পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তখন রাজকুমার গল ও সনোবরের আমলে বক্তান্ত সভা মধ্যে বর্ণনা করিলেন। প্রতোক কথায় হাবসীকে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন--"কেমন, একথা সত্য কি না ?” अ' र्वाळाख् व्लाशिब्-"अरु !” - সতীশ সকলে জানি শ্রবণ করিয়া রাজকুমারের বাঁধ ও সাহসের বিস্তর প্রশংসা করিতে লাগিল। বাদশাহ বহুসংখ্যক রত্ন-মণিকা সহ সভাপলেই অলমাশকে মেহেরগেজ সমপণ করিলেন। শুভদিনে বিবাহ হইয়া গেল। কিন্তু রাজকুমার তাহার সহিত বিবাহযোগ্য ব্যবহার করিতে বিরত রহিলেন। কয়েকদিন রামদেশের রাজধানীতে থাকিয়া, জমিলাবান এবং মেহেরগেজ সহ নিজ রাজ্যে প্রত্যাবৰ্ত্তন করিলেন। সিংহাসনতলস্থ সেই হাবসীকেও বধিয়া আনিলেন। তাঁহার আগমনবাত্তা শ্রবণ করিয়া শামশাদলালপোষ পরমানন্দে প্রত্যুদগমন করিয়া তাঁহাকে গহে লইয়া আসিলেন। রাজ্যে আনন্দোৎসব পড়িয়া গেল। বাদশাহ এত দান ধ্যান আরম্ভ করিলেন যে, দেশের সমস্ত কাঙাল নেহাল হইয়া গেল। জমিলাবানকে পত্রবধরপে পাইয়াও তাঁহার আনন্দের সীমা রহিল না। একদিন মহতী সভা আহত হইল। তথায় রাজকুমার গহত্যাগের দিন হইতে অদ্যাবধি নিজের সমস্ত বক্তান্ত বর্ণনা করিলেন। অবশেষে তিনি সেই হাবসাঁকে ও মেহেরগেজকে হাত পা বধিয়া রাজসভায় উপস্থিত করিয়া পিতাকে বলিলেন—“এই হাবসীর চক্রান্তে, এই মেহেরতেগজ আপনার সাত পত্রকে বধ করিয়াছে। এখন ইহাদের উপযুক্ত দণ্ড বিধান করন ।” বাদশাহ তখন হাবসীকে বন্ধদশায় সভার প্রাগণে ফেলিয়া, তাহার উপর দিয়া চরিজন অশ্বারোহীকে অশব ছটাইতে আদেশ করিলেন। একে একে চারি অব হাবসীর উপর দিয়া ছটিলে তাহার অঙ্গ খণ্ডে খণ্ডে কাটিয়া গেল এবং সে পঞ্চস্তু প্রাপ্ত হইল। মেহেরগেজ ভাবিতেছিল, আমারও বোধহয় এই দশা হইবে। ভয়ে সে উচ্চৈস্বরে কুন্দন করিয়া উঠিল। তাহার অবস্থা দেখিয়া সভাসদগণের মন দ্রবীভূত হইল। তাহারা করযোড়ে বাদশাহের কাছে প্রার্থনা করিল—“এ অতি পাপীয়সী বটে। অনেক নিরপরাধী মনুষ্যকে বধ করিয়ছে। তথাপি এ রাজবংশসমভূত-বিশেষতঃ সীলোক। দয়া করিয়া ইহাব প্রতি লঘেদণ্ড বিধান করুন।” বাদশাহ তখন বলিলেন—“আমার পত্র যখন উহাকে রিবাহ করিয়া আনিয়ছে, তখন ವ್ಲಿ পত্রেরই সম্পত্তি। উহার প্রতি যাহা বিধান হয়, করিতে আমার পত্রকেই ভার |াম।” বাদশাজাদা মেহেরঙ্গেজের রপজ্যোতি দেখিয়া সভার প্রার্থনা শুনিয়া, তাহাকে প্রাণে না মারিয়া জমিলাবানর দাসী করিয়া রাখলেন। কয়েক বৎসর পরে শামশাদলালপোষ সবগারোহণ করিলেন। অলমাশ তখন বাদশাহ ছইয়া জমিলাবানর সহিত সুখে রাজ্যভোগ করিতে লাগিলেন।