পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সারদাকে কিছুদিন হইতে আমার আইন পনস্তকের লাইব্রেরীর তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত করিয়া ছিলাম। তাহাকে বলিলাম, "আজ লাইব্রেরীতে শুয়ো। একটা সজাগ থেকো।” সে বলিল, “আমাকে বলতে হবে না, আমি আজ জেগেই থাকব এখন, যতক্ষণ আপনারা না ফেরেন ৷” জাগিয়াই সে ছিল বটে, পরে প্রমাণ পাইলাম। ফিরিতে রাত্রি তিনটা বাজিল। আমার স্ত্রী বেশপরিবত্তন করিবার জন্য কক্ষান্তরে প্রবেশ করিলেন। আমি একা শয়নকক্ষের দ্বারমুক্ত করিয়া যে দশ্য দেখিলাম, তাহাতে আমার চক্ষুস্থির হইয়া গেল। বড় সিন্দকের সম্মুখে সারদা বসিয়া আছে। আশে পাশে খানকতক রূপার বাসন ছড়ান। বাসনের আলমারী খোলা। আমাকে প্রবেশ করিতে দেখিয়াই সারদা বাবাবাবা বলিয়া অসফটস্বরে ক্ৰন্দন করতে আরম্ভ করিল। তাহার কাছে গিয়া দেখিলাম, সে বন্দী। এই সিন্দকে যে কলটি লাগান ছিল, তাহার . একটা ইতিহাস আছে। বিলাতে অবস্থানকালীন আমি নীলামে অনেক মতুল্য দিয়া উহা ব্রুয় করিয়াছিলাম। একটি ব্যাঙ্ক ফেল হইয়া যায়, কলটা সেই ব্যাঙ্কের। কলে একটা তালা আছে কিন্তু তাহার চাবি নাই। ঘৃণ্যমান কয়েকটা অঙ্গরীয়াকার ধাতুখন্ডের যথাসন্নিবেশে একটা নিদিষ্টট ইংরাজি নাম সাজাইতে হয়, তাহার পর টানিলেই খালিয়া যায়। কিন্তু খলিবার পকেব তৎসলংন একটা পিন স্থানভ্রষ্ট করা আবশ্যক। তাহা না করিয়া খলিতে চেষ্টা করলে, যে খলিতেছে সে তৎক্ষণাৎ বন্দী হইবে। দুইদিক হইতে দুইটা লৌহখণ্ড পিপ্রঙের জোরে ছটিয়া গিয়া হাত বাঁধিয়া ফেলিবে। আমার সন্ত্রীর অসাবধানতায় সারদা কোনও দিন খলিবার নামটি জানিতে পারিয়াছিল, কিন্তু ইহার মধ্যে যে আবার এ ব্যাপার আছে, তাহা ত সে জানিত না ! পৃথিবীতে কাহাকেও বিশ্বাস করিয়া সুখ নাই। সারদাকে দেখিতে নিরীহ ভালমানুষটি। যাহারা বলে, মানুষের মুখ দেখিয়া সবভাব চরিত্রের আভাস পাওয়া যায় তাহারা মখের মুখ। আইনের ব্যবসায় করিতে করিতে আমি এ মতের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হইয়া পড়িতেছিলাম; সারদার এই আচরণে আমার বিপক্ষমত প্ৰথায়ী হইয়া পড়িল । তাহার কাছে গিয়া রোষকষায়িত নেত্ৰে বলিলাম, “খুব কায করেছিস—উপযুক্ত পত্রের কাজ করেছিস।” রাগে আমার সব্বশরীর জবলিয়া যাইতেছিল। সারদা কাতর সবরে বলিল, “বাবা, আমার দোষ নেই।” ইচ্ছা করিল তাহার মুখে একটা প্রকাণ্ড চপেটাঘাত করি। কিন্তু আত্মসম্বরণ করলাম। এই সময়ে আমার সত্ৰী প্রবেশ করিলেন। সারদাকে তদবসথ দেখিয়া চমকিত হইলেন । কাঁপিতে লাগিলেন। আমার পানে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “একি কাণ্ড!” আমার স্ত্রীকে দেখিয়া সারদা দিবগণে ক্ৰন্দন আরম্ভ করিয়া দিল। আমি রাগিয় বলিলাম, “চপে রও শয়ার—মেরে হাড় গড়ো করে ফেলব।” আমার স্ত্রী বলিলেন, “ও ঘরে চল ।”—বলিয়া আমার হস্তধারণ করিয়া প্রায় টানিয় লইয়া গেলেন। একটা কোঁচে বসিয়া পড়িয়া বলিলেন, “কি হবে " “কি আর হবে ? পদুলিশে দেবো।” তিনি কিছুক্ষণ চপ করিয়া রহিলেন। পরে বলিলেন, “দেখ কাষ নেই পলিশে দিয়ে। ছেড়ে দাও। লোভের বশবত্তীর্ণ হয়ে এ কায করে ফেলেছে। প্রথম অপরাধে মাজ’না হওয়া উচিত। ও যদি অনুতাপ করে, নিজেকে সংশোধন করতে চেন্টা করে তবে ওকে সে অবসর দাও। পলিশে দিলে ওর জীবন একেবারে মাটি হয়ে, যাবে।” সারদা যদি চরি করিয়া পলায়ন করিতে কৃতকাৰ্য্য হইত, তবে তাহাকে ক্ষমা কর অসম্ভব হইত বটে। কিন্তু সে নাকি অমৃত্যু হইছে তই অহা প্রতি নে ভক