পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খলিয়া দেখিল, দই টাকা চৌদ্দ আনা মাত্র রহিয়াছে। গিরীন্দ্র বলিল, “এখন উপায় ? আমার কাছে ত কিছু নেই!” মালতী চাপ করিয়া রহিল। খানিক পরে বলিল, “আমি কি করব? মদেই তোমার সব্বনাশ করলে। সে সময় ত জ্ঞান থাকে না, তখন কেবল দাও টাকা দাও টাকা বল।” গিরীন্দু একটা বিরক্ত হইয়া ভ্র কুঞ্চিত করিয়া বলিল, “দেখি কার কাছ থেকে ধার নিইগে।” কাশীবাসিনী বাহিরে বসিয়া সব কথা শুনিয়াছিলেন। মালতীকে ডাকিয়া বলিলেন, "ওঁকে বারণ কর মা, আমার কাছে টাকা রয়েছে, আমার ত এখন দেশে যাওয়া হল না।” মালতী গিয়া সবামীকে বলিল। গিরীন্দ্র বলিল, “সে কি কাযের কথা? ওঁর কাছে টাকা নেব, আলাপ নেই পরিচয় নেই!" কাশীবাসিনী এ কথা শুনিয়া ঘরে আসিয়া প্রবেশ করিলেন। বলিলেন, “তাতে আর ক্ষতি কি বাবা ? তোমরা তাড়িঘাটে গিয়ে থিতু হয়ে বস: আমি কিছু দিন পরে আবার আসবো এখন তোমাদের কাছে; দেখাশুনোও হবে, টাকাও নিয়ে যাব।” গিরীন্দ্র কিয়ৎক্ষণ ভাবিয়া বলিল, “তা হলে আপনি অনুগ্রহ করে কাশী না গিয়ে আপাততঃ তাড়িঘাটেই চলন আমাদের সঙ্গে। পাঁচ ছ দিনেই আপনার টাকা কটি ফিরে দিতে পারব।” “আচ্ছা সে তখন দেখা যাবে। কত চাই ? তিরিশ ? যদি বেশী দরকার থাকে তাও আমার কাছে আছে, যা লাগে বল বাকা ।” গিরীন্দ্র বলিল, “না মা বেশী চাইনে, ত্রিশ দিলেই হবে।" কাশীবাসিনী বাক্স খালিয়া দশ টাকার তিনখানি নোট বহির করিয়া দিলেন। সেইদিন রাত্রি এগারটার গাড়ীতে গিরীন্দ্রনাথ, স্ত্রী ও কাশীবাসিনীকে লইয়া যাত্রা করিল। ভজয়ার মা কাঁদিতে লাগিল। গিরীন্দ্র তাহাকে সঙ্গে লইয়া যাইতে চাহিল, কিন্তু সেসবীকার করিল না। - স্টেশনের পথে কাশীবাসিনী মালতীকে বলিলেন, “বাছা, বাবাকে বল বেন আমার কাশীর টিকিটই করেন। আমার বিশেষ দরকার আছে।” গিরীন্দ্র ইহাকে তাড়িঘাটে লইয়া যাইবার জন্য জেদ করিল, কিন্তু ফল হইল না। তাড়িঘাটে যাইতে দিলদারনগরে গাড়ী পরিবত্তন করিতে হয়। গিরীন্দ্র ভোর রাত্রে সত্রীকে লইয়া দিলদারনগরে নামিয়া গেল;—কাশীবাসিনী চলিয়া গেলেন। 独á独 বেলা সাতটার সময় গিরীন্দ্রনাথ নতন কমপথান তাড়িঘাট স্টেশনে পেপছিল। সরকারী বাসা নিদিষ্ট আছে, সেইখানে গিয়া উঠিল। জিনিষপগেলা কতক গছাইয়া স্টেশনে বাবদের সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেল। * জু-ৰখন মালতী নান করবে বলিয়া কাপড় বাহির করিবার জন্য একটা তোরঙ্গ খলিল। সচরাচর তাহার গহনার বাক্সটি এই তোরগের মধ্যেই থাকত। কাপড় বাহির করিতে গিয়া দেখে, সব্বনাশ হইয়াছে, গহনার বাক্স নাই। তখন মালতী ভাবিল, নিশ্চয়ই অন্য কোন বাক্সে আছে। যতগুলি বাক্স আছে একে একে সমস্ত খালিয়া খুজিল, কোথাও নাই। মন বোঝে না, দুইবার—তিনবার করিয়া প্রত্যেক বাক্সটির প্রত্যেক জিনিষ আলাদা আলাদা করিয়া খুজিল, তথাপি পাইল না। তখন সে হতাশ হইয়া ধলায় বসিয়া কাঁদিতে আরম্ভ করিল। - ঘণ্টাখানেক ধরিয়া ফলিয়া ফলিয়া অনেক কাঁদিল। স্টেশনমাটরের - লতা তাহার ছোট ভাইটিকে কোলে করিয়া বউ দেখিতে আসিয়াছিলy o: রোর মানা দেখিয়া বিনা বাক্যবয়ে চম্পট দিল। - - ' ' " ") 88