পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই অত্যাচারের প্রতিফল পাইতে কিছুমাত্র বিলম্ব হইল না। রন্ধন সমাপ্ত হইবার পবেই মন্দা প্রবল জনরে আক্রান্ত হইল। অনাথ সনান করিয়া জল খাইয়া টেশনে গিয়াছিল গাড়ীর খবর লইতে, এবং হেমন্তকুমারকে টেলিগ্রাম পাঠাইতে। ফিরিয়া আসিয়া দেখে, এই ব্যাপার। মন্দার গায়ে হাত । দিল, গা একেবারে পড়িয়া যাইতেছে। চক্ষ দুইটি জবাফলের মত লালবণ। শণীতে হাত গা ঠক ঠক করিয়া কাঁপিতেছে। সঙ্গে না আছে বিছানা বালিস, না আছে বাহুল্য বস্ত্র। মন্দা কিসেই বা শয়ন করে, কি বা গায়ে দেয় ? অনাথ বলিল, “একটু অপেক্ষা কর, আমি একখানা কবল চেয়ে এনে বিছানা করে झझि ।” মন্দাকিনী বলিল, “তুমি আগে খেতে বস। তোমাকে ভাত বেড়ে দিই, তারপর শোব এখন ’ অনাথ বলিল, “পাগল ! এখন ভাত বাড়তে হবে না। তোমার এমন অসুখ, আমি কি খেতে পারি ?” মন্দা কাঁপিতে কাঁপিতে বলিল, “আমার অসুখ তা কি ? তা বলে তুমি উপবাসী থাকবে ? দুদিনের কন্টে তোমার মুখ শুকিয়ে আধখানি হয়ে গেছে।” অনাথ দোকানীর নিকট চাহিয়া একখানা বালপোষ আর খান দই তিন কবল লইয়া আসিল । সেইগুলি দিয়া বিছানা করিয়া মন্দাকে বলল, “শোবে এস।” মন্দা বলিল, “ওকি কথা ? তুমি না খেলে আমি শোব না।” অনাথ শানিল না—মন্দাকিনীকে শয়ন করাইল। বিছানায় শইয়া মন্দাকিনী দই তিন 'বার বলিল, “ভাত বেড়ে নিয়ে খাও তুমি আপনি । ঠাণ্ডা হয়ে গেলে খেতে কট হবে।” : কিন্তু আর বেশীক্ষণ জিদ করিবার শক্তি তাহার রহিল না; অলেপ অপে জরঘোরে অচেতন হইয়া পড়িল । তিন দিন পরে যখন মন্দাকিনীর জ্ঞান হইল, তখন সে চক্ষ খলিয়া দেখিল, বিছানার কাছে স্বামী বসিয়া। অনাথ জিজ্ঞাসা করিল, “মন্দা কেমন আছ ?” মন্দা বালল, “ভাল আছি। তুমি ভাত খেয়েছ ?”—বলিতে বলিতে আশেপাশে দটি করিয়া দেখিল, সে দোকান নহে, কাহার গহ; পালঙ্কের উপর শয়ন করিয়া রহিয়াছে। জিজ্ঞাসা করিল, “একি ! আমি এ কোথায় রয়েছি ?” অনাথ বলিল, “মন্দা, তোমাকে যে আর কথা কইতে শািনব, তা ভাবিনি। তিন দিন কেটে গেছে। এ এখানকার জমিদারের বাগানবাড়ী r মন্দা বলিল, “তিন দিন গ “হাঁ মন্দ, তিন দিন তুমি অচেতন হয়ে ছিলে। এখন যদি বাঁচাতে পারি, তবেই সব সাথক ।” هs; مه মন্দা কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া অত্যন্ত ক্ষীণ স্বরে বলিল, “তোমায় একটা কথা বলব ?” অনাথ বলিল, “কি মন্দা ?” “আমাকে বাঁচও না।” এ কথা শুনিয়া অনাথের চক্ষ দিয়া জল আসিতে লাগিল। লীগল, “ছি মন্দা, ও কথা কি বলতে আছে ? তুমি ভাল হবে, তুমি বাঁচবে।” মন্দার ঠোঁট দটি কপিয়া উঠিল । জলভরা চোখ দুইটি অণাথের পামে ফিরাইয়া বলিল, “কি হবে আমার বেচে ? আমায় যেতে দাও।” অনাথ বলিল, “না মন্দা, তোমাকে আমি যেতে দেবো মা ।” “কি করবে আমায় নিয়ে ?” “আমি তোমায় ভালবাসব।” حياته রোগিণীর দলবল মস্তিক চিন্তার ভার আর সহিতে পারিপ না। চক্ষ মদিয়া মন্দা ձ Ե