পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বসিয়া কোকিল ডাকিতেছে। অনেক দরে ঘনঘন ডাক্লিতেছে। আবার কাগজখানি পড়িল : আবার আমগাছ পানে চাহিল। গাছের ফাঁকে আকাশ দেখা যাইতেছে। মন্দা কাগজখান বকে চাপিয়া ধরিল। গলকত্র হইয়া নারায়ণশিলার সম্মুখে উপড় হইয়া পড়িয়া প্রণাম করিতে লাগিল । উঠিয়া আবার জানালার কাছে গিয়া কাগজখানি পাঠ করিল। আজ তাহার জীবনের কি দিন । বিবাহের পর এই প্রথম স্বামী তাহাকে সম্ভাষণ করিলেন। জরগায়ে মন্দার বিবাহ হইয়াছিল: ফলশয্যা হইতে পায় নাই। যে তিনদিন শবশুরবাড়ীতে ছিল, স্বামীর সহিত সাক্ষাৎ হয় নাই। তখন সে তেরো বৎসরের। মাঝে একবার আসিয়া কয়েক মাস ছিল, তখন অনাথের নতন “মতাদি" হইয়াছে। পরিজনবগের বহ আকিশ্চন সত্ত্বেও অনাথ অন্তঃপরে শয়ন করে নাই। এবার রাগ করিয়া তাহাকে কেহ বাটীর ভিতর আনিবার চেষ্টা করে নাই। অনাথের মাতা প্রতিদিনই নবীনগণকে এ বিষয়ে অনুরোধ করিতেন। কেহ কর্ণপাত করিত না। এতদিনে সবামীর কি মনে পড়িয়াছে ? মন্দার এ জীবনটা তবে কি বিফল হইবে না ? তাহার আত্মীয়াগণের, সখীদের স্বামীর ভালবাসার কথা সোহাগের কথা শুনিয়া শনিয়া তাহার বক ফাটিয়া যাইত। মনে হইত, কি পাপ সে করিয়াছে যাহার জন্য ঈশ্বর তাহাকে এমন করিয়া শাসিত দিতেছেন ? এইবার কি সে সব দুঃখ তবে দরে হইবে ? হঠাৎ মন্দাকিনীর চিন্তাস্রোত বাধাপ্রাপ্ত হইল। অগলিত দয়ারে বাহির হইতে কে গম গম করিয়া কিল মারিতেছে। ব্যস্ত হইয়া মন্দাকিনী দয়ার খলিয়া দিল। তাহার ছোট ননদ হরিমতি। হরিমতি বলবিধবা। আজ পাঁচ বৎসর হইল তাহার এ দশা ঘটিয়াছে। হরিমতি মন্দার অপেক্ষা তিন বৎসরের বড়; তব দইজনে খুব ভাব । দুইজনে দুইজনের সকল সংখদঃখের ভাগী । মন্দাকে দেখিয়া হরিমতি চমকিয়া বলিল, “তোর কি হয়েছে লা ?” মন্দা ধীরে ধীরে উত্তর করিল, “হবে আবার কি ?” “দোর বন্ধ করে কি করছিলি ?” মন্দা চপ করিয়া রহিল। তাহার ভাবভঙ্গি দেখিয়া হরিমতির ভারি সন্দেহ হইল। সে মন্দার গলাটি জড়াইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কি হয়েছে বলবিনে ভাই ?” “বলব।" "কখন বলধ ?” “রাত্তিরে” “না এখন বল ।” মন্দাও বলিবে না হরিমতিও ছাড়িবে না। শেষে মন্দা বলিল । শনিয়া হরিমতি প্রথমটা চপ করিয়া রহিল। তাহার পর অলপ অলপ হাসিতে লাগিল। মন্দা জিজ্ঞাসা করিল, “হাসছিস কেন ভাই ?” হরিমতি বলিল, “হাসছি তোর বরটির রকম দেখে। আমি যা ভেবেছিলাম তাই। এবার এসে অবধি ছোড়দার উসখসে করে বেড়ান হচ্চে। বলেওছিলাম বড় বউদিদিকে।” “কি বলেছিলি ?” “বলেছিলাম, ওগো এবার হয়ত ছোড়দার মন হয়েছে। এবার তোমরা চেন্ট করে দেখ, এবার হয়ত ঘরে আসবেন। তা বউদিদি বললেন—মন হয়েছে ত আসক না, আমি কি বারণ করেছি নাকি ? আমি বললাম-এতদিন আসেননি, এখন আপনা হতে কি আসতে পারেন? লজা করে হয়ত। তিনি বললেন—সেবার অমন করে আমাদের অপমান করলে, আবার আমি সাধতে যাব ? আমি তেমন মেয়ে নই। যেমন কম তেমনি ফল ! দ্য মাস ত ছটী আছে। ভুগকে, জব্দ হোক।” মন্দা বলিল, “আমি কিন্তু ভাই যেতে পারব না।” “কেন ?” “সে আমার ভারি লজা করবে।” হরিমতি হাত নাড়িয়া বলিল “ওলো দেখিস । কাঁচখকৌটি কিনা! বরের কাছে 》