পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিদিত মনে করিয়া উঠিল। পশিবদেশে শিশুগার কামরায় গিয়া দাঁতে মিশি, চোখে সরমা, গণ্ডস্থলে গোলাপী রঙ প্রভৃতি দিয়া বহমাল্য পেশোয়াজ পরিয়া, নানা রত্নালঙ্কারে ভূষিত হইয়া, অশ্বশালার দিকে গমন করিল। আমার সেই বেগবান উৎকৃষ্ট অবটি খলিয়া লইয়া, তাহাতে আরোহণ করিয়া, বাহির হইল। আমি অন্য একটি অশেব আরোহণ করিয়া গোপনে তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ষাইতে লাগিলাম। আমার প্রিয় কুকুরটিও ঘোড়ার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ছটিয়া আসিতে লাগিল। ক্ৰমে গলবেগম নগর ছাড়াইযা মাঠে গিয়া পড়িল। সেখানে একজন হাবসী, কুটীর নিৰ্ম্মাণ করিয়া বাস করিত। সাধারণ হাবসীগণের মতই তাহার গাত্রবণ মসীতুল্য ছিল, তাহার মুখাবয়ব অতি কদাকার ছিল। হাবসী কুটীরের বাহিরে দণ্ডায়মান ছিল। গলেবেগম আশব হইতে অবতরণ করিয়া তাহার নিকট গেল। তাহাকে দেখিবামাত্র সেই হাবসী নিজের পা হইতে জতা খলিয়া বেগমকে পটাপট মারিতে লাগিল আর বলিতে লাগিল —“হারামজাদি । আজ এত দেরী করিয়া আসিলি কেন ?” যে বেগমকে আমি কখনও ফল ছড়িয়াও মারি নাই, সেই স্কুমারীকে এরপে ভাবে প্ৰহত হইতে দেখিয়া ভাবিলায় বোধ হয় মরিয়া যাইবে। কিন্তু অভাগিনী মরিল না। সেই হাবসীর চরণ চক্রবন করিতে লাগিল এবং বলিতে লাগিল—“কি করিব, আমার স্বামী অাঁজ দেরী কাঁরয়া নিদ্রা গিয়াছে তাই আসিতে একটু বিলম্ব হইল। আমার কোনও অপরাধ নাই, প্রাণেশ্বর আমাকে মাত্তজনা কর।” তখন হাবসী বলিল—“আমি তোকে কতদিন বলিয়ছি তোর স্বামীটাকে বিষ খাওয়াইয়া । মারিয়া ফেল। তাহা ত তুই শনিবি না। সে হতভাগা বাঁচিয়া থাকিতে আমাদের সখ নাই।” এই বলিয়া বেগমকে আরও প্রহার করিতে লাগিল। বেগম তখন বলিল—“নাথ, ক্ষমা কর। আমি কলাই আমার স্বামীকে বিষপান করাইয়া মারিয়া ফেলিব। তুমি তখন নিকটকে রাজ্য ও আমাকে অধিকার করবে।” ইহা শনিয়া হাবসী ক্ষান্ত হইল এবং তাহাকে হাত ধরিয়া টানিয়া কুটীরে লইয়া গেল। আমিও দর হইতে দাঁড়াইয়া কুটীরের ভিতর দেখিতে লাগিলাম। আমি আর থাকিতে না পারিয়া, সিংহনাদ করিয়া, তরবারি হস্তে হাবসীকে আক্ৰমণ করিলাম। হাবসীও চীৎকার করিয়া, অস্ত্র গ্রহণ করিয়া আমাকে আক্ৰমণ করিল। তাহার চীৎকার শনিয়া তাহার ভূত্য চারিজন হাবসী সশস্ত্র হইয়া আগমন করল। তাহারা পাঁচজন, আমি একজন। তরবারি যন্ধে চলিতে লাগিল। আমি ক্ৰমে ক্ৰমে ভৃত্যগণের মধ্যে তিন হাবসীকে যমালয়ে প্রেরণ করিলাম। তখন চতুর্থ হাবসী ভূত্য প্রাণভয়ে পলায়ন করিল। আমার বেগমের সব্বনাশকারী হাবসীর সঙ্গেই আমার যন্ধে চলিতে লাগিল। আমি রক্তক্ষয়ে অত্যন্ত দৰবল হইয়া পড়িয়ছিলাম। তথাপি হাবসীর হস্ত হইতে তরবারি কাড়িয়া লইয়া, দই হতে দুই তরবারির দ্বারায় ষড়ধ করিতে লাগিলাম। এতক্ষণ গলবেগম নিকটে দাঁড়াইয়া ছিল। সে ইহা দেখিয়া, পশ্চাৎ হইতে আমাকে এমন ধাক্কা মারিল যে আমি ভূমিতে পড়িয়া গেলাম। তখন হাবসী সুবিধা পাইয়া আমার বকে চড়িয়া বসিল। বেগম নিজের কোমর হইতে এক ছাঁর বাহির করিয়া, আমাকে হত্যা করিবার জন্য হাবসীর হাতে দিল। আর এক মহত্তে হইলেই আমাকে যমালয় দশন করিতে হইত । এমন সময় আমার প্রভুভক্ত কুকুর এক লাফ দিয়া হাবসীর টটি কামড়াইয়া ধরিল। হাবসৗর হাতের ছাঁর হাতেই রহিয়া গেল। সে আমার পাবে ভূমিতে পড়িয়া গেল। আমি তখন উঠিয়া হাবসীকে ও গলকে বধিয়া ফেলিলাম, তাহাদিগকে বধিয়া রাজবাটীতে লইয়া আসিলাম। সেই হাবসীর মাথা কাটিয়া এক থালায় রাখিয়া দিলাম। তুমি থালায় সেই হাবসীর মন্ড দেখিয়াছ। আমার কুকুরটিকেও দেখিয়াছ। ঐ কুকুরই আমার জীবনদাতা। তাই উহার এত আদর। আর গলকে যে দণ্ড দিতেছি, তাহা উহার মহাপাপের তুলনায় লঘুদন্ড বলিতে হইবে। আর যে হাবসী ভূত্য পলাইয়া গিয়াছিল, সে কৈমশ ২৫ •