পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিত্র রচনা করিয়াছে। তাহাকে পাইয়া তাহার পিতামাতা ষে আকাশের চাঁদ হাতে পাইলেন, ৩াহা বলাই বাহুল্য। কিন্তু সে কিছুতেই সন্ন্যাস পরিত্যাগ করিতে চাহিল না। এমন কি মঠ ছাড়িয়া পিতামাতার সহিত কেদারঘাটের বাসায়ও থাকিতে সক্ষমত হইল না। তবে প্রত্যহ আসিয়া সারাদিন ইহাদের সঙ্গে যাপন করিত। সপ্তাহকাল এইভাবে কাটিলে, একট গোলযোগ ঘটিল। যতদিন হইতে উপন্যাস লেখার সটি হইয়াছে—কোন কোনও পণ্ডিতের মতে আরও পর্বে হইতেই—অর্থাৎ যতদিন হইতে পথিবী নরনারীসম্পন্ন এবং নরনারী হাদয়নয়নসম্পন্ন হইয়াছে, ততদিন হইতেই —এ গোলযোগ ঘটিয়া আসিতেছে। অন্যের—ও প্রথম প্রথম নিজেরও—অগোচরে এই সন্ন্যাসীবর মনোরমার প্রতি একটু বেশীরকম চাহিতে লাগিল। সে দেখে আর দেখে আর দেখে। মনোরমার বকের মধ্যেও কেমন একটা নতন ভাবের তরঙ্গ খেলিতে থাকে। কেমন একটা অশোয়াসিত, একটা সুখ। একদিন এই চোখের ও বকের ভাষা, মাখের ভাষায় পরিণত হইবার উপক্ৰম করিল। সেদিন প্রাতঃকাল। শশী আসিয়া দেখিল, মনোরমা বসিয়া দধ জৰাল দিতেছে, খোকা ঘুমাইতেছে—গহে আর কেহ নাই। শুনিল তাহার পিতামাতা গঙ্গানান করিতে গিয়াছেন, কলগিন্নি বাজারে গিয়াছে। জিজ্ঞাসা করিল, তুমি আজ গংগাসমানে যাওনি ?” “আমার একটু অসংখ করেছে।” শশী ব্যস্ত হইয়া বলিল, “অসুখ করেছে ? হাত দেখি ?" মনোরমা হাত বাড়াইয়া দিল, হাসিয়া বলিল, “তুমি বন্দি নাকি ?” উত্তর না করিয়া শশিভূষণ নাড়ী পরীক্ষা করিতে লাগিল। তাহার পর কপালে হাত দিয়া বলিল, “ইস্ ! খুব গরম যে!" মনোরমা হাসিয়া বলিল, “খুব বদি হয়েছ! আমার মোটেই জবর হয়নি।” “হয়নি ত কি ! তোমার কপাল ভারি গরম।” “ও বোধ হয় আগন-তাতে বসে থেকে।” “আচ্ছা, আগুনের কাছে থেকে সরে এস, দেখি ভাল করে হাত”—বলিয়া শশিভূষণ মনোরমার হাতটি ধরিয়া তাহাকে সরাইয়া, তাহার সন্দর , কোমল হাত নিজের একটি হাতে সতৃষ্ণভাবে আলিঙ্গন করিয়া ধাঁরল, অন্য হাতের অঙ্গলি দিয়া নাড়ী পরীক্ষা করিতে লাগিল। মনোরমার মনে কি রকম একটা ভয় হইতেছিল। একটা যেন না— না—শবদ উঠিতেছিল। তাহার পা সপষ্টই কাঁপিতেছিল, আর বোধ হয় শরীরও ৷ শশী বলিল—“মনো !" এই প্রথম মনো বলিল-পর্বে বরাবর মনোরমা বলিয়াছে। মনোরমা বলিল—“কি ?” ভার আশ্চৰ্য্য! চপি চপি কি বলিবার এমন কি প্রয়োজন ছিল । বোধ হয হাদয়যন্ত্রের অভ্যন্তরে রক্তটা একট বিশেষভাবে সঞ্চালিত হইতে থাকিলে. কথার স্বরটা ভারি নামিয়া যায়। কিছুক্ষণ কাটিল, আর কোন কথা হইল না। শেষে বাহিরে কলগিন্নির সবর শোনা গেল—“ওমা । এরা যে এখনো ফেরে না গো ! ঠাকুর দেখে ফিরবে না কি ? আমি তবে যাব কার সঙ্গে ?” - শশী মনোরমার হাত ছাড়িয়া বাহির হইল। বলিল, “কলগিনি কোথায় গিয়েছিলে ?” কলগিনি বলিল, “কে, দাদাঠাকুর ? পেরণাম হই। দেখ না ! আধ পয়সার এই রত্তা থোড়! দেশে হলে কেউ ছোঁয়ও না। বল্লাম ত মাগী ক্যারোড় ব্যারোড় করে কি সব বল্লে কিছুই বুঝতে পারলাম না। গাল দিচ্চে মনে ক’রে, আমিও যা নয় তাই বলে গাল দিয়ে চলে এলাম।” S (3