পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“তা হলে আমার ভারি লজা করবে। আমি আর তোমার সঙ্গে কথা কইতে পারব না। এক বাড়ীতে যতদিন আছি, ততদিন বোলো না—তোমার দটি পায়ে পড়ি।" শশী বলিল, “তবে দেশে গিয়েই বলব।” পিতামাতা ফিরিলেন। শশীর মা যখন শুনিলেন, শশী আর মঠে যাইবে না, বাড়ীতেই থাকিবে—তিনি হাতে সবগ পাইলেন। মনের সুখে বেশী করিয়া ঠাকুর দেখিয়া বেড়াইতে লাগিলেন—এই দটি যুবক যাবতীও বেশী করিয়া পরস্পরের নিরালা সঙ্গলাভ করিতে লাগিল। শশীর পিতামাতা বড় অদরদশী —অবশ্য শশী বা মনোরমা যে পরস্পরকে বিবাহ করিবার কথা ভাবিতেও পারে, এ তাঁহাদের মস্তিকেই প্রবেশ করে নাই। তথাপি এ দুই জনের প্রতি তাঁহাদের একটা কৰ্ত্তব্য ছিল—ইহাদের নিভৃত সাক্ষাতের অবসর দেওয়া অবশ্যই তাঁহাদের উচিত ছিল না। কিন্তু দুইটি কারণে তাঁহাদের এ ভ্রান্তি উপস্থিত হইয়াছিল— প্রথম শশীর বিদ্যাবধি ও ধামিকত্ব-দ্বিতীয়তঃ সন্তানস্নেহ, আমার ছেলে দেবতুল্য সে কখনও’ ইত্যাদি। በ M በ শেষে দেশে ফিরিবার সময় হইল—শশীর মাত কুমাগত, মনোরমার সঙ্গে পরামর্শ করতেন, কাহার মেয়ের সঙ্গে শশীর বিবাহের সম্মবন্ধ করা যাইবে। একদিন নিউজনে শশীর কাছে এই সব গলপ করিতে করিতে মনোরমা বলিল, ”মাকে যখন তুমি বলবে যে আমাকেই বিয়ে করবে, আর শাস্ত্র থেকে সব দেখিয়ে দেবে যে হতে আছে—তখন মার ভারি আহমাদ হবে--বোধ হচ্চে ”— মনোরমা মনে করিত এই আমার বশর, এই আমার শাশড়ী। ভাবিত, আমিই যে ইহাদের পত্রবধ হইব, তাহা এখন জানিতেও পারিতেছেন না—কি মজা! সকলেই দেশে ফিরিলেন। শশিভূষণকে দেখিয়া সকলেই আশ্চৰ্য্য হইয়া গেল। তাহার বাঙ্গালা কেমন বাঁকা বাঁকা হিন্দী সরের হইয়া গিয়াছে। হৈমবতী দেশে আসিয়াই শশীর বিবাহের জন্য পাত্রী খুজিতে আরম্ভ করিলেন। শশী তাঁহাকে বলিল, “মা, তোমার সঙ্গে একটা কথা আছে।” কথাটা বলিল—শনিয়া মা আকাশ হইতে পড়িলেন। শশী বলিল, “সে কি মা ! শোননি ? বিধবা বিবাহ যে প্রচলিত হয়েছে-আইন হয়েছে।” মারলিলেন, “আইনের মথে আগন! ইংরাজেরা লেচ্ছ, ওরা আইন করবে না কেন?” “ইংরাজেরা শেলচ্ছ—কিন্তু বিদ্যাসাগর মশাই যে পরম পণ্ডিত, পরম হিন্দ। তিনি প্রমাণ করেছেন।” মা বিদ্যাসাগরের প্রতি এমন একটা কটক্তি করিলেন যাহা লেখনীর মুখে আনয়ন করা অসাধ্য। শশিভূষণ ভারি হতাশ হইল। ভাবিল, মা নিরক্ষর, আমার পিতা শাস্ত্ৰদশী, তিনি বঝিবেন। পিত শনিয়া কাণে আঙ্গল দিয়া কহিলেন, "ছি ছি ছি! এতদিন শাস্ত্রচচ্চার এই ফুল তোমার " শশী শাস্ত্রের তক পাড়িতে চাহিল । পিতা বললেন, “মহাভারত । এ কথার আলোচনাতেও পাপ আছে ৷” শশী বিদ্যাসাগর মহাশয়ের কথা বলিল। পিতা বলিলেন, “বিদ্যাসাগর হোটেলে খায় ! এ কথা আমি সবকণে শুনেছি।” *

  • একরার কোথাকার টেশনে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের সহিত এক পড়িতের দেখা হয় । পণ্ডিত DD D B BD DDBBBBB BB BBB BB BBBSBBBBB BB BBB BBS

S68