পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রবত্ত হইয়া অবধি গিরীন্দ্র বিলক্ষণ উপাত্তজন করিতে লাগিল। তাহতেই বোধ হয গহনা লোকসানের কষ্ট অনেকটা চাপা পড়িয়া গেল। যে দিন পলিশে টেলিগ্রাফ করা হইয়াছিল, সেই দিনই দিলদারনগর হইতে হেড কনষ্ট্ৰেবল আসিয়া গহনাগুলির ফন্দ ও বিবরণ গিরীন্দ্রনাথের জবানবন্দীসহ লিখিয়া লইয়া গিয়াছিল। কিন্তু তাহার পর হইতে পলিসের তরফ হইতে আর কোনও সংবাদ नहै,श्लो সাড়ে এগারোটা; গিরীন্দ্রনাথ আপিসে গিয়াছে। মালতী খাইতে বসিয়াছিল, এমন সময় দিলদারনগর হইতে গাড়ী আসিল। গিরীন্দ্রনাথের বাসা প্ল্যাটফন্মের নীচেই দয়ারে দাঁড়াইলে প্লাটফম গাড়ী, লোকজন সব দেখা যায়। যতবার গাড়ী আসিত, ততবার মালতী দেখিতে ছাটিত, প্রতি গাড়ীটি না দেখিলে যেন তাহার কৰ্ত্তব্যের হানি হইবে! গাড়ীর শবদ শনিবামাত্র মালতী থালা ফেলিয়া এটো হাতে এটো মুখে গাড়ী দেখিতে গেল ! বন্ধ দয়ারের কাছে দাঁড়াইয়া ফটা দিয়া দেখিল, প্ল্যাটফন্মের উপর কাশীবাসিনী নামিয়াছেন, একটা কুলি তাঁহার জিনিষ নামাইতেছে: তিনি কুলিকে কি জিজ্ঞাসা করিলেন, কুলটা গিরীন্দ্রনাথের বাসার দিকে অগলিনিন্দেশ করিল। মালতী ছটিয়া উঠানে গিয়া আচমন করিল। কম্পিত বক্ষে কাশীপাসিনীর আগমন প্রতীক্ষা করিতে লাগিল। কত কি যে তাহার মনে হইল ; কত আহমাদ হইল, আর কতবার মনে মনে বলিল, হে ঠাকুর, সবামী যে তাঁহাকে গহনা চরির অপবাদ দিয়াছেন সে কথা যেন উহার কর্ণগোচর না হয় –তিনি যে গহনা লন নাই এই বিশ্ববাস মালতীর ছিল। আসিতে দেখিয়া সে বিশ্ববাস দৃঢ় হইল। নাহলে কখনও তিনি স্বেচ্ছাক্রমে আসিয়া উপসি্থত হন ? কয়েক মিনিট পরে কাশীবাসিনী মালতীর নিকটে পৌছিলেন। “মা এসেছেন ?”—বলিয়া মালতী প্রণাম করিল। তিনি মালতীকে মাথায় হাত দিয়া সসেনহে আশীববাদ করিলেন। মালতী বলিল, “তাপনি স্নান করে ফেলন, আমি ভাত চড়িয়ে দিই।” কাশীবাসিনী বলিলেন, “সমান করেছি। ভাত চড়াতে হবে না-আজ একাদশী।” মালতী লক্ষ্য করিল, কাশীবাসিনীর মুখখানা যেন বড় গভীর—বিষম। কথা কহিতে কহিতে তাঁহার চক্ষ দইটি যে ছলছল করিয়া উঠে। জিজ্ঞাসা করিল, “আপনার মনটা এত ভার ভার কেন ?” তিনি বলিলেন, “জান না ?” মালতী ভয়ে বিসময়ে জিজ্ঞাসা করিল, “কি ?” “তোমাদের সন্দেহ, আমি তোমার গহনার বাক্স নিয়ে গেছি, পলিশ পাঠিয়েছ, জান না ?” মালতী লড়জায় মৌন হইয়া রহিল। তাহার পর বলিল, “আমি যদি বলি, আমার মনে একদিনও এ সন্দেহ হয়নি, তবে আপনার বিশ্ববাস হবে কি ?” কাশীবাসিনী সলনি মুখে বললেন, “তোমার স্বামীর ত বিশ্বব্যস হয়েছিল বাছা!” সালতী বলিল, “পুলিশ আপুনার সন্ধান পাবে তা উনি ভাবেন নি। উনি ত আজও বলছিলেন, কাশীতে কত লক্ষ লক্ষ মঠ, কোটি কোটি সেবাধারী, কে কার সন্ধান পায়?" “বের ত করেছিল আমায়। আমার উপর জলমটা কি করেছে কম ? দটিশো টাকা লগদ ঘাস গণে দিয়ে তবে নিম্প্রকৃতি পেয়েছি।” মালতী বলিল, “আমাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করতে গিয়ে আপনার খুব শিক্ষা হল ।” কাশীবাসিনী জিজ্ঞাসা করিলেন, গিরীন কখন আসবেন ?” “সৱে ধ্যবেলা ।” মালতী জিজ্ঞাসা কবিল, “কেন ?" - আজই যাব।” ১৪৬