পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“চাকর কোথায় ?” “তাহাকে রিপন হাসপাতালে পাঠাইয়াছি।” “বাঁচিবে ত ?” “শঙ্কা নাই, বাঁচবে। ছেলেও খন করিত, কিন্তু খোদাবক্স সিপাহী গিয়া তাহাকে ধত করে।” কুমন্দবাবা অতিশয় বিস্মিত হইয়া পড়িলেন। মনে হইল, কল্য রাত্রির সেই পাহাড়িয়া রমণী নহে ত? দারোগাকে বললেন, “বন্দিনী কোথায় ?” দারোগ কুমন্দবাবকে গারদ ঘরে লইয়া গেল। কুমন্দনাথ দেখিলেন, সেই বটে, সেই পাহাড়িয়া সন্দেরী। ভাবিয়া চিন্তিয়া তাহার মনের রহস্য উদ্ভেদ করিতে পারলেন না। সৈ কেন তাঁহার, প্রতি এমন শত্রতাপন্ন ? দারোগাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “এ কেন আমার ছেলেকে মারিতে চেস্টা করিয়াছিল কিছ জানেন ? কিছ স্বীকার করিয়াছে ?" দারোগা বলিল, “ও বলে, তারাদেবী পাহাড়ে ওর ছেলে হারাইয়া গিয়াছিল, আপনি আনিয়া তহিকে মারিয়া ফেলিয়ছেন, তাই ও প্রতিশোধ লইতে চাহে ।” কুমন্দবাব বলিলেন, “আমি মারিয়া ফেলিয়াছি –আমি—” - দারোগা বলিল, “সে আমি আপনার ভূত্যের এজেহারে সমস্ত জানিতে পারিয়াছি। ন বব ইহারা অসভ্য জাতি, ইহারা কি বুঝিবে যে আপনি ধৰ্ম্মম ভাবিয়া, উহার শিশর প্রাণ রক্ষার জন্যই লইয়া আসিয়াছিলেন ? উহাদের বিশ্ববাস, আপনি মারিয়া ফুেলিবর জন্যই আনিয়াছিলেন এবং মারিয়াই ফেলিয়াছেন।” কুমন্দ্রনাথ পাবেই রিশয়ার কোলে খোককে বাড়ী পঠাইয়া দিয়াছিলেন। এখন তাঁহার নিজ এজেহার দিয়া, একটা কুলি ডাকিয়া খোকার ঠেলাগাড়ী সহ বাড়ী ফিরিলেন। গিরিবালা কাঁদিতে কাঁদিতে বলিলেন, “আমার বাছার পনেভজন্ম হল আজ। কি কুক্ষণেই বাড়ী থেকে বেরিয়েছিলাম। চল, ফিরে চল দেশে, এখানে আর একদণ্ডও আমার থাকতে ইচ্ছে নেই।” পরদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হইল। ব্যষ্টিপাতের পর তুষারপাত আরম্ভ হইল। খোকার যে আমোদ ! জানালা দিয়া হাত বাহির করিয়া তুষার সপশ করিতে চায়। ভারি অন্ধকার। চারিটা বজিতে না বাজিতে ঘরে আলো জনলিতে হইল। কুমন্দবাব বলিলেন আজ সকাল সকাল আহার করিয়া লওয়া যাউক । খোকা সারাদিন খেলা করিয়া ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। ছয়টার সময় কুমন্দনাথ আহারে বসিলেন। গিরিবালা তাঁহার কাছে আগুন জালিরা বসিয়া গল্প করিতে লাগিলেন। আহার শেষ হইলে কুমন্দনাথ ঘেরা বারান্দায় বাহির হইলেন। দেখিলেন একটা স্ত্রীলোক বিদ্যুতের মত তাঁহার সম্মখে দিয়া দ্রুত ছটিয়া গেল। সে আর কেহ নয়; সেই সব্বনাশী লেপচা-রমণী; কিয়ৎক্ষণ পাবে রক্ষীকে হত্যা করিয়া গারদ হইতে পলাইয়া আসিয়াছে। মহেত্তের উত্তেজনাবশতঃ কুমন্দনাথ তাহার পশ্চাদ্ধাবিত হইলেন; নিনে অবতরণ করিবামাত্র দেখিলেন, বিশয়া চাকরের গলদেশ ছিন্ন, রক্তে ঘর প্লাবিত। দেখিয়া কুমন্দনাথের গা ঝিমঝিম করিতে লাগিল। বন্ধি লোপ হইল। মাতালের মত টলিসে টলিতে সিড়ি দিয়া উঠিয়া গেলেন। শয়নকক্ষে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন গিরিবালা মেঝের উপর ল-টাইয়া লটাইয়া ক্লন্দন করিতেছে; সেই রাক্ষসী খোকাকেও হত্যা করিয়া গিয়াছে! - বাহিরে শীত-রজনী অবিরাম তুষার বর্ষণ করিতে লাগিল। জ্যৈষ্ঠ ১৩০৭ ] రిగి