পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গাহতে বহির হইয়া গেল। በ < በ মগরায় যখন গাড়ী পেপছিল, তখন বেলা নয়টা। গাড়ী যখন বাজারে প্রবেশ করিতেছে, সেই সময় আদরে একখানা এঞ্জিন বংশীধৰনি করিতে করিতে ছটিয়া আসিল । তাহা দেখিয়া মনোরমার যে আমোদ ! কাকীমার গলা জড়াইয়া—“ওগো কাকীমা, ওটা কী গো ?” —বলিয়া সে আকুল। একটার সময় পশ্চিমের গাড়ী। দোকানে নামিয়া বিশ্রাম ও আহারাদি হইল। যথা সময়ে ট্রেণ ছাড়িল। তখন সহসা সমস্ত উৎসাহ সমস্ত আনন্দ মনোরমাকে ছাড়িয়া চলিয়া গেল। শব্দে, দোলানিতে, তাহার মাথা ঘুরিতে লাগিল। ভয়ে জানালার বাহিরে চাহিতেও পারিল না। শেষে হৈমবতীর কোলে মাথা দিয়া ঘুমাইয়া পড়িল;—তিনি তাহার কপালে হাত বলাইয়া অচিল দিয়া মাথায় বাতাস করিতে লাগিলেন । রার কাটিল। পরদিন মনোরম সম্পণে সপেথতা লাভ করিল। জানালার কাছে বসিয়া মাঠ, ক্ষেত, নদী, পাহাড় দেখিতে ও দই বৎসর বয়স্ক খোকাকে দেখাইতে লাগিল। পাহাড় দেখিয়া একেবারে উন্মত্ত। “কোন কোনও পাহাড় সবুজ গাছেপালায় ভরা, আর কোন কোনটা ওরকম শুকনে। পোড়া মতন কেন কাকীমা ?” “সব পাহাড় কি আর সমান হয় বাছা ?” ”সব মানুষ কেন তবে সমান ?” “সমান ?'কই সমান মা ?”—বলিয়া হৈমবতী মুখ ফিরাইয়া, একবিন্দ জল চক্ষ হইতে অচিলে লইলেন –কাহার জন্য ? তাহার পরদিন প্রভাতে মোগলসরাইয়ে নামিতে হইল। সেখানে অনেক পাড়া আসিয়া বসিয়া আছে। একজন ব্রজহরিকে দখল করিয়া ফেলিল। মোগলসরাই হইতে অন্য গাড়ীতে রাজঘাট। রাজঘাট স্টেশন ঠিক গঙ্গার উপর। ওপারে কাশীর সৌধমন্দিরমালা নবরৌদ্রলোকে ঝকমক করিতেছে। পণ্যময়ী জাহ্নবী সফেন তরঙ্গ তুলিয়া বহিয়া চলিয়াছেন। তাহ দেখিয়া ট্রেণসমৃদ্ধ লোক—‘জয় বাবা বিশ্বনাথজীকি জয়’ বলিয়া বারমবার উন্মত্তবং চীৎকার করিতে লাগিল। ই’হারও কাশীর পানে বন্ধদটি হইয়া, গলায় কাপড় দিয়া যোড়হাত করিয়া প্রণাম করিলেন । হৈমবতী বলিলেন—“জয় বাবা বিশ্বনাথ—হে মা অন্নপ্রণী—মনোবাঞ্ছা পণ কোরো। এত সাধ সন্ন্যাসী এখানে তোমার সেবা করছে, আমার বাছাকে যেন দেখতে পাই । দেবাদিদেব মহাদেব, বাবা বিশ্বনাথ দেহু বুকু সাত দোহাই তোমার।" Ó ዝ বিশ্বনাথ বিশেবর অলপ লোকেরই প্রাথ’নায় কণপাত করিয়া থাকেন : হৈমবতী সেই অল্পের মধ্যে একজন পরিগণিত হইলেন। তিনি দশ বৎসরের হারানো পত্রের দেখা পাইয়াছেন । সেদিন তাঁহারা কালভৈরবের বাড়ী পুজা দিতে যাইতেছিলেন, পথে সাধনানন্দ স্বামীর মঠ। পাডা বলিল, “মাঈ—সাধনানন্দ সোয়মিজিকো দেখষি না ? বড়া ভারি মহাত্মা আছে।” সকলে সাধনানন্দ স্বামীকে দর্শন করিলেন। সবামী তখন অধ্যাপনায় নিযুক্ত । কয়েকজন গৈরিকবসনধারী নবীন সন্ন্যাসী বসিয়া তাহা শ্রবণ ও তৎসমবন্ধে প্রশনাদি করিতেছেন। এই শিষ্যমণ্ডলীর মধ্যে হৈমবতী তাঁহার শশিভূষণকে চিনিতে পারিলেন। আশচয্য পরিবত্তন ! যে ছিল দ্বাদশবৰ্ষীয় বালক সে এখন পর্ণাবয়ব দীর্ঘায়তন নবীন যবোপর্ষ হইয়াছে। তপশ্চয়ার ফলেই হউক আর যে কারণেই হউক, তাহার বণ তপ্ত কাঞ্চনের মত প্রভাসম্পন্ন। মস্তকের তাম্ৰ জটাভার ললাটের উদ্ধত্ব প্রান্তে বিচিত্র > 0 °