পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যদবাব বলিলেন ১১টার সময় তাহদের রিকশ এবং ইহাদের জন্য তিনখানি খালি রিকশ (একখানি খোকার চাকরের জন্য) আসিয়া উপস্থিত হইবে। বলিয়া তিনি বরফের লাঠি হাতে করিয়া হাসিতে হাসিতে মস মস শব্দে অন্তহিত হইলেন। কুমন্দবাব ভাবিতে লাগিলেন, “বাসরে । একটা যেন অসর বিশেষ ! কি করলে আমন হওয়া যায় ?” কিয়ৎক্ষণ পরে এই কক্ষে গিরিবালা আসিলেন। তিনি কিন্তু তারাদেবী যাইবার প্রস্তাব শনিয়া ততটা হর্ষ প্রকাশ করিলেন না। বলিলেন, “আবার সঙ্গী যোটলে কেন ? আমরা দ'জনে যেতাম। তোমর সঙ্গে কথাও কইতে পাব না কিছুই নয়।” কুমন্দবাব বলিলেন, “বিদেশে সংগীহীন হয়ে কোথাও যাওয়া কিছ নয়--আর এঁরা সব জানেন শোনেন; ভাল করে সব দেখিয়ে শুনিয়ে দিতে পারবেন।” গিরিবালা মন্দস্বরে বলিলেন, “আমিও এখানকার সব জানি, সব শনি।” তখন বেলা প্রায় ১cটা। ইহারা ক্ৰমশঃ সনানাহার শেষ করিলেন। খোকাকে দুধ খাওয়ান হইল। তাহাকে কাজল পরান হইল। সাজসজা হইল। সাড়ে এগারোটার সময় যদবাকর ফটকে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। যাত্রা কারবার সময় গিরিবালার দক্ষিণ চক্ষ পন্দিত হয় নাই, ভাবী অমঙ্গলের কোন সচেনাই তাঁহাকে চঞ্চল করে নাই! তথাপি কেমন বিষণ্ণ-মনা হইয়া রহিলেন। এখন যখনই এই তরাদেবী যাত্রা ঘটনা তাঁছার স্মরণ পথে উদিত হয়, সমস্ত দেহ শিহরিয়া উঠে। সিমলায় সীমা পার হইয়া কুমদবাব রিকশ হইতে অবতরণ করিয়া যদবাবর সহিত পদব্রজে চলিতে লাগিলেন । তাঁহা দেখিয়া বধদের সাধ হইল, তাঁহারাও হাঁটিয়া যাইবেন। নামিলেন; কিছদর যাইতে না যাইতে পরিশ্রান্ত হইয়া, আবার রিকশয় উঠিলেন। যদুবাব সহাস্য সন্তব্য করিলেন, “মেয়েদের কোন ক্ষমতাই নেই, কেবল সকল কাযেই একটা অকুপকু আছে। এই পাহাড়ের পথে চলা কি ওদের কায ।” গিরিবালা সঙ্গিনীদের আগে হাস্যালপে আবার প্রফুল্ল হইয়া উঠিয়াছেন, তাঁহার মলে আর কোনও বিষমতা নাই । দুইটার সময় তারাদেবীতে রিকশ পৌছিল। সে একটা পর্বতচড়া। স্বীয় পাদমসুল হইতে প্রায় দুই শত ফিট উচ্চ রিকশ ছাড়িয়া ইহারা চড়ারোহণ আরম্ভ করিলেন। মন্দিরের অভ্যন্তরে পাথরে সিন্দর মাখান তারাদেবী বিগ্রহ। দেখিলে ভীতির সঞ্চর হয়। মেয়েরা পজা আদি করিলেন। পুরুষ দুইজন চতুদিকে ঘুরিয়া সবভাবের শোভা দশন করিতে লাগিলেন। একদিকে গভীর খদ, অন্যদিকে সমষ্টি অরণ্য। অত্যন্ত নিজন, ভাবক-জনপ্রিয় সৰ্থন। অদরে হিমালয়ের তুষারাবত শঙ্গে দেখা যাইতেছে। মধ্যাহের প্রখর রৌদ্রে অতি-ঔজল্যে বকাঝকা করিতেছে। মন্দিরের প্রজারী বাবাজী ইহাদের সহিত গল্প আরম্ভ করিল। বাবাজীর বাড়ী জিলা হোসিয়ারপরে। কিরাপ আয় হয় ? সে অতি সামান্য। পাহাড়িয়াগণ প্রায়ই পয়সাকড়ি দেয় না, কেহ বা গোধম, কেহ বা আল, কেহ বা মধ্য দিয়া যায়। বড়লোক, দলপতি, রাজা মহারাজ আসিলে একদমে অনেক লাভ হইয়া যায়। জলের বড় কট। নীচে বাউলিতে ঝরণার জল সঞ্চিত থাকে, সেইখান হইতে কলসী ভরিয়া লইয়া আসিতে হয়। এই সময়, অদরে চিড়কক্ষের তলে, শিশর কুন্দনধনি শনা গেল। একটা তাহার দিকে দটিপাত করিয়া পরোহিত বলিল, “বাবজি, আজ দইদিন উহাকে লইয়া মহা বিপদে পড়িয়াছি।” - বন্ধদ্বয় ধীরে ধীরে শিশুর কাছে গিয়া উপস্থিত হইলেন । তাহার গায়ে কিসের চমড়ার একটা জামা। মাথায় স-লোম SHಳ್ಗಣೆ অদ্ভুত টপী। গলায় কতক