পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেখিল ; ভাবিল—ইনি আমার স্বামী । আমার স্বামী ত বড় সন্দের। - এইরুপে এক মিনিট অতিবাহিত হইল। সন্দা মনে মনে বলিল—“বেশ মানুষ ত ! লোককে ডেকে এনে নিজে দিব্যি করে নিদ্রে হচ্ছে।” কি করিবে কিয়ৎক্ষণ ভাবিল। শেষে সিথর করিল, কখনও ত পদসেবা করিতে পাই মাই; এই প্রথম সহযোগ ছাড়ি কেন ? তখন সে সন্তপণে স্বামীর পদতলে উপবেশন করিয়া, পায়ে হাত বলাইতে লাগিল। আরামে অনাথশরণের নিদ্রা গভীরতর হইল। জানালা দিয়া মিঠা মিঠা দক্ষিণা বাতাস আসিতেছে। এই ভাবে কিয়ৎকাল-প্রায় আধ ঘণ্টা—কাটিলে, মন্দা স্বামীর পায়ের কাছে শইয়া ঘুমাইয়া পড়িল। দইটা বাজিবামার অনাথের নিদ্রাভঙ্গ হইল। চেতনা প্রাপ্তির প্রথম কয়েক মহত্তে" অনুভব করিল, তাহার মন যেন কিসের প্রতীক্ষায় ব্যাপ্ত রহিয়াছে। ক্লমে সমরণ হইল, ছিল। যখন সাড়ে বারোটা হইয়া গেল, তখন মন্দাকিনী আসিবে না কঝিয়া শয়ন করিয়াছে। এই ভাবিতে ভাবিতে পার্শব পরিবত্তন করিল। আমনি তাহার পা মন্দাকিনীর গায়ে ঠেকিল। কোমল পশে অনাথ বিসিমত হইয়া উঠিয়া বসিল । দেখিল মন্দাকিনী ঘমাইতেছে। জ্যোৎসনা তখন সরিয়া গিয়াছে; মন্দাকিনীর মুখখানির উপর পাঁড়য়াছে। সেই আলোকে অনাথ সৃপ্তিমানো নবযৌবনা পত্নীকে দেখিতে লাগিল। বড় সন্দের বলিয়া মনে হইল। ঠোঁট দখোন এক একবার কাঁপিয়া উঠিতেছে: মন্দা বঝি তখনও সবগুন দেখিতেছিল ? সল্লীর মুখপানে চাহিয়া অনাথ ভাবিতে লাগিল, এ বড় সন্দের ত ! এ যেন নগেন্দুবলার চেয়েও সন্দের। দই তিন মিনিট এই ভাবে কাটিলে অনাথ সহসা মুখ ফিরাইয়া লইল; চক্ষ বজিয়া অসফটমবরে বলিল, “হে ঈশ্বর, আমার হৃদয়ে বল দাও।” চন্দালোক হৃদয়ে দকবলতা অনিয়ন করে ভাবিয়া অনাথ তাড়াতাড়ি বাতিটা জালিয়া ফেলিল। কেরোসিনের তীব্র আলোকে মনে হইল বঝি স্বপনজড়িমা ভাঙ্গিমা গিয়াছে। মন্দাকিনীর পায়ে হাত দিয়া তাহাকে জাগাইল । মন্দা উঠিয়া অত্যন্ত সংকুচিত হইয়া পড়িল। কাপড়চোপড়গুলা কিছুতেই যেন আর বাগ মানে না! অনেক চেষ্টার পর, রীতিমত ঘোমটা দিয়া অনাথের পানে একবার আড়চোখে চাহিয়া, মুখ নত করিয়া বসিল । নাথ ডাকিল, “মন্দাকিনী।” মন্দা নিমেষমাত্র কাল ঘোমটার ভিতর হইতে অনাথের পানে দক্ষিপাত করিরা আবার চক্ষ নমাইল । “মন্দাকিনী আজ তোমায় কেন ডেকেছি জান ?” মন্দা ঘাড় নাড়িয়া বলিল সে জানে না। অনাথ বলিল, “তবে শোন। আমার সঙ্গে তোমায় কলকাতায় যেতে হবে। যাবে?” মন্দা উত্তর করিল না। . . অনাথ বলিল, “যাবে কি ?” অতি মদ বরে মন্দা বলিল, “আমাকে যেখানে নিয়ে যাবে সেইখানে যাব।” “আমার বাপ মার অমতে অজানতে। যেতে পারবে ?” মন্দা কোনও উত্তর করে না। অনাথ বলিল, “কথা কও। এখন লজার সময় নয়। যেতে পারবে ? বল।” মন্দা বলিল, “মা বাপের অজানতে কেন ? তাঁদের অনুমতি নাও না! এখন ত সকলেই বিদেশে সত্নী নিয়ে যাচ্চে।” “সে প্রস্তাব আমি হার কাকাকে দিয়ে করিয়েছিলাম। বাবার মত নেই। বলেছেন ১২৩