পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


mাগিল। কোন বিশেষ কথা থাকিলে চারি পৃষ্ঠাও পরিয়া যাইত। ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে একটা দারুণ দভাবনা বহন করিয়াও এই নবদম্পতীর জীবন বেশ সুখে কাটিতে লাগিল। ক্লমে গ্রীমাবকাশ নিকটে আসিল। মোহিনীকে বাড়ী যাইতে হইবে। দই তিন মাস দেখাশনা হইবে না, এই আশঙ্কায় দই জনে অত্যন্ত কাতর হইরা পড়িল। শৈল বলিল,—“কোনও উপলক্ষ্য করিয়া মাঝখানে একবার কলিকাতায় আসিতে পারিবে না ?” মোহিনী বাড়ী গেলে বাড়ীর লোক তাহাকে দেখিয়া আশ্চৰ্য্য হইয়া গেল। মুখচক্ষর ভাব যেন সমস্তই পরিবত্তন হইয়াছে। মোহিনী কি ভাবে, ভাবিতে ভাবিতে একদিক পানে শনা দটিতে চাহিয়া থাকে। কারণ জিজ্ঞাসা করিয়া কেহ কিছু উত্তর পায় না । একদিন পাড়ার একজন প্রবীণা দিদিমা, মোহিনীর সাক্ষাতে তাহার মাকে বলিলেন, "ছেলে ষেটের বড় হয়েছে—বিয়ে দাওনি—তাই মন গমিয়ে থাকে।” ইহা শনিয়া মোহিনী ফিক করিয়া হাসিয়া ফেলিল। পরক্ষণেই তাহার মুখ শুকাইয়া বিবর্ণ হইয়া গেল। মোহিনীর মা ইহা লক্ষ্য করিলেন। সে অন্যত্ৰ চলিয়া গেলে দিদিকে বলিলেন,--“ঠিক বলেছ বাছা। আমি কৰ্ত্তাকে বলে শীঘ্রই ওর বিবাহ দিতেছি।” গ্রামের পোস্টমাস্টার মোহিনীর একজন প্রিয় বন্ধ তাহাকে বলা ছিল, মোহিনীর পল্লাদি বাড়ীতে না পাঠাইয়া যেন ডাকঘরেই রাখা হয়, মোহিনী স্বয়ং গিয়া লইবে । একদিন পোস্টমাস্টার কায্য উপলক্ষ্যে গ্রামান্তরে গিয়াছিল। যথাসময়ে ডাক আসিল । অধীনস্থ পিয়ন নিজেই ব্যাগ খলিয়া পত্রগুলি বিলি করিল। পল্লীগ্রামের ডাকঘরে এরাপ মধ্যে মধ্যে হইয়া থাকে। দৈবক্রমে সেই সঙ্গে শৈলবালার লিখিত, মোহিনীর একখানি পত্র ছিল; তাহা মোহিনীদের বাড়ীতে আসিয়া পড়িল। এত লোক থাকিতে, পত্ৰখানি কি ছাই মোহিনীর ছোট বোন মালতীর হাতেই পড়িতে হয় ? মোহিনী তখন বাড়ী নাই। পত্ৰখানির আবরণ রঙ্গীন সমচতুকোণ, এসেন্সের গন্ধে ভুর ভুর করিতেছে। মালতীর কেমন সন্দেহ হইল। তৎক্ষণাৎ সে জল দিয়া পরখানি খলিয়া ফেলিল। পত্র পড়িয়া মালতী অবাক । ছটিয়া মার কাছে গিয়া বলিল,—“ম সব্বনাশ হয়েছে। দাদার সবভাব চরিত্র বিগড়ে গেছে।” মা পত্ৰখানি পড়িয়া দেখিলেন। মেয়ের কথায় তাঁহার কোনও সংশয় রহিল না। ওবাড়ীর বড়বউ "এই সময় আসিয়া পেপছিলেন। তিনি পত্র পড়িয়া বলিলেন"আমি জানি, আমার খড়তুতো ভাই কলকাতায় পড়ত। তারও ঐ রকম হয়। সেও চিঠি ধরা পড়াতে জানাজানি হয়েছিল। তারপর আমরা ধরে বেধে তার বিয়ে দিলাম। এখন রোগ শুধরেছে। একেবারে বউয়ের কেনা গোলাম হয়ে রয়েছে। তা তোমরাও মোহিনীর বিয়ে দিয়ে ফেল।” গহিণী বলিলেন,--“আমরা যে জানতে পেরেছি, তা যেন মোহিনী না শোনে। হয়ত বাছা লজায় আত্মহত্যা করে ফেলবে: নয়ত বিবাগ হয় বেরিয়ে যাবে। চিঠি জুড়ে ঠিকঠাক করে তোমরা রেখে দাওগে।” তাহাই হইল। মোহিনী যথাসময়ে আসিয়া পত্র পাইল। খলিতে গিয়া দেখে, পরিকার একটি জলের দাগ। একবার বন্ধ করিয়া যে আবার খোলা হইয়াছিল, তাহাতে সন্দেহ রহিল না। ভাবিল বাড়ীতে কেহ নিশ্চয়ই ইহা খলিয়াছে। কিন্তু পত্রের ভিতর একটা পনশ্চ ছিল। হয়ত শৈলবালাই পত্র বন্ধ করিয়া ঐ পনশ্চটির জন্য আবার খলিয়া থাকিবে। যাহা হউক বিস্ময়ে সন্দেহে মোহেনী পত্ৰখনি ডেকে বন্ধ করিয়া রাখিল। গহিণী যথাসময়ে একথা কৰ্ত্তার কাণে তুলিলেন। কত্তা বলিলেন,—“ক্ষেপেছ, তাও কি সম্ভব ? ও হয়ত কোনও বন্ধ এয়াকি করে ওরকম লিখেছে। ছেলের ছেলেয় ుఖి (م سه لا