পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৈধব্যে পিতা মাতা অত্যন্ত শোকাতুর হইয়া পড়িলেন। মনোরমাও তাহcদর দেখাদেখি দিনকতক একট কাঁদিল, মুখটি লান করিয়া রহিল। কিন্তু আসলে তাহার নিজের বুঝিবার সাধ্য ছিল না তার কিবা ছিল, কিবা গেল। মেয়েটির বছর পনেরো বয়স যদিও, কিন্তু বন্ধি ও প্রকৃতি শিশবৎ । শরীরের সঙ্গে সঙ্গে তাহার মনের বন্ধি এ পর্যন্ত হয় নাই । ঠিক এই সময় গ্রামে আর একটি দর্ঘটনা ঘটিয়া গেল। ব্রজহরি মুখোপাধ্যায়ের সপ্তদশ বষ বয়স্ক পত্র হীরালাল পিতা মাতাকে শোকে ভাসাইয়া চিতারোহণ করিল। ব্ৰজহাঁরর সত্ৰী হৈমবতী অনেকগুলি সন্তানের মুখ দেখিয়াছিলেন। একে একে পাঁচটিকে যমের মুখে সমৰ্পণ করিলেন। একটি যখন বারো বৎসরের, তখন সন্ন্যাসীরা তাকে চরি করিয়া লইয়া বায়—সে আজ দশ বৎসরের ঘটনা। এখন শুধু একটি রহিল—সেটি দুই বৎসরের। তা যে রকম অদষ্ট, উহার আশাই বা কি, ভরসাই বা কি ! শোকের প্রথম বেগ কতকটা প্রশমিত হইলে, ব্ৰজহাঁর সন্ত্রীর সহিত পরামর্শ করিলেন, গৃহ সংসার আর কাহার জন্য, চল গিয়া তীথবাস করা যাউক। বাড়ী, বাগান, বিষয় সব রিক্রয় করিয়া, গোর বাছর বিলাইয়া দিয়া, বাস উঠাইয়া কাশীতে বসিয়া হরিনাম করা যাউক । এই গড়াটুকু যদি বাঁচে, তখন আবার সব হইবে। কিন্তু সংসারের মায়া বড় মায়া, গহত্যাগ করা বড় কঠিন। আরও কিছ দিন পরে স্থির হইল, বাস উঠাইয়া কাশী ষাইবার কল্পনা আপাততঃ সৰ্থগিত রাখিয়া, মাস দুই তীৰ্থ ভ্রমণ করিয়া আসা যাউক । মনোরমা এই সব শুনিয়া বাড়ী আসিয়া বলিল—“মা, আমিও যাব কাকৗমার সঙ্গে " ব্লজহীর হারাধনের দরসম্পকীয় আত্মীয়—উভয় পরিবারে বহুদিনের সম্প্রীতি। তাহার পিতামাতা উভয়েই আপত্তি করিলেন। মনোরমা কাঁদকাটা কুরিল ৷ এক বেলার এক মঠা অন্ন, তাহাও পরিত্যাগ করিতে উদ্যত হইল। চোখের জল মুছিতে মাছিতে তাহার মা তখন স্বামীকে বঝাইয়া বলিয়া মত করাইলেন। কাশীর রেল তখন নতন খলিয়াছে;—লোকের তখন কাশী যাইবার ভারি ধম ! নৌকাপথে যে কাশী যাইতে এক মাসেরও অধিক সময় লাগিত, সেই কাশী দই দিনের পথ হইয়া পড়িল। ইহাদের কাশী ষাইবার পরামশ শৰ্মনিয়া ও পাড়ার কলগিন্নি আসিয়া বলিল—“বামনদিদি, তামাকে যদি নিয়ে যাও সঙ্গে করে তা হলে তোমাদের চরণ সেবা করি, দটি দটি পেসাদ পাই, আর বাবা বিশবনাথের মাথায় একটা গঙ্গাজল দটো বিল্লিপত্র দিয়ে আসি।” কলগিনির প্রাথ না বিফল হইল না। যাত্রার দিন স্থির হইল ২৮শে ফাল্গন । যাইবার উৎসাহে মনোরমা ত আহার নিদ্রা পরিত্যাগ করিল। এমনভাবে চলিতে বলিতে লাগিল, যেন তাহার সববনাশ হয় নাই, কপাল যেন পোড়ে নাই, সে যেন সেই মনোরমাই জছে! তাহার এই প্রফুল্লতায় তাহার পিতামাতাও কথঞ্চিৎ সান্ত্বনা লাভ করিলেন। কাশীর বিশ্বনাথ অপেক্ষা মগরার রেল দেখিবার জন্যই মনোরমা শতগণ অধিক ব্যগ্র হইয়া পড়িল। গ্রামের কত লোক কলিকাতা গিয়াছে, বন্ধমান গিয়াছে—তাহারা যে ব্যাখ্যাটা করে । যাহারা কোথাও যায় নাই, তাহারা সাত ক্লোশ দর স্টেশনে গিয়া শুধ রেলগাড়ী দেখিয়া চক্ষসাথক করিয়া আসিয়াছে। সেই রেলে মনোরমা চড়িবে ! উঃ–ভাবিতে তাহার হকে গরগর করিতে লাগিল; শরীর কপিয়া উঠিতে লাগিল! শব্দে ভয় করিবে না ত ? মা জানি সে কী শবদ । বর্ষাকালে জলে যখন সমস্ত মাঠ ডবিয়া গিয়াছিল, তখন একদিন অনেক রাত্রে, মার কাছে শ্যইয়া মনোরমা-রেলের শব্দ শুনিতে পাইয়াছিল। অতি ক্ষীণ, শুধ একটা অনেক—অনেক দরের গমগমগম শব্দ।—আঃ—২৮শে ফাল্গন কবে আসিবে গেী ? মনোরমার আরাধনায় ২৮শে ফালগন আর না আসিয়া থাকিতে পারিল না। রাত্রি এক প্রহর থাকিতে যাত্রা করিতে হইবে। যথাসময়ে দইখানি গেরির গাড়ী ভাঙ্গা ল’ঠনের মধ্যে প্রদীপ জালিয়া, 53 গ্রামবাসীর কণে বিদায়ের কর্ণ-গীতি গাহিতে S