইয়া রাখিল। পরদিন প্রভাতে তাহার পিতামাতা চরিতে গেলে, আবার আমায় বাহির করিল। আমরা সারাদিন প্রেমসাথে অতিবাহিত করিলাম। প্রতিদিন এইরুপ হইতে লাগিল। এইরূপে কয়েক মাস কটিয়া গেল। আমি রাজ্য ভুলিয়া সেই সখময়ীর প্রেমে মগ্ন রাহলাম। একদিন দৈবাৎ দিবাভাগে পরী-বাদশাহ আসিয়া আমাদিগকে ধরিয়া ফেলিল। পরীবাদশাহের বেগম কন্যাকে অনেক ভৎসনা করিলেন। পরী-বাদশাহ ক্ৰোধান্ধ হইয়া তৃত্যগণকে আজ্ঞা করিলেন—“ইহাকে নগরের বাহিরে লইয়া গিয়া অগ্নিকুণ্ডে দগধ কর।” ভূতগণ আমাকে বধিয়া লইয়া পোড়াইতে চলিল। অগ্নিকুণ্ড জলিল। আমি তখন বলিলাম—“তোমরা দয়া করিয়া আমায় একটা তেল মাখিতে দাও, যাহাতে সহজে পড়িয়া মরিতে পারি।" তাহারা সম্মত হইল। তখন উচ্চৈস্বরে বলিলাম—“এমন কেহ আছ আমাকে একট, তেল মাখাইয়া দিতে পার?” তৎক্ষণাৎ সেই বন্ধাবয় আসিয়া আমার অঙ্গে যাদপণ তৈল মদন করিয়া দিল। ইহার পর ভূতগণ আমাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিল। একদিন একরার জন্বলিবার মত ইন্ধন তাহারা সংগ্ৰহ করিয়াছিল। অগিন জনলিতে লাগিল, আমি তৈলের প্রভাবে সন্থ শরীরে তাহার মধ্যে বসিয়া রহিলাম। পরদিন প্রভাতে, আমি পড়িয়াছি কি না দেখিবার জন্য পরী-বাদশাহ ও তাঁহার বেগম আগমন করিলেন। আমি জলন্ত অগ্নিকুণ্ডের মধ্য হইতে তাঁহাদিগকে সসম্মানে সেলাম করিলাম, আমাকে জীবিত দেখিয়া তাঁহারা পরম বিমিত হইলেন। বলিলেন—“একি আশ্চৰ্য্য ব্যাপার, তুমি জীবিত আছ?” পরী-বেগম কহিলেন—“নিশ্চয়ই ও কোনও দেবযোনিসম্মভূত হইবে। মনয্যে নহে। তাঁহারা আমাকে বাহিরে আসিতে বললেন। আমি তাঁহাদিগের নিকট গিয়া দাঁড়াইলাম। পরী-বেগম বাদশাহকে কহিলেন—“এ মরে নাই ভালই হইয়াছে। কল্য হইতে আমার কন্যা কাঁদিয়া কাঁদিয়া মরণাপন্ন হইয়াছে। চল ইহাকে লইয়া গিয়া তাহার সহিত বিবাহ দিই। - মহাসমারোহে পুরী-কন্যার সহিত আমার বিবাহ হইল। কয়েক দিবস শবশরোলয়ে অবস্থিতি করিয়া নবপরিণীতা পত্নীকে লইয়া, বরাজ্যে প্রত্যাবৰ্ত্তন করিলাম। সেই পরীকন্যারই নাম গল। হে বিদেশি, সেই কন্যাকেই তুমি আজ শঙ্খলাবদ্ধ দেখিয়াছ। তাহার কারণ কমে বলিতেছি। দেশে ফিরিয়া গলবেগমের সহিত প্রণয়সুখে কালাতিপাত করিতে লাগিলাম। একদিন ভোর সময় নিদ্রাভঙ্গ হইলে দেখিলাম, গলবেগমের হাত পা বরফের মত শীতল। কারণ জিজ্ঞাসা করিলে সে বলিল কিছুক্ষণ পাবে বাহিরে গিয়াছিল, হাত পায়ে জল দেওয়াতে অমন শীতল হইয়া গিয়াছে। আমি তখন উহার কথা সত্য বলিয়াই বিশ্বাস করিলাম, কয়েকদিন পরে পুনরায় জাগিয়া ঐ প্রকার দেখিলাম এবং বেগম ঐ উত্তরই দিল। তখন আমার সন্দেহ হইল যে বোধ হয় রাত্রে কোথাও যায়, তাই শীতে হাত পা শীতল হয়। এ কথা আমি মনে মনেই রাখিলাম, প্রকাশ করিলাম না। একদিন অথবশালায় গিয়া দেখি আমার উৎকৃষ্টতম অবটি জীণ শীণ কলেবর হইয়া রহিয়াছে। রক্ষকগণকে গালিমন্দ দিতে লাগিলাম, বলিলাম—“তোরা নিশ্চয়ই দানা চারী করিস। নাহলে আমার এমন মোটা তাজা ঘোড়া এমন হইয়া গেল কেন ?” তখন প্রধাম অশ্ববরক্ষক বলিল—“জাঁহাপনা, যদি প্রাণদান পাই তবে ইহার কারণ খলিয়া বলি।” আমি প্রাণদান দিলাম। সে তখন বলিল—“পথিবীপালক, প্রত্যহ রাত্রে বেগম সাহেবা এই অশবকে ঋলিয়া কোথায় লইয়া যান এবং ভোর বেলায় ফিরাইয়া আনেন। অত্যধিক পরিশ্রমে ঘোড়া এমন দলবল হইয়া গিয়াছে।” শনিয়া আমি মৌন হইয়া রাজবাটীতে ফিরিয়া আসিলাম। রাত্রে পরীক্ষা করিবার জন্য কপট নিদাগ্রস্ত হইয়া জাগিয়া রহিলাম। কিছুক্ষণ পরে দেখি, বেগম তামাকে રે 8 જે --