পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“আজই যাবেন ?” কাশীবাসিনী ঈষৎ হাসিয়া বলিলেন, “তুমি ভারি ছেলেমানুষ! তোমার স্বামী অামাকে চোর বলে সন্দেহ করেন, আর তোমার ইচ্ছে যে আমি থাকি ! আমি আড়াইটের গাড়ীতে ফিরব। আমাদের আরও অনেক লোক শ্ৰীক্ষেত্র যাচ্চে। কাল আমরা সবাই রওনা হব।” মালতী জিজ্ঞাসা করিল, “কতদিনে ফিরবেন ?” * "কেন ? ফিরলে কি দেখা হবে —বলিতে বলিতে কাশীবাসিনীর চক্ষ দুইটি ছলছল করিয়া উঠিল। কিয়ৎক্ষণ পরে বলিলেন, “একটি কায করবে ?” মালতী সাগ্রহে বলিল, “কি ?” “আমার কতকগুলি গহনা আছে, সেগুলি তুমি পর দিকেন।”—বলিতে বলিতে কাশীবাসিনী তাঁহার সঙ্গের তোরঙ্গটি খলিয়া একটি হাতবাক্স বাহির করিলেন। মালতী বিস্মিত হইয়া দেখিল, তাহার ভিতর বিস্তর গহনা, ভাল ভাল জড়োয়া গহনা। কাশীবাসিনী বলিলেন, “এইগুলি সব তুমি নাও।” সোণা, রূপ, হীরা, মোতি, চনী, পান্নার চাকচিক্যে মালতীর চক্ষ ঝলসিত। তব সে আত্মসম্বরণ করিয়া বলিল, “সে আমি পারব না।” “আপনার এই রাশিক্ত গহনা আমি কেন নেব ?” “আমি দিচ্চি יין - “আপনি দিচ্চেন, কিন্তু আমি কোন অধিকারে নেব ? সে আমি পারব না।” আকাশে মেঘ বাড়িয়া উঠিল ঝড় উঠিল। দিবালোক অত্যন্ত কমিয়া গেল । কাশীবাসিনী জিজ্ঞাসা করিলেন, “অধিকার যদি থাকে ?” মালতী বলিল, “অধিকার ? কি অধিকার ?” কাশীবাসিনী মুখখানি নীচ করিয়া বলিলেন “তা বলব, তা বলতেই আজ এসেছি।” মালতীর বুক গরগর করিয়া উঠিল। অবাক হইয়া সে কাশীবাসিনীর মুখপানেচাহিল। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার মা কি সত্যি মরেছে ?” মালতী থতমত খাইয়; বলিল, “কেল ?” "তাই জিজ্ঞাসা করি।” “সবাই 豆5 বলে I” “ত হ'লে তুমি জান। আমিই তোমার পোড়ারমুখী মা।”—বলিতেই কাশীবাসিনীর চক্ষ দিয়া দরদর ধারায় অশ্র বহিল। মালতী শুনিয়া শিহরিয়া উঠিল । নিস্তবধ হইয়া রহিল। অলপদিনের ঘটনা সে ভাবিতে লাগিল। মোক্ষদা ঠানদি তীর্থ করিয়া গ্রামে ফিরিয়া আসিয়াছেন। বাড়ীতে রাত্রে শইয়া শইয়া তার জ্যেঠাইমার সঙ্গে অনেক কথা বলাবলি করিতেছেন। তাঁহারা মনে করিয়াছিলেন মালতী ঘনমাইয়া আছে। কিন্তু মালতী ঘামায় নাই, সব শুনিতে পাইয়াছে। যাহা শুনিল, তাহাতে বিশবব্রহ্মাণ্ড কেন্দ্রচ্যুত হইয়া যেন তার চক্ষের সমুখে ঘুরিতে লাগিল। যে মাকে এতদিন সবগগতা জানিত, শুনিল তিনি শাস্তবিক জীবিত. তাঁহার সহিত ঠানদির কোন তীথে হঠাৎ দেখা হইয়াছে। জানিল, যে মার সমতি সে পবিত্রতম বলিয়া পরম ভক্তিভরে আশৈশব বক্ষে ধারণ করিয়া আছে—সে মার সমতি সংসারে ঘণিত, মা তার কলঙ্কিনী তাহার সে রাত্রের কট আবর্ণনীয়। এই সেই মা ? আবার সেই রাত্রের তীব্র অনুভূতি হাদয়ে ফিরিয়া আসিল। মালতী শিহরিয়া উঠিল, অজ্ঞাতসারে একট দরে সরিয়া বসিল। কাশীবাসিনী তখনও কাঁদিতেছিলেন। একট আত্মপথ হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, "ঞ্জামাই জানেন ?” “না।” ጏ8ጓ