পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গলি নানাকৃতি হাড়গাঁথা মালা। বৎসর দই বয়স হইবে। বাবাজী বলিল, দুইদিন হইল ছেলেটিকে সে কুড়াইয়া পাইয়ুছে। কোনও পাহাড়িয়া রমণী ইহাকে হারাইয়া গয়াছে, আজিও খুজিতে তালিল না। কেই বা ইহাকে খাওয়ায়, কেই বা কি করে! কুমন্দনাথ যদবাবকে বলিলেন, "চলন একে আমরা নিয়ে যাই।” “পাগল হয়েছেন ? কি করবেন একে নিয়ে ?” “মানুষ করব।” “যদি এর মা এখানে খুজতে আসে ?” নাথ স্ত্রীকে নিজনে ডাকিলেন। তাঁহাকে বলিতে প্রথমে তিনি স্বীকৃত হইলেন না। কুমন্দনাথ অসহায় শিশুটির পক্ষ অবলম্বন করিয়া সন্ত্রীকে অনেক বঝাইলেন। বলিলেন, “দেখ, এরা অসভ্যজাতি, এদের কি ছেলে হারান্সে কোনও দুঃখ আছে ? তাহলে , মর আসত, নিয়ে যেত। এখানে থাকলে ছেলেটি দ্য দিনে মারা পড়বে।” এ কথায় গিরিবালার মাতৃহাদয় বিচলিত হইল। তিনি শিশুটিকে লইতে সমত হইলেন। বোতলে খোকার জন্য দগধ ছিল, তাহার কিয়দংশ তাহাকে পান করান হইল। নামিবার সময় উপস্থিত। ৪টা বাজিতে বেশী বিলম্ব নাই। ৫টার সময় সয্যাসত হইবে। খোকা স্বীয় পিতৃক্লোড় দখল করিল—তাহার চাকরের কোলে বন্য-শিশকে দেওয়া হইল। রাত্রি ৭টার সময় ইহারা দলবলে সিমলায় প্রত্যাবন্তন করিলেন। -- ክ : ክ পরদিন গিরিবালা বন্য-শিশকে উষ্ণজলে উত্তমরূপে ধৌত করিয়া, গলার মালা খলিয়া, ফ্ল্যানেলে মুড়িয়া, কাজল পরাইয়া, মানুষের মত করিয়া তুলিলেন। কুমুদ্রনাথ বলিলেন, ইহার মাম রহিল বানৈা'। খোকা এইবার তাহার সহিত ভাব করল। এতক্ষণ তাহার কিম্ভূতকিমাকার বেশ দেখিয়া ভয়ে তাহার কাছে ঘে’সে নাই। সন্ধ্যাবেলায় যদবাবর নিমন্ত্রণ ছিল। তিনি আসিয়া প্রমাণ করিয়া দিলেন যে ব্যথা আস্ফালন করা তাঁহার অভ্যাস নহে। আহারান্তে বলিলেন, “কোথেকে একটা ছেলে কুড়িয়ে আনলেন, একদিন এর ফলভোগ করতে হবে।” কুমন্দনাথ হাসিলেন: বলিলেন, “মশায়, এ ত আর বাঘের শিশু নয় যে বড় হয়েও জাতিধৰ্ম্ম ভুলবে না, একদিন ঘাড় শষে রক্ত খাবে!" যদবাবর কোনও উত্তর যোগাইল না। একটা থমকিয়া গিয়া, এক মিনিট পরে উচ্চহাস্য করিয়া বলিলেন, “তা ঠিক, তা ঠিক। তা, দেখনে মানুষ করে, এ বনো যদি পোষ মানে।” ধন্য-শিশ, সারাদিন বেশ খেলা-ধলা করিল; কিন্তু পরদিন প্রভাতে দেখা গেল, তাহার গা ভারি গরম হইয়াছে—জর হইয়াছে। সারাদিন ছেলেটা জরঘোরে অচেতন হইয়া পড়িয়া রহিল। বৈকালে কুমন্দনাথ ডাক্তার আনাইলেন। ডাক্তার বলিল, ঠাড়া লাগিয়া ফসফসে বিকৃতি ঘটিয়াছে। ঔষধপত্রের ব্যবস্থা হইল। রীতিমত চিকিৎসায় দইদিন কুটিল। কিন্তু শিশটি কিছতেই বাঁচিল না। ২৯শে ডিসেম্বর রাত্রি দইটার সময় গিরিবালার কোলে তাহীর মৃত্যু হইল। গিরিবালা অনেক কাঁদিলেন। বলিতে লাগিলেন, “অহা কার বাছা ? আমরা যদি নী আনি ত ভালই করি। কেন এ কুবধি হল ? মিছামিছি নিমিত্তের ভাগী হতে হল " এখন যদি তার মা আসে তবে কি হবে, কি জবাব দেবো ?” সঙ্গীহারা হইয়। খোকা একটা বিমনা হইল। থাকে থাকে আর জিজ্ঞাসা করে, "বন। কোথায় গেল ?” - সারাটা দিন এই দম্পতির মনের অসুখে কাটিল। রাত্রি প্রায় নয়টা: আহারাদির পর কুমদেবাব শয়নের জন্য প্রস্তুত হইতেছেন, এমন সময় )రి (