পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আছাড়িয়া ফেলে, শশিভূষণের প্রণয়শিশও সেইরাপ মনোরমা ভিন্ন অন্য কোনও দেবী, নারী বা কিন্নরীকে বধত্বে গ্রহণ করিতে চাহিল না। তখন হঠাৎ এক বৎসরের প্রাতন একটা ঘটনার কথা মনে হইল। এক বৎসর পর্কে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের এক শিয্য, বিধবা-বিবাহের শাস্ত্রীয়তা বিচায় করিতে কাশী আসিয়াছিলেন। কাশীর পন্ডিত সমাজে সে কি উত্তেজনা তখন জলিয়া উঠিয়াছিল! লোকে সে পণ্ডিতকে কত না বিদ্রুপ করিয়াছিল—কত না কঠিন কথা বলিয়াছিল। একজন প্রস্তাব করিয়াছিল, ইহার টিকি কাটিয়া আঠা দিয়া পশ্চাদভাগে জড়িয়া লেজ বানাইয়া F9; পণ্ডিতের ব্যক্তি-তক শশী মনে মনে আলোচনা করিতে লাগিল। জানালা খলিয়া ঘরে আলো আনিয়া, নিজের পথিপত্র পাড়িল। মন, যাজ্ঞবল্ক্য, পরাশর, পড়িল; সবাথের নতন আলোকে, সকল লোকের অনকল অথাই উপলব্ধি করিল। বিধবা-বিবাহের আইন লইয়া বঙ্গদেশে কি প্রকার আন্দোলন হইয়াছিল সে জানিত না। সে ছিল কাশীতে। কাশীর পাণ্ডাগণ বিরোধ উত্থাপন করিলেন বটে, কিন্তু দুই একজন মতও দিয়াছিলেন। বঙ্গদেশের উদ্যোগে আইন পাস হইল বলিয়া, কাশীর পন্ডিতগণ তাবৎ বাঙ্গালীকে খাটান বলিয়া নন্দ করিয়াছিলেন। সুতরাং শশিভূষণ সিন্ধান্ত করিল, বাঙ্গালীর চক্ষে এটি আর নিন্দনীয় নহে। সন্ধ্যার পবে স্থির করিল, মনোরমাকে যথাশাস্ত্র বিবাহ করবে। এই সকল শাস্ত্র দেখাইয়া ব্যক্তি দেখাইয়া উভয়ের পিতামাতাকেই সবমতে আনয়ন করবে। হায় বালক ! যখন বাহির হইল, তখন বিশেবশ্বরের আরতির ঘণ্টা বাজিতেছে। দলে দলে লোক কদনা গন ll & ll আরতির পর শশিভূষণ কেদারঘাটের বাসায় আসিল। দেখিল, বাড়ীতে মনোরমা ছাড়া আর কেহ নাই। শশীকে দেখিয়া মনোরমা আহমদে চঞ্চল হইয়া উঠিল। “তাঁরা সব আরতি দেখতে গেছেন, এখনও ফেরেননি ত।” “আমিও আঁরতি দেখতে গিয়েছিলাম, ভীড়ে বোধ হয় তাঁদের দেখতে পাইনি। তাঁরা অন্নপুণার আরতি দেখে ফিরবেন হয়ত। কেমন আছ মনো ?” “ভাল আছি। সারাদিন আসীন কেন ?” “এই এবার যে এলাম, এখন আর শীগগির যাচ্চিনে—তা জান ?" “সত্যি ? মঠে যাবে না ?” “না, মঠ ছেড়ে দিয়েছি। এবার সংসারী হব, বিয়ে করব মনো!” “সত্যি ?--কাকীমা তা হলে কত খাসী হবেন । কত ঠাকুরদেবতাকে মানত করেছেন।” । —বলিয়া মনোরমা ঘামিতে লাগিল। দুইজনে অনেক কথা হইল। যে কথা চোখে চোখে অনেক বার হইয়া গিয়াছিল,— সেই কথা মুখে মুখেও হইল। শশী বলিল-বিধবার বিবাহ এখন শাস্ত্রসঙ্গত হইয়াছে। সে উভয়ের পিতামাতাকে বঝাইয়া তাহাকে বিবাহ করবে। মঢ় বালিকা সংসারের কিছুই জানিত না;—এই কথা ধ্রুব সত্য বলিয়াই বিশ্বাস করিল। বিধবার রিবাহ হইবে এমন একটা কাণাঘাষা সেও শনিয়াছিল কিনা। শশিভূষণকে মনে মনে সবামী বলিয়াই গ্রহণ করিল। শশী বলিল, “আজ রাত্রেই তবে মাকে বলি ?” মনোরমা বলিল, “না—দেশে গিয়ে বোলো।” শশী মনোরমার হাতটি ধরিয়া “কেন মনো ?”