পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বন্য-শিশু 说>议 প্রচার পরিমাণে শীতবসাদি সংগ্রহ করিয়া ১লা ডিসেম্বর কুমন্দনাথ স্মী ও দই বৎসর বয়স্ক শিশুপত্র সমভিব্যাহারে সিমলা পাহাড় যাত্রা করিলেন। শ্রেষ্ঠ জ্যোতিষীকুত পঞ্জিকায় সে দিনটি যাত্রার পক্ষে শুভতম বলিয়া পরিগণিত ছিল। কিন্তু অলক্ষ্যে থাকিয়া অলখনিরঞ্জন মানুষের গণনায় কখন কি উলটপালট করিয়া দিলেন, গ্ৰহগণের অবস্থানের কোথায় কি বিপৰ্য্যয় ঘটাইলেন, কেহ জানে না। এই দম্পতীর পক্ষে এমন অশভক্ষণে যাত্রা জীবনে আর ঘটে নাই। বৎসরখানেক ধরিয়া ম্যালেরিয়া জনরে ভুগিয়া কুমন্দনাথের দেহখানি অথিচৰ্ম্মসার হইয়া পড়িয়াছিল। ডাক্তার বললেন, “আপনি পশ্চিমে গিয়ে শীতঋতুটা যাপন করে আসন" কুমন্দবাবর সন্ত্রীর নাম গিরিবালা। সিমলা পাহাড় তাঁহার জন্মস্থান। নয় দশ বৎসর বয়স অবধি তিনি সিমলায় ছিলেন—তাঁহার পিতা কালীকান্ত মিত্র মহাশয় সিমলায় কম করতেন। গিরিবালা সবামীকে ধরিয়া বসিলেন, “সিমলা চলt" কুম িদনাথ বলিলেন, “সব্বনাশ ! এই শীতে সিমলা ?” “ওগ্যে যত ভয় করছ তত কিছুই নয়। সিমলায় শীত ভারি সন্দর। বরফ পড়া ত কখনো দেখনি, তাও দেখবে; সে অতি চমৎকার দশ্য।” কুমন্দবাব ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি বললেন, "ক্ষতি নেই, সে বরং আরও ভাল। তবে যদি খুব সাবধানে থাকতে পারেন।” ডাক্তারের উপদেশ পঙ্খানুপুঙ্খরুপে পালনপ্ৰবক তাঁহারা যাত্রা করিলেন। তিন সপ্তাহকাল মহা আনন্দে সিমলায় কাটিল। সিমলা কালেক্টরী আফিসে কুমন্দনাথের একটি সতীৰ্থ ছিলেন—যদবোব। তিনি একটি সন্দর দ্বিতল বাটী ঠিক করিয়া রাখিয়াছিলেন। কুমন্দনাথ প্রথম প্রথম বেশী চলাফেরা করিতে পারিতেন না। কখনও সোফায় শইয়া সিমলা গাইডবুক হাতে সিমলার সববর কল্পনায় পযর্ণচনের সুখ অনুভব করিতেন, কখনও বা বাতায়নের নিকট চৌকি পাতিয়া রাজপথে ভারবাহী উল্ট্রশ্রেণী, এক্কা, টোঙ্গা কিংবা ঝাপানের গতিবিধি নিরীক্ষণ করিতেন ! ভারি আনন্দ বোধ হইত—সবই নতন । বিশেষতঃ একটা দধে-আলতা বণের পাহাড়ী মুখ দেখিলে কুমন্দনাথের পরিতৃপ্তির সীমা থাকিত না। অদরে কোনও খদের গায়ে সিড়ির মত থাক থাক কাটা শস্যক্ষেত্রপাহাড়ীদের কুটীর, তাহাদের বেশভূষা, তাহাদের আকার প্রকার—এ সবেরই প্রতি কুমন্দবাব কেমন একটা অনিববচনীয় আকর্ষণ অনুভব করিতেন। আবার নতন বিস্ময়। ২০শে ডিসেম্বর ভাল রকম একটা তুষারপাত হইয়া গেল । কুমদবাব তাঁহার শিশ পত্রেরই মত আনন্দে অধীর। গিরিবালা প্রসন্ন হস্যে স্বামীর আনন্দে আনন্দিত হইলেন। আজ ২৫শে ডিসেম্বর, বড়দিন । প্রাতে আটটার সময় যদবাব আলস্টার গায়ে দিয়া, বটের উপর পট্টি বাঁধিয়া, সদেীর্ঘ বরফের লাঠি হাতে করিয়া বালগঞ্জে কুমন্দবাবর বাসায় আসিয়া দশন দিলেন। কুমন্দনাথ তখন সবেমাত্ৰ শয্যাত্যাগ করিতেছেন। দেখা হইবামাত্র যদবাব হাস্যমুখে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কেমন ? গায়ে একটা বল পেলেন ?” “হ্যাঁ, অনেকটা উন্নতি দেখতে পাচ্চি। দ্য বেলায় আধসের তিনপোয়া মটন হজম করছি।” যদবাব ভ্রম্যগল কুঞ্চিত করিয়া, যেন ভারি নিরাশ হইয়া ধীরে ধীরে বললেন, “মোটে আধসের তিনপোয়া ? তাও দুবেলায় ?” কুমন্দবাব হাসিয়া বললেন, “মশায়, কাল সন্ধ্যেবেলা আমাদের এখানে আপনার 3లి: