পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাশীবাসিনী ll S u দানাপর স্টেশন হইতে দানাপুর সহর পাঁচ মাইল দরে, স্টেশনটি যে সখানে অবস্থিত তাহার নাম খগোল। খগোলের বাজার হইতে কিয়ন্দরে, স্টেশনের মালগদামের ছোটবাব গিরীন্দ্রনাথের বাসাবাড়ী ৷ মন্ময় গহখানি, খোলার চাল। রাস্ত হইতে তিনটি সিড়ি উঠিয়া একটু বারান্দা মত। তাহার পরই অন্তঃপর। দুখানি শয়ন ঘর, একটি রসই ঘর, একটি কাঠ রাখিবার ঘর (কপাট নাই);—উঠানটি টালি বিছান; মধ্যস্থানে উচ্চ আলিসাযুক্ত কপ; মাসিক ভাড়া সাড়ে তিন টাকা । গিরীন্দ্র চাকরিতে প্রবেশ করিয়া সঙ্গদোষে চরিত্র নষ্ট করিয়া ফেলিয়াছিল। প্রায় দশ বৎসর কাল মদ্যপানাদি যথেচ্ছাচারে কাটাইয়া, সম্প্রতি বৎসর-দই কিঞ্চিৎ ভদ্র হইয়াছে— অর্থাৎ বিবাহ করিয়াছে। সীটি একটা বড় সড়;—বড় সড় দেখিয়াই বিবাহ করিয়াছিল। নাম মালতী। মুখখানি বেশ লালিতামাখা। রঙটি তত ফসর্ণ নহে। এই বয়সেই বেচারি বিদেশে একাকী সবামীঘর করিতে আসিয়ছে। বাশড়ী নাই-ননদ নাই--দেখিবার যত্ন করিবার কেহ নাই। সবামী আপিস চলিয়া গেলে এমন কেহ নাই যাহার সঙ্গে বসিয়া মালতী দই দণ্ড গলপ করে ; সবলের মধ্যে এক বড়ী দাই ভজয়ার মা। দিনরাত্রি বাড়ীতে থাকিয়া বধকে রক্ষণাবেক্ষণ করিবে—এইজন্য বেতন এক টাকা বেশী। খগোলে অনেকদিন সথায়ী একটি বাঙ্গালী পরিবার এই দাইটিকে পরাতন ও বিশ্ববাসী বলিয়া সপোরিশ করিয়া দিয়াছেন। সে যে পরাতন তবিষয়ে কাহারও কোন সন্দেহ থাকিতে পারে না। তাহার মস্তকের শুভ্ৰ কেশ, দেহের থৌল্য, চমের লোলতা এ বিষয়ে সাক্ষাদান করিতেছে। এবং বোধ হয় বিশ্ববাসীও বটে, কারণ বাজার করিতে যাইতে তাহার অত্যন্ত অনিচ্ছা দেখা যায়। গিরীন্দ্র বেচারী অত্যন্ত ভালমানুষ; নিজেই হাটবাজার করিয়া কুলির মাথায় দিয়া লইয়া আসে। ভজয়ার মা ততক্ষণ বারান্দার কোণে শুইয়া নিদ্রা উপভোগ করে। শীতকাল, তিনটা বাজিয়া গিয়াছে, আর বেলা নাই। মালতী শয়নকক্ষ হইতে বাহির হইয়া বারান্দায় আসিয়া দাঁড়াইল। যথাস্থানে চট বিছাইয়া, কালো কবল মুড়ি দিয়া ভজয়ার মা নাসিকাধনিপবেক মালতীকে রক্ষণাবেক্ষণ করিতেছে। মালতী তাহার পানে চাহিয়৷ অনুচ্চস্বরে বলিল—“আঃ, হতভাগী কি ঘমের বোঝা নিয়েই পথিবীতে এসেছিল! এমন সময় বাহিরে একটা পরষকষ্ঠ বাবদ বাব শব্দে চীৎকার করিয়া উঠিল । মালতী ছটিয়া সদর দরজার কাছে গেল । অজস্র ছিদ্রসঙ্কুল দরজাটি বন্ধ—একটি ছিদ্রে চক্ষ লগ্ন করিয়া দেখিল একজন রেলওয়ে কুলি, মাথায় একটা তোরঙ্গ, হাতে একটা পটলি—দাঁড়াইয়া চীৎকার করিতেছে, তাহার পশ্চাতে একজন বিধবাবেশিনী প্রৌঢ়া বাঙগালী সন্ত্রীলোক । চকিতের মধ্যে মালতী ফিরিয়া, দাইকে ডাকাডাকি আরম্ভ করিল। কিছুতেই দাইয়ের নিদ্রাভঙ্গ হয় না দেখিয়া সে অবশেষে তাহার গায়ে হাত দিয়া--“আগে ভজয়াকে মা—ঈ” বলিয়া খুব জোরে নাড়া দিতে লাগিল। দাই তখন উঠিল-শীতে কাঁপিতে কাঁপিতে গিয়া দরজা খলিয়া দিল। এক মিনিট পরে মন্ত্রীলোকটি আসিয়া বারান্দায় দাঁড়াইলেন। মালতীর মুখপানে শান্ত দস্টিতে চাহিয়া রহিলেন। মালতী ভাবিল, স্বামীর কোনও আত্মীয়া হইবেন--কিন্তু কাহারও আসিবার কথা ত ছিল না ; প্রণাম করবে কিনা ভাবিতে লাগিল। নবাগতা জিজ্ঞাসা করিলেন, "এই কি গিরীন্দ্রবাবর বাড়ী ?” মালতী বলিল, “হ্যাঁ।” “তুমি তাঁর বউ ?" ತಿಳ್