পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যেতে লজ্জা করবে! কতক্ষণে যাবি, ঘণ্টা গণছিস, তাই বল । মুখে আর ন্যাকামো করতে হবে না।” : মন্দা বলিল, “না ভাই, ঠাট্টা রাখা। আমার ভয় হচ্চে।” “প্রথম দিনটে ভয় হতে পারে : তা একদিন বই ত নয়।” “রোজ রোজ আমি যাব বুঝি ? তা হলে একদিন ধরা পড়তে হবে না ?” “ধরা না পড়লে আর উপায় কি ভাই ? একদিন লতজা ত ভাঙ্গতেই হবে ?” “তার চেয়ে তুই বরং বউদিদিকে বলগে আর একবার। তিনি যা হয় করবেন।” "আচ্ছা তা বলব; কিন্তু আজকের দিনটা চরি করেই তোদের দেখা হোক! দেখিস সরির কাঁচা আমটা পেয়ারাটার মতন চরির সব জিনিযই বড় মিষ্টি।” በ ቔ በ "ছোটবউ, ও ছোটবউ, ঘুমলি ভাই ?” রাত্রে শয্যায় হরিমতি মন্দাকিনীকে ডাকিল। মন্দাকিনী ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিল । জিজ্ঞাসা করিল, ”বারোটা হয়েছে ?” "বারোটা ছেড়ে এই একটা বাজলো ছোড়দার ঘড়িতে।” “তুমি বুঝি ঘুমিয়ে পড়েছিলে ?” “নাঃ—আমার চোখে কি আর ঘুম আছে ? যত ঘমে তোর। যার বিয়ে তার হ:স নেই, পাড়া পড়শীর ঘাম নেই।” এই কথা বলিয়া হরিমতি প্রদীপ জবালিল। আলনা হইতে একখানা ধোয়া দেশী শাড়ী পাড়িয়া বলিল, “নে এইখানা পর্য ।” মন্দ বলিল, “না ভাই—আর অততে কায নেই।” হরিমতি বলিল, “দর ছড়ি, এই ময়লা কাপড় পরে বঝি যায়?? বলিয়া মন্দার আচিল ধরিয়া টান দিল । তখন মন্দা হরিমতির আদেশ পালন করিতে পথ পাইল না । কাপড় পরা হইলে হরিমতি বলিল, “বল, এগিয়ে দিয়ে আসতে হবে নাকি ?” মন্দাকিনী একটা প্রচলিত দেশীয় ঠাট্টা করিতে যাইতেছিল, কিন্তু সামলাইয়া লইল । কারণ এ সময় হরিমতিকে রাগানো সবুদ্ধির কক্ষম হইবে না। সুতরাং বলিল, “নইলে আমি বউ মানুষ একলা যাব নাকি ?" - দুইজনে দয়ার খলিয়া বারান্দায় বাহির হইল। নিস্তবধ জ্যোৎসনা রাত্রি। মন্দাকিনীর পায়ে মল ছিল, ঝম ঝম করিত্বে লাগিল। হরিমতি সে শব্দে চমকিয়া বলিল, “অt মরণ ! মল চারগাছা খলিসনি ? ভাবে বিভোর হুয়েছিস যে !" মন্দাকিনী মল খলিয়া বালিসের নীচে রাখিয়া আসিল। তার পর দুইজনে বৈঠকখানা অভিমুখে চলিল। কাছাকাছি পৰ্যন্ত গিয়া হরিমতি মন্দাকিনীর কাণে কাণে বলিয়া দিল, “দোর ভেজিয়ে রাখব: আস্তে আস্তে সাবধানে আসিস এখন।" বলিয়া স ফিরিয়া গেল। মন্দা ধীরে ধীরে সিড়ি চারিটি ভাঙ্গিয়া স্বামীর ঘরের বারান্দায় উঠিল। দয়ারের ফাঁক দিয়া দেখিল, আলো জলিতেছে। প্রবেশ করিতে তাহার অত্যন্ত ভয় হইতে লাগিল। বকটি দরে দরে করিতে লাগিল। পা আর উঠে না। শেষে সাহসে ভর করিয়া দয়ারটি নিঃশব্দে খলিয়া প্রবেশ করিল। দেখিল, মাথার শিয়রে বাতি জালিয়া সবামী নিদ্রা যাইতেছেন। পিছ ফিরিয়া দয়ার বন্ধ করিয়া মন্দাকিনী খিল দিল। বাতিটা নিবাইয়া দিল। ঘরে জ্যোৎসনা প্রবেশ করিয়াছিল, এখন তাহা যেন হাসিয়া উঠিল। স্বামীর বিছানায়, স্বামীর মুখে, জ্যোৎসনা পড়িয়াছে। মন্দা | অনেকক্ষণ সেই সাপ্ত মুখখানি ૪૨