পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শাহ বাদশাহের দেশে লুকাইয়া আছে। ইহাই আমার জীবনের হদয়বিদারক ইতিহাস। দশম পরিচ্ছেদ সনোবর শাহ এই বক্তাত শেষ করিয়া রাজকুমারকে বলিলেন—“হে বিদেশি, এখন তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর অবগত হইলে, এখন নিজের প্রতিজ্ঞা পালন কর। আমি তোমার মসতকটি কটিয়া লইব ।” রাজকুমার বলিলেন—“দেখিতেছি আমাকে বধ করিবার জন্য আপনার সম্পর্ণে ইচ্ছা; আমিও তাহাতে পশ্চাৎপদ নহি। কেবল এক বিষয়ের মীমাংসা এখনও অবগত হই নাই। আপনার সঙ্গে কথা ছিল, আমার সন্দেহ সম্পর্ণেরপে ভঞ্জন করিয়া আমার মাথা কাটিয়া লইবেন। অতএব হে দেশাধিপতি, সেই চতুর্থ হাবসী ভূত্য এত লোক থাকিতে মেহেরগেজের সিংহাসন তলেই বা লাক্কাইত হইল কেন এবং মেহেরগেজই বা কি কারণে তাহাকে লুকাইয়া রাখিয়াছে ? অামার এই সন্দেহ ভঞ্জন করিয়া আমার মস্তক কৰ্ত্তন করুন।” সনোবর শাহ অনেক চিন্তা করিলেন, কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তর তিনি কিছই অবগত ছিলেন না। সুতরাং রাজকুমারের সম্পণে সংশয় দরে করিতে অসমথ হইয়া, তাঁহার মস্তক কৰ্ত্তন করিতে ক্ষান্ত থাকিলেন। প্রত্যাবৰ্ত্তন করিবার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। সনোবর শাহ তাঁহাকে বহু রত্নমাণিক্যাদি উপহার দিয়া দঃখিত মনে বিদায় দিলেন। রাজকুমার তখন বাজার হইতে সাত দিনের আহারোপযোগী মাংসের কাবাব ক্ৰয় করিয়া, সাতটি মশক জলে পণ করিলেন। তাহার পর সী-মোরগের একটি পালক আগন জবালিয়া দগধ করিলেন। দেখিতে দেখিতে সী-মোরগ আসিয়া উপস্থিত হইল। রাজকুমার খাদ্যাদিসহ তাহার পক্ষে আরোহণ করিয়া একে একে সাতটি নদী পার হইলেন। সী-মোরগ এবং সী-মগী বিবিধ প্রকারে রাজকুমারের আতিথ্য করিল। সেখানে কয়েকদিন বিশ্রাম করিয়া, নিজ অবে আরোহণ করিয়া প্রস্থান করিলেন। ক্রমে হাবসৗর দগে পেশছিয়া, হাবসী কন্যাকে বিবাহপবেক, বহু-রত্ন সহ গহযাত্রা করিলেন। কয়েক দিবস পথ পয্যটনের পর ব্যাঘ্র রাজার দেশে আসিয়া পেপছিলেন। সেখানে পবেমত ব্যাঘ্ররাজার সেবা করিলেন এবং ব্যাঘ্ররাজা নিজ সৈন্য সঙ্গে দিয়া সেই মহাবন তাঁহাকে পার করাইয়া দিল। আরও কয়েক দিবস পরে জমিলাবানর দেশে পেশছিলেন। সেখানে প্রতিশ্রুতি মত তাহাকে বিবাহ করিয়া কিয়দিন বহসেখে অতিবাহিত করিয়া, জমিলাবানকে সঙ্গে লইয়া প্রস্থান করিলেন। কয়েক দিনের মধ্যে রাজকুমার লতিফাবানর দেশে পৌছিলেন। তাহার বাগানে প্রবেশ করিয়া, জমিলাবান একে একে সমস্ত হরিণকে ইন্দ্রজালমুক্ত করিয়া দিলেন। তাহারা নানা দেশ বিদেশের বাদশাজাদা। জমিলাবান ও অলমাশকে বহর ধন্যবাদ দিতে লাগিল। অলমাশ তখন সেই যুবকগণকে আজ্ঞা দিলেন—“যাও, লতিফাবানকে বধিয়া লইয়া আইস।” তাহারা অবিলবে লতিফাবানকে বধিয়া রাজকুমারের পদতলে নিক্ষিপ্ত করিল। রাজকুমার বলিলেন, "ইহার মাংস টকরা টকরা করিয়া কুকুরকে খাওয়াইলে তবে ইহার উপযুক্ত দণ্ড হয়।” কিন্তু জমিলাবান লতিফাবানর ভগ্নী ছিল। ভগনীর প্রাণরক্ষার্থ জমিলাবান রাজকুমারকে অনেক অনুনয় করতে লাগিলেন। তখন রাজকুমার বলিলেন—“আচ্ছা, এ যদি পবিত্র মোহম্মদীয় ধৰ্ম্ম গ্রহণ করে এবং শপথপবেক ইন্দ্রজালচচ্চ পরিত্যাগ করে, তবে ইহাকে ক্ষমা করিতে পারি।” লতিফাবান প্রাণভয়ে স্বীকৃত হইল। রাজকুমার তখন তাহকে কলম পড়াইয়া २२6 *