পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চটিজত পায়ে, অলথাল বেশে, মোহিনী আশর সঙ্গে চলিল। তখন রাত্রি দশটা হইবে। একটার মধ্যে শৈলবালার সঙ্গে মোহিনীর শুভবিবাহ যথাশাস্ত্র সম্পন্ন হইয়া গেল। পাঠক, রাগ করবেন না। ঘটনাটা কিছু নভেলিয়ান রকমের হুইল বটে ;–কিন্তু এ জগতে বাস্তবজীবনেও যে প্রতিদিন শত শত নভেলের ঘটনা ঘটিতেছে। চতুর্থ পরিচ্ছেদ n দ্বিরাগমন মোহিনী পিতার বিনা অনুমতিতে তাঁহার অজ্ঞাতসারে বিবাহ করিয়া ফেলিল । কিন্তু পিতা ইহা শনিয়া কি বলিবেন ? তিনি যদি এই অপরাধ ক্ষমা না করেন ?— বিবাহের পর এই ভাবনা মোহিনীর ও তাহার স্বশারের প্রধান ভাবনা হইল। শ্যামাচরণবাক কন্যাদায় হইতে উদ্ধার হইয়াছেন; মোহিনীকে জামাতা পাইয়। তাহার বহুদিনের সযত্নপালিত আকাঙ্ক্ষাটি পণ্য হইয়াছে; কিন্তু, এই একটা সমস্যার জন্য তানন্দটকু প্রাণ ভরির উপভোগ করিতে পারিতেছেন না। গৃহিণী বলেন,—“কে জানে বাপ কপালে কি আছে । ছেলের মা বাপ বউকে নিলে হয়।”

  • বশুরবাড়ীতে প্রায়ই মোহিনীর নিমন্ত্রণ হইতে লাগিল। শনিবার ত ফাঁক ধায় না। মোহিনী একদিন শৈলকে বলিল—“দেখ শৈল, আমি মনে মনে ভাবি যে ভাগ্যে তোমার তাঙ্গলটি কাটিয়াছিল—তাইত—নহিলে এতদিন তুমি— " আর বলিতে পারিল না। সে অবস্থা কি কল্পনাতেও আনিতে পারা যায় ? শৈল স্বামীর এই অসমাপ্ত কথাটুকু বঝিল। পাঠ্যপুস্তকের অনেক কথা তখনও সে সম্পণেরপে বিস্মত হয় নাই। মনে মনে বলিল --ঈশ্বর বাহা করেন, মংগলের জন্যই করেন।

মোহিনী যখনই আসিত, তখনই শৈলর জন্য কিছ না কিছু সখের জিনিষ লইয়া আসিত, কিন্তু শৈল মহা আপত্তি করিত—কিছুতেই লইবে না। বলিত,—“কোথায় রাখব ? সবাই দেখে ফেলবে।” মোহিনীও ছাড়িত না; বলিত,-“দেখে দেখবে, তুমি ত আর চরি করছ না।" শেষকালে শৈলকে লইতে হইত, নহিলে স্বামী রাগ করেন। বিশেষ চেন্টা করিত, যাহাতে কেহ জানিতে ন পারে, কিন্তু প্রত্যেক বারেই তাহার সকল চেষ্টা নিম্ফল হইত। ধরা পড়িয়া প্রথম প্রথম লজায় যেন সে মরিয়া যাইত; কিন্তু বরকতক এইরূপ হইতে হইতেই লজ্জা অনেক হ্রাস হইয়া আসিল। মোহিনী শৈলকে একবার বলিল—“আমাকে পত্র লিথো, নইলে এ শনিবার আমি আসব না।” শৈল অত্যন্ত সঙ্কুচিত হইয়া বলিল,—“কি লিখতে হয় আমি কি তা জানি - - তোমার দিদি তাঁর স্বামীকে যে সব চিঠি লেখেন, তা কি তুমি দেখান ?” “হাঁ, কতবার দিদি আমাকে দেখিয়েছে।” t “সেই রকম তুমিও লিখবে।" শৈল মাথা নড়িয়া বলিল—“সে আমার ভারি লড়জা করবে;–সে আমি পারব না।” “আগে দিদির মত বড় হই”—একথা বলিয়াই শৈল হাসিয়া ফেলিল। সে বেশ বঝিল এ ওজরটি নিতান্তই "পংগ” হইতেছে। তাহার সমবয়স্কাদের সকলেরই বিবাহ হইয়া গিয়াছে। সবামীকে সকলেই চিঠি লেখে। চিঠি লিখিতে ইচ্ছা তাহারও হইত, কিন্তু সে কথা কি সবামীর কাছে স্বীকার করিতে আছে ? ছি! বেহায়া মনে করিবেন যে । চিঠি লিখিবার জন্য শৈলকে বেশী বড় হইতে হইল না; দই তিন সপ্তাহ বয়স বাড়িতে না বাড়িতেই সে সবামীকে চিঠি লিখিতে আরম্ভ করিল। প্রথম প্রথম চিঠিগলি নিতান্তই ক্ষাতি হইত। ক্ৰমে বাড়িয়া বাড়িয়া দই তিন পৃষ্ঠা করিয়া হইতে రి:R