পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অনাথের প্রতি প্রণয়শালিনী, ইহাও দই বন্ধ অনমান করিয়া লইয়াছে। এই বিবাহ হইলেই লুথাৰ্থ আদশ বিবাহ হয়, ইহাই হেমন্তকুমারের মত। কিন্তু অনাথের তথাBBB BB BBBBB BB BBBBB S BBBBBB BBB BBB BB BBBB BBBB পয্যন্ত অনাথের নাই। হেমন্ত প্রায়ই বলিত—প্রাণে প্রাণে যোগ, আত্মায় আত্মায় মিলন ইহাই ভালবাসার চরম সফলতা—বিবাহ নাই হইল। কিন্তু নতন ব্রাহ্মলিবাহ আইন হইবার কথা উঠা পৰ্য্যন্ত, তাহারা অন্যরপ পরামর্শ করিয়াছে। মধ্যাহ্নকাল বিগতপ্রায়। জ্যৈষ্ঠ মাসের আম-পাকানো রৌদ্র বাহিরে ঝাঁ ঝাঁ করিতেছে। অনাথশরণ বহিববাটীর কক্ষে ডেস্কের সম্মখে চেয়ারে উপকিট। এই কক্ষটি তাহার নিজস্ব। এইখানেই রাত্রে শয়ন করে। ভিত্তিগাত্রে কয়েকখানি বিলাতী ছবির সঙ্গে একটি একতারা টাঙ্গানো, প্রভাতে ও সায়াহ্নে এইটি বাজাইয়া সে ব্রহ্মসংগীত করিয়া থাকে। গৃহসজার মধ্যে একটি ক্লক, একটি আলমারি, একটি আলনা এবং শয়নের খাট ছাড়া কিছুই নাই। ডেকের ভিতর হইতে অনাথ হেমন্তকুমারের একখানি সদ্য-প্রাপ্ত চিঠি বাহির করিয়া পড়িতে আরম্ভ করিল। তাহার যেখানে যেখানে নগেন্দ্ররালার নাম ছিল, সেখানে সেখানে চম্বন করিল। চিঠি রাখিয়া, চক্ষ মাদ্রিত করিয়া, কি যেন ধ্যান করিতে লাগিল। ঠং ঠং করিয়া ঘড়িতে দুইটা বাজিয়া গেল। - অনাথ তখন ধীরে ধীরে চক্ষ খলিয়া, পত্ৰখানি খামে বন্ধ করিল। এক টুকরা কাগজ লইয়া, ভাবিয়া চিন্তিয়া লিখিল ঃ– "আজ রাত্রি বারোটার পর সকলে নিদ্রিত হইলে তুমি একবার আমার ঘরে আসিও ” লিখিয়া, কাগজখানিকে পাকাইয়া গটাইয়া ছোট করিল। পর্বেকথিত খামশুদ্ধ চিঠিখানি ডেসেক বন্ধ করিয়া বাহির হইয়া গেল । অন্তঃপরে প্রবেশ করিয়া দেখে, অঙ্গন জনশন্য। প্রথম কক্ষে, তাহার বউদিদি কয়েকজন সখীকে লইয়া তাস খেলিতেছেন। দ্বিতীয় কক্ষে প্রবেশ করিয়া দেখিল, পালঙ্কের উপর জননী নিদ্রামগনা। কুলাঙ্গীর কাছে তাহার বালক ভ্রাতুলপত্রটি দড়িাইয়া চরি করিয়া কুল-আচার ভক্ষণ করিতেছে। কাকাকে দেখিয়া সে অপ্রতিভ হইয়া হাসিয়া ফেলিল। কাকা তাহার প্রতি দকপাত না করিয়া সে পথান ত্যাগ করিয়া গেলেন। তৃতীয়টি প্রজার ঘর; নারায়ণশিলা আছেন; মাত্তিবিদ্বেষবশতঃ ইদানীং অনাথশরণ এই কক্ষে প্রবেশ করিত না । বাহিরে দাঁড়াইয়। দেখিল, তাহার স্ত্রী মন্দাকিনী মেঝের উপর বটি পাতিয়া বসিয়া তেঁতুল কাটিতেছে। দক্ষিণ হস্তের কাছে কলার পাতার উপর কতকটা কাটা তেতুল: বটির লিমেন একরাশি কাঁইবাঁচি ছড়ান। মন্দাকিনীর ওঠাধর তাম্বলয়াগরঞ্জিত; কপালে বিন্দ বিন্দ ঘৰ্ম্ম"; অঞ্চলাগ্র গলায় জড়ানো। মন্দা আপন মনে হেট হইয়া তেতুল কাটিতেছিল, সবামীকে দেখিতে পায় নাই। অনাথ প্রায় এক মিনিটকাল বিস্ময়াবিটে হইয়া সন্ত্রীর মুখপানে চাহিয়া রহিল। বিবাহের পর এই সে প্রথম মন্দাকে ভাল করিয়া দেখিতেছে ! উঠানে আমগাছের শাখা হইতে একটা পাকা আমি বাতাসে পড়িয়া গেল । সেই শব্দে মন্দ্রা চমকিয়া বাহিরের পানে চাহিল-দেখিল ব্যবৃন্দায় স্বামী দাঁড়াইয়া। তৎক্ষণাৎ সে ব’টি ছাড়িয়া উঠিয়া পড়িল । আধহাত পরিমাণ ঘোমটা টানিয়া জানালার কাছে সরিয়া ধাঁড়াইল। তাহার অঞ্চলবদ্ধ চাকিগুলি ঝিন ঝন করিয়া বাজিয়া উঠিল। অনাথ মদ্যপদক্ষেপে ঘরে প্রবেশ করিল। মন্দাকিনীর পা লক্ষ্য করিয়া পাকানো কাগজখানি ছড়িয়া দিয়া বাহির হইয়া গেল । সে চলিয়া গেলে মন্দা কাগজখানি কুড়াইয়া লইল । প্রথমতঃ দয়ারটা বন্ধ করিয়া দিল । জানালার কাছে আসিয়া কাগজখানি খলিয়া পাঠ করিল। তাহার পর বাহিরে চাহিল। এটা আমাছ কচ পৰা তু আম দিয়া হাছ তাহার ভিতরে