পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দয়া অনুভব করিলাম। কিন্তু সেটা করিলে কি সামাজিক কৰ্ত্তব্যের ক্রটি হয় না ? পত্রীকে সেই কথা বলিলাম। তিনি বলিলেন, “না। পলিশে দিলেই সামাজিক কত্তব্যের প্রশ্নটি হয়। ব্যক্তিগত কত্তব্যের উপরই সামাজিক কৰ্ত্তব্য প্রতিঠিত। একটা জীবনকে চিরদিনের জন্যে নাট করে দিও না।” সারদাকে ছাড়িয়া দিলাম। কলিকাতায় কনগ্রেস হইয়াছিল কবে ?–১৮৯৬ সালে । তিন বৎসর পরে সারদার নিকট হইতে সে দিন একখানি পত্র পাইয়াছি। সে এখন জামালপরে মিউনিসিপালিটিতে ট্যাক্স দরোগার কার্য্য করিতেছে। তাহার মাতুল র্তাহার জন্য পাঁচশত টাকা জামিন দিয়া ঐ কাষটি জটাইয়া দিয়াছেন। কিছুদিন তাহার অত্যন্ত কটে কাটিয়াছিল, প্রায় ভিক্ষাকে উপজীবিকা করিতে হইয়াছিল। তাহার প্রতি আমাদের অহেতুক স্নেহ সম্বন্ধে অনেক কৃতজ্ঞতাপণ কথা লিখিয়াছে। লিখিয়ছে যে তাহার কাসিট। এবায় অত্যন্ত বাড়িয়াছে। এবার বোধ হয় বাঁচিবে না ! ইচ্ছাটা, এখানে আসে কিছুদিনের জন্য। অথচ সে প্রস্তাব করিতে সাহসী হইতেছে না। তাহার পত্রের শেষ কয় ছত্র এই ঃ “যদি আপনার কাছে যাইতে পারিতাম, যদি আমার মাতৃদেবীর পাদোদক পান করিতে পারিতাম, তাহা হইলে হয়ত আরোগ্য লাভ করতাম। কিন্তু কোন মুখে আর সে প্রস্তাব করিব ? আমার যদি মৃত্যু হয় তবে সেই শাসিতই আমার উপযুক্ত।" আমার স্ত্রী এই পরখানি দেখিয়া বলিলেন, “একটা কথা রাখবে ?” *ਿ ?” “তাকে আসতে লেখ r” “চাকরি করছে, এখানে এসে কি করবে ?” “ছাট নিয়ে আসকে।" “কেন, পাদোক জল দেবে বলে —তার চেয়ে একটা শিশি করে আউন্স চারেক পাদোক জল পাশেলে পাঠিয়ে দিলেই হয় ।” “না না—তাকে আমার ভারি দেখতে ইচ্ছে করছে। তুমি জান, এ জীবনের জন্যে আমার কাছে সে ঋণী ? আমার কাছে যে উপকৃত তাকে আমার ভারি ভাল লাগে, এটা আমার একটা দন্বলতা।” আমি গভীর ভাবে বলিলাম, "আমিই ধন্য যার এমন সত্ৰী, পাদোদক থেয়ে কত লোক জীবন পেয়ে যায়।” "আহা ঠাট্টা কর কেন ? আমার পাদোদক পান করে সে জীবন পেয়েছে আমি কি বলছি ? জীবন মানে তার নৈতিক জীবন ভেবে বলেছিলাম। তুমি তাকে পলিশে দিলে তার কি সৰুবনাশ হত বল দিকনি !" আমি বলিলাম, ”নৈতিক জীবন ছাড়া ভৌতিক জীবনও তুমি দিয়েছ তাকে । তুমি পদোদক না দিলে হয়ত এতদিন বাঁচত না।” আমার স্ত্রী একথা শুনিয়া ভারি হাসিতে লাগিলেন। হাসির অর্থ ভাল বুঝিতে না পারিয়া আমি তাঁহার পানে নিবোধের মত চাহিয়া রহিলাম। হাসি থামিলে বলিলাম, “অত হাসছ কেন ?” “তুমি বুঝি মনে করেছ সারদা আমার পাদোদক খেয়ে ভাল হযেছে ?” “তবে কি ? তোমায় প্রণাম করে করে ?” “না গো না তাও না। একটা রহস্য আছে প্রথম দ্য তিনদিন যখন দেখলাম, তার কাসিটা ক্ৰমশঃই বেড়েই যাচ্ছে, তখন জলে পদমপশ করার পরিবত্তে", এ বেলা একটা ও বেলা একটা হোমিওপ্যাথিক ওষুধের এক ফোঁটা করে পশ করাতে লাগলাম। ওয়াইন ಇ ೬೪ ಕಿತ್ ಇ ಶೌಢ್ : “ಡ ಈ ಕಾ। সারদা এলে বলতাম—