পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মালতী বলিল, “আজ আমি ত একলা নই। আজ বাড়ীতে কে এসেছে বল দেখি ?” গিরীন্দ্র বিস্মিত হইয়া বলিল, “কে ?” . “একটি বিধবা; তিনটের প্যাসেঞ্জারে কাশী থেকে দেশে যাচ্ছিলেন; টিকিট হারিয়ে যাওয়াতে নামিয়ে দিয়েছে।” “কাশী থেকে ? সঙ্গে কেউ ছিল না ? কত বয়স ?” “সঙ্গে কেউ ছিল না, বয়স ত্রিশ চল্লিশ ৷” গিরীন্দ্র মালতীর অনমান শনিয়া হাসিল। বলিল, “ত্রিশ আর চল্লিশে কত তফাৎ, নিজের ত্রিশ বছর বয়স না হলে তা তুমি বুঝতে পারবে না।” এ কৌতুক ভাব কিন্তু বেশীক্ষণ রহিল না। গিরীন্দ্র বিরক্ত হইয়া বলল, “এত লোক থাকতে আমাদের বাড়ীই কেন এল ?” মালতী একটা থমকিয়া গেল। সবামী বিরক্ত হইবেন তাহা ত সে একবারও ভাবে নাই সে ত খুব আমোদ করিয়াই সংবাদটা দিতে আসিয়াছিল। গিরীন্দ্র ভ্র কুঞ্চিত করিয়া বলিল, “কাশী থেকে—একলা মেয়েমান ষ-কি রকম বিধবা তাই ভাবছি !” মালতী বুঝিল। বলিল “না না—যা ভাবছ তা নয়। ভাল লোক।” গিরীন্দ্র বলিল, “ভারি ত জান! যেমন তোমার বধি ! কখন যাবে বলেছে ?” -তা ত কিছ বলেননি।” “রাত একটার সময় আবার গাড়ী।” “অত রাতে কি ক'রে একলা টেশনে যাবেন ? কে পেপাছে দেবে ?” গিরীন্দ্র দাঁড়াইয়া উঠিয়া বলিল, “আমি পৌছে দেবো। এ পাপ যত শীঘ্ৰ বিদায় হয় ততই ভাল ; আমি যাব—সঙ্গে করে পৌছে দেবো।” মালতী মুখখানি বিষগ্ন করিয়া বসিয়া রহিল। গিরীন্দু বাহিরে গিয়া হস্তপদাদি প্রক্ষালন করিয়া আসিল । - তখনও মালতী সেই রকম করিয়া বসিয়া আছে। গিরীন্দ্র বলিল, “ব্যাপারখানা কি ?” মালতী বলিল, “বাড়ীতে মানুষ এসেছে, তাড়িয়ে দেবে কি করে ? উনি নিজে থেকে বলেননি, কি করে বলবে যে তুমি যাও রাত একটার গাড়ীতে ?” গিরীন্দ্র বিরক্ত হইয়া বলিল, “ওগো সে জন্যে তোমার ভাবনার দরকার কি ? সে ভার আমার ” ইহার পর গিরীন্দ্র তোরঙ্গ খলিয়া একটি বোতল ও গেলাস বাহির করিয়া, একটা সোড়া ভাঙ্গিয়া কয়েকবার পান করিল। মদ্যের প্রভাবে তাহার মুখের বিরক্তির ভাব শীঘ্র অপনোদিত হইতে লাগিল। মালতীর সঙ্গে প্রফুল্লভাবে গল্প আরম্ভ করিল। - কিয়ৎক্ষণ কাটিলে, কাশীবাসিনী আসিয়া বাহিরের বারান্দায় দন্ডায়মান হইলেন। গিরীন্দ্র হঠাৎ বহিরে আসিয়া বলিল, “আপনার আসাতে বড়ই আনন্দিত হলাম।”— বলিয়া প্রণাম করিল। দিল তখন তার দরিয়া’। তিনি চপ করিয়া রহিলেন। গিরীন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল, “আপনার নিবাস ?” “আপাততঃ কাশীবাস করছি বাবা।” “কোথা যাওয়া হচ্ছিল ?” "একবার দেশে মুব ভেবেছিলাম—তা টিকিট হারিয়ে গেল—নামিয়ে দিলে। তাই মনে করলাম—” গিরীন্দ্র বাধ্য দিয়া বলিল, “তা বেশ করেছেন, উত্তম করেছেন। ; - কাল বেলা তিনটের গাড়ীতে যাবেন এখন।” S8 আজ এখানে থাকুন, H