পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—ওর এখন মতিগতির স্থিরতা কি ? নিজে যে চলোয় ইচ্ছে হয় সেই চলোয় যাক। বাড়ীর বউটাকে যে জুতো মোজ্য পরিয়ে ব্রাহ্মসমাজে নিয়ে যাবে, সে আমি বেচে থাকতে দেখতে পারব না ।” “তুমি আমায় ব্রাহ্মসমাজে নিয়ে যাবে সত্যি কি ?” “আমরা দুজনে পবিত্র ব্রাহ্মধমে দীক্ষিত হব।” মন্দাকিনী প্রমাদ গণিল। স্বামী কি রহস্য করতেছেন ? বলিল, “আমি ঠাকুর দেবতা মানি, কি ক'রে ব্রহ্মজ্ঞানী হব ?” অনাথ রীতিমত গাম্ভণীযের সহিত বলিল, “ও সকল বিশ্ববাস তোমায় পরিত্যাগ করতে হবে। ওসব ভুল। আমি কি করে এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করি ?” “তুমি লেখাপড়া শিখেছ। আমার কি বন্ধি আছে ?” “তোমাকে লেখাপড়া শেখাব। কলকাতায় গিয়ে সমস্ত বন্দোবস্ত করে দেবো।u মেয়েদের স্কুলে ভতি করে দেবো।” মন্দাকিনী ঘাড় নাড়িয়া বলিল, “লেখাপড়া যদি শিখতে হয় তবে আমি তোমার কাছে শিখব। বড়ো বয়সে আমি ইস্কুলে যেতে পারব না।” অনাথ কিয়ৎক্ষণ চপ করিয়া থাকিয়া বলিল, “তুমি ভুল বঝছ। আমরা দুজনে একত্রে এক বাড়ীতে থাকব না ত।” মন্দাকিনী বিসিমতস্বরে জিজ্ঞাসা করিল, “তবে আমি কোথায় থাকব ?” “সেই ইস্কুলেই; সেইখানে মেয়েরা পড়ে, থাকে, রীতিমত সকল বন্দোবস্ত আছে।” মন্দা সিথরস্বরে বলিল, “তবে আমি যাব না।” অনাথ দেখিল যেখানে রোগ, সেখানে চিকিৎসা হইতেছে না। সকল কথা খুলিয়া বলা আবশ্যক। বলিল, “কেন আমি এত দিন তোমার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করিনি তুমি কিছু শনেছ ?” মন্দা বলিল, “শুনেছি, কিন্তু ভাল বুঝতে পারিনি।” “তবে বঝিয়ে বলি শোন। প্রথমতঃ আমাদের বিবাহ ভালবাসার বিবাহ নয়। দ্বিতীয়তঃ, তার অনুষ্ঠানাদি পৌত্তলিক মত অনুসারে হয়েছে। এই দুটি কারণে, আমার মতে, আমাদের বিবাহ অসিদ্ধ । সুতরাং তুমি আমার স্ত্রী নও, বোনের মত । বুঝলে ?” “না, ছিছি ” “তবে আর একটা কথা খুব স্পষ্ট করে বলি শোন। আমি তোমায় ভালবাসনে ৷” মন্দা বলিল, “তা ত দেখতেই পাচ্চি।” - "আমি আর একজনকে ভালবাসি।” “দেখ মন্দা, আমি তোমায় ভাল না বেসে বিয়ে করেছি, সেই তোমার প্রতি যথেষ্ট অত্যাচার করা হয়েছে। তার উপর তোমার বাকী জীবনটা নিৰ্ম্মফল করে দিয়ে আর সৰ্ব্বনাশ করব না। আমরা দুজনেই ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করলে আমাদের বিবাহ-বন্ধন ছিন্ন করা যাবে। তখন তুমি সবাধীন হবে, যাকে ইচ্ছে বিবাহ কোরো। এই জন্যে কলকাতায় গেলে আমাদের একত্র বাস অসম্ভব। সব কথা বুঝতে পারলে ?” মন্দাকিনী বেশী করিয়া ঘোমটা দিল। কোনও উত্তর করিল না, প্রশন করিল না, কাঠের পুতুলের মত বসিয়া রহিল। কিরৎক্ষণ পরে অনাথ জানিতে পারিল, মন্দা কাঁদিতেছে। ইহাতে অনাথ মনে ক্লেশ অনুভব করিল। ইচ্ছা করিল মন্দার মাখের আবরণ খলিয়া তাহার চক্ষ দুইটি মছাইয়া দেয়; কিন্তু তাহার তীক্ষ কত্তব্যজ্ঞান তাহাকে বাধা দিল । এই গভীর রাত্রে, নিজন গহে, যুবতী সত্ৰীলোকের অঙ্গসপশ করা,নীতিসঙ্গত বলিয়া মনে হইল না। সুতরাং শাধ বলিল, “মন্দা, কাঁদ কেন ? আমি তোমার মঙ্গলের ১২৪