পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তমন করে।” গৃহিণী মনে মনে বললেন—“হে মা কালীঘাটের কালী! তাই যেন হয়। আমার বাছার এ দনাম যেন বেচে থাকতে আমায় শনতে না হয়।” পরদিন একথা শুনিয়া ওবাড়ীর বড়বউ বললেন,—“আচ্ছা, এ বিষয়ের তদন্ত আমরা - f $x "হিনীর অনুপস্থিতিতে বড়বউ মালতীকে লইয়া ভিন্ন চাৰি দিয়া মােহিনীর কলি কাতার তোরঙ্গ খলিয়া ফেলিলেন। বিস্তর খুজিতে হইল না। একখানি লাল রেশমী রামালে বাঁধা এক তাড়া চিঠি। সবই এক হস্তাক্ষরে লিখিত। সবগুলিই প্রণয়ের চিঠি। প্রিয়তম, প্রাণসখা, অভিন্ন হৃদয় ইত্যাদি বলিয়া আরম্ভ। তোমার শৈলবালা, তোমার আমি, তোমার শৈ, তোমার সাধের সই—ইত্যাদি বলিয়া শেষ। অনেকগুলাতেই লেখা, তুমি শনিবারে নিশ্চয় আসিবে। আশা দিয়া নিরাশ করিও না। তাধিনী আশাপথ চাহিয়া রহিল। বেশী পাঁড়বার সময় নাই, কি জানি যদি হঠাৎ মোহিনী আসিয়া পড়ে। সমস্ত চিঠি পড়িলে কিন্তু প্রকৃত কথা প্রকাশ পাইতে পারিত। কারণ আমরা জানি একখানিতে লেখা ছিল—“আমাকে গোপনে বিবাহ করিলে, মা বাপ জানিলেন না, কি উপায় হইবে", —ইত্যাদি। বড়বউ ও মালতী আসিয়া মাকে বলিল,-“মা, আর কোনও সন্দেহ নেই। গাদা গদা চিঠি।" এই বলিয়া সংক্ষেপে দই চারিখানির মর্ম ও শনাইয়া দিল। মা শনিয়া যাপোকুললোচনে ঠাকুর দেবতার কাছে মানত করিলেন—“বাছাকে আমার ডাকিনীর হাত থেকে উদ্ধার কর-আমি পুজা দিব।” সমস্ত কথা শুনিয়া কত্তা আর কিছু বলিতে পারলেন না। গহিণী বলিলেন-- “আর ওকে কলকাতায় পাঠিয়ে কাষ নেই। একটি সন্দেরী ডাগর মেয়ে দেখে বিয়ে দাও, আমি একটি পয়সাও চাই নে।” কত্তা বিরক্তির সহিত বলিলেন—"এতদিন ত কোনকালে বিবাহ হয়ে যেত। তুমি যে এক বারোহাত লম্বা ফদ বের করে বসলে। ব্রাহ্মণ মনঃক্ষুন্ন হয়ে অভিশাপ দিতে দিতে চলে গেল। তার শাপেই ত এ সব হল।” গহিণী বলিলন—“তার মেয়েকে যদি মোহিনীর পছন্দ হয়ে থাকে তবে তারই সঙ্গে বিয়ে দাও। তারা যা পারে তাই দেবে।” কিন্তু কত্তা এ প্রস্তাবে রাজি হইলেন না। বললেন,-"তাও কি হয় ? একবার ফিরিয়ে দিয়েছি। আবার কোন মখে বিবাহের প্রস্তাব পাঠাব ? দেশে কি আর সন্দরী বড় মেয়ে নেই ?” গহিণী বলিলেন—“ত যেখানে হয় দাও। আর কিন্তু দেরী করলে চলবে না।” সেই গ্রামেই অবিলম্বে এক বিবাহযোগ্ন্যা কন্যা বাহির হইল। যখন টাকাকড়ি সম্বন্ধে আর হাঙ্গামা নাই, তখন মনোমত পাত্রীর অভাব কি ? এক সপ্তাহের পর বিবাহের দিন সিথর হইল। মোহিনী বলিল, আমি বিবাহ করির না। অনেক পীড়াপীড়ি কান্নাকাটি চলিল। শেষে মোহিনী মাকে বলিল—“আমার একটা প্রস্তাব আছে, তাতে যদি আপত্তি না কর, তবেই আমি এ বিবাহে সম্মতি দিতে পারি।” “কি প্রস্তাব ?” “শ্যামাচরণবাবদের সপরিবারে এ বিবাহে নিমন্ত্রণ করে আনতে হবে।” “সে অার বিচিত্র কি ? তবে কেমন কেমন দেখায় না ? যে মেয়ের সঙ্গে তোমার বিয়ের কথা হয়েছিল, তার বিয়ে হয়ে গিয়েছে ?” “হাঁ, সে গত অগ্রহায়ণ মাসেই হয়ে গিয়েছে।” মা বলিলেন—“আচ্ছা, কত্তাকে বলে দেখব ।” বহন কটে কত্তা রাজি হইলেন। মোহিনী স্বয়ং কলিকাতায় গিয়া ইহাদিগকে আনিতে চাহিল। কিন্তু তাহাতে কেহই সক্ষমত হইলেন না। সকলেই সন্দেহ করলেন, w&8