পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐ জল রেখেছি নিয়ে যাও।” সন্ত্রীর বৃদ্ধি শনিয়া অবাক হইয়া গেলাম। সারদাকে আসিতে লিখিলাম।—সে উত্তর দিল, এ কালামখ আর আপনাদিগকে দেখাইতে ইচ্ছা নাই। অগত্যা হোমিওপ্যাথিক ঔষধ দইটা কিনিয় তাহাকে পাঠাইয়া দিলাম। এক সপ্তাহ পরে পাশেল ফিরিয়া আসিল। যে দিন প্রভাতে পাশেল ফিরিল, সেই দিন দিন সন্ধ্যাবেল একজন পুলিশ কর্মচারী আসিয়া আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিলেন। ইনি আমার পাব পরিচিত। সারদকে লেখা আমার পত্ৰখানি বাহির করিয়া বলিলেন, “এর কোনও সন্ধান দিতে পারেন ?” ব্যাপার কি জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলাম, সারদা মিউনিসিপ্যালিটির বারো হাজার টাকা আত্মসাৎ করিয়া পলায়ন করিয়াছে। আমার মন্ত্রী এ সংবাদ শনয়া অত্যন্ত বিস্মিত হুইলেন। I মাঘ, ১৩০৬ ] বউ চরি በ ` } যে সময়ে নব্য-বঙ্গে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হইবার একটা ভারি ধম পড়িয়া গিয়াছিল, সেই সময়ের কথা বলিতেছি। মহামায়া বন্ধমান জেলার একটি সনিবিড় পল্লীগ্রাম। সনিবিড় অর্থাৎ রেলওয়ে টেশন হইতে কুড়ি মাইল এবং পোল্ট অফিস হইতে পাঁচ মাইল দরে অবস্থিত। গ্রামের মধ্যভাগে দেবী মহামায়ার একটি বিগ্রহ স্থাপিত আছে--সেই হইতে ইহার নামোৎপত্তি। এই ক্ষুদ্র গ্রামটির একটি ক্ষুদ্র জমিদার আছেন তাঁহার নাম বিধভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁহার মধ্যম পত্র অনাথশরণ বি-এ পরীক্ষা দিয়া কয়েক দিন হইল বাড়ী আসিয়াছে। ছেলেটির বয়স বাইশ বৎসর হইবে, বেশে পারিপাট্য আছে, চেহারাটি মন্দ নহে। কিন্তু পিতা তাহার উপরে কয়েকটি কারণে অত্যন্ত চটা। প্রথমতঃ সে ব্রাহ্মসমাজে যাতায়াত করিয়া থাকে বলিয়া সংবাদ পাওয়া গিয়াছে । দ্বিতীয়তঃ, গহে ষোড়শী সত্রী রহিয়াছে, কিন্তু সে তাহার সহিত দেখা সাক্ষাৎ পয্যন্ত করে না। তাহার কারণ কি জান ? সে বলে যাহাকে আঁমি ভালবাসিয়া বিবাহ করি নাই, সে আমার সত্ৰী নহে, ভগিনী। যদি জিজ্ঞাসা কর উহাকে বিবাহ করিলে কেন ? সে বলিবে, যখন বিবাহ করিয়াছিলাম, তখন আমার এ সমস্ত মতাদি ছিল না। বালিকার দশা কি হইবে জিজ্ঞাসা করিলে বলে, আমরা উভয়ে ব্রাহ্মধৰ্ম্মে দীক্ষিত হইব, তাহার পর ব্রাহ্মবিবাহের যে নতন তাইন বিধিবদ্ধ হইতেছে, সেই আইন অনুসারে আমাদের বিবাহ-বন্ধন ছিন্ন করিব ; ও তখন ভালবাসিয়া আর যাহাকে ইচ্ছা সবামিত্বে বরণ করিতে পাবিবে। বিবাহের পর কলিকাতায় গিয়া অনাথশরণের একটি প্রাণের বন্ধ জটিয়ছিল, তাহার নাম হেমন্তকুমার সিংহ। সে দীক্ষিত ব্রাহ্ম। তাহার সহিত বন্ধত্বে সত্রপাতের অলপকাল পরেই অনাথের মনে ধারণা জন্মিল যে, সে হেমন্তকুমারের দরসম্পকীয়া ভগিনী নগেন্দ্রবালাকে ভালবাসে। মনের এই চপলতায় প্রথমে অনাথ অত্যন্ত লল্জিত ও অনন্তপ্ত হইয়াছিল। কিন্তু হেমন্তকুমার তাহাকে সান্ত্বনা দিল। সে বলিল, ভালবাসা একটি ঐশ্বরিক শক্তির বিকাশ, কোনও অবস্থাতেই তাহতে পাপ পশিতে পারে না। বিশেষতঃ হেমন্তকুমারের প্রবল বিশ্ববাস, প্ৰেম-সম্পক-বিহীন পাব রাগ-বজিত বিবাহ বিবাহই নয়। অনাথ মন্দাকিনীকে ভালবাসিয়া বিবাহ করে নাই, সতরাং সে তাহার স্ত্রী নহে ভগিনী, এই অদ্ভুত মত হেমন্তই অনাথের প্রবেশ করাইয়াছে। নগেন্দুবালাও যে Sసి