পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এইবার ক্ষদিরাম খড়া সবসমক্ষে বরকত্তাকে বললেন- “কন্যাকত্তা পণস্বরুপ আর দুইশত টাকা ধরিয়া দিউন, মিটমাট করিয়া ফেলা যাইতেছে। কি বল হে ভট্টাচাৰ্য্য ?” —সেই মাত্র একজন ভট্টাচাৰ্য্যকে অশাস্ত্রজ্ঞ বলিয়া উপহাস করিয়াছে। ভট্টাচাযৰ্ণ প্রমাণ করিবেন, শাস্ত্রজ্ঞান তাঁহার পণ্যেমাত্রায় আছে। তিনি বলিলেন—“টাকা ধরিয়া দিলে শাসেল্লর হাত হইতে পরিত্রাণ পাওয়া যায় নাকি ?” সেই স্থানে কন্যাযাত্রী কলেজের একজন জ্যাঠা ছোকরা চশমা অটিয়া দাঁড়াইয়া ছিল। সে বলিল—“ঢের দেখেছি, আর ভট্টাচাৰ্য্যাগরি ফলাতে হবে না। নর শব্দ রপ কর দেখি ?” - ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় এই তীক্ষা বিদ্রুপে আসন ছাড়িয়া একলমেফ উঠানে নামিয়া পড়িলেন। দই হাত অতি বেগে ঝাড়িয়া বলিলেন—“এ বিবাহে যদি আমি মন্ত্র বলাই তবে আমার চতুদশ পর্ষ নরকপথ হইবে।” বরপক্ষীয় পাঁচজন হাঁ হাঁ করিয়া পড়িল—“ভট্টাচায্য মহাশয়, করেন কি ! করেন কি ?” ভট্টাচাৰ্য বরকত্তাকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন—“যদি ব্ৰহ্মশাপের ভয় থাকে তয়ে উঠাও বর।” . বর বলিল—“আমি ও আঙ্গলকাটা মেয়েকে বিবাহ করিব না"-—বলিয়া সে আসন ছাড়িয়া উঠিয়া পড়িল । পাড়ার যাহারা উপস্থিত ছিল, তাহারা বরের এবম্বিধ আচরণ দেখিয়া বলিয়া উঠিল “কি! বিবাহ করিবে না ? লাঠির চোটে মাথায় খুলি ভাঙ্গিয়া দিব না।” শৈলবালার মাছা হইয়াছিল। এতক্ষণ কেহ তাহার খবর রাখে নাই। একটা দাসী গ্যামাচরণকে ঠেলিয়া বলিল—“ওগো বাব মেয়ে যে এলিয়ে পড়ল।” তৎক্ষণাৎ শৈলকে ধরাধরি করিয়া অন্যত্র পাঠান হইল ! - এই গোলমালটা থামিলে বরকে আর খুজিয়া পাওয়া গেল না। বলিয়াছি, প্রথমাবাঁধই সে বিবাহ করিতে নিতান্ত অনিচ্ছুক ছিল। পিতামাতার একান্ত উৎপীড়নে বিবাহ করিতে আসিয়াছিল। সে এই সুযোগে চম্পট দিল । মখে চোখে ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দিয়া, বাতাস করিয়া, অনেক কটে, শৈলবালার চেতনা সম্পাদিত হইল। শৈলর মা কাঁদিয়া বলিলেন—“উহাকে আর বাঁচাইয়া কি হবে গো। উহার যে কপাল পড়িল।" আমরা এতক্ষণ মোহিনীর কোনও উল্লেখ করি নাই। সে কলিকাতাতেই ছিল। আশা বলিল—“বাবা, আমি মোহিনীকে আনিয়া বিবাহ দিব।” এই বলিয়া মহত্তের মধ্যে নিজের ডেস্ক হইতে একখানা বহৎ ছর বাহির করিয়া লইয়া পাগলের মত মোহিনীর বাসার উদ্দেশে ছটিল। বাসার দরজা তখনও বন্ধ হয় নাই। দইটা তিনটা - করিয়া সিড়ি ডিঙাইয়া দোতলার ছাদে গিয়া পেপছিল। দোতলার ছাদে একটি মাত্র কক্ষ, তাহাতে মোহিনী একাকী থাকিত। দয়ার বন্ধ, ঘরে আলো জনলিতেছে। কম্পিত স্বরে আশ্য ডাকিল—“মোহিনী, মোহিনী!” মোহিনী উঠিয়া দয়ার খলিয়া দিল। সংক্ষেপে আশা মোহিনীকে সমস্ত ঘটনা বলিয়া বলিল,—“ভাই তুমি এ রাত্রিতে আমার ভগনীকে বিবাহ করিয়া আমাদের জাতি কুলমান রক্ষা কর। নহে ত বল, এই ছরণী আনিয়াছি, মোহিনী আপাদমস্তক শিহরিয়া আশর হাত হইতে ছরেী ঝাড়িয়া লইল ; বলিল, “ভাই, চল, আমি তোমার ভগ্নীকে বিবাহ করিব। আত্মহত্যা করিতে হইবে না।” মোহিনীর চক্ষ দিয়া দরদর ধারায় অশ্র বহিল। এই রাত্রে যে শৈলবালার বিবাহ, তাহা সে পর্বোবধিই অবগত ছিল। টেবিলের উপর একখানি কাগজ পড়িয়া রহিয়াছে, তাহাতে সে দই মিনিট পর্বে "বিসজন" নাম দিয়া একটি কবিতা আরম্ভ করিয়াছে —তাহার শেষ পংক্তিটির কালি এখনও শুকায় নাই। و ب&؟