পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তাহার সহিত ঘাঁসি লড়িতে আরম্ভ করিবে । - কিন্তু শরতের মনোবাঞ্ছা পণ হইল না। মাণিকের ক্ৰোধ নিরীহ বিপিনের উপরেই সবটা খরচ হইয়া গিয়াছিল। মাণিক সটান আবার শইয়া পড়িল। শরৎ বলিল, “না খেলিস—নল খেলবি। ভারি ত বয়েই গেল কিনা।” বলিয়া বিপিনের হাত ধরিয়া বলিল, “চল রে বিপনে।” বিপিন যাইবার সময় বলিয়া গেল, “মাণিক রাগ করিসনে ভাই—যদি লেগে থাকে তোর, বিলক্ষণ শোধ ত নিয়েছিস ।” በ $ በ মাণিক আর ফুটবল খেলে না—জিমন্যাটিক করা একেবারে ছাড়িয়া দিয়াছে-বিপ্রহরে ইস্কুল পলাইয়া গঙ্গাতীরে বসিয়া কবিতা লেখে ! প্রভাতে, সন্ধ্যায় নানা ছলে কুসুমদের বাড়ী গিয়া কুসুমকে দেখিয়া আসে। ----> কুসম মেয়েটি দেখিতে খুব সন্দেরী না হউক, মুখখানি বেশ ফটফটে। পিতামাতার শেষের সন্তান—ভারি আদরের মেয়ে। কুসমে এই কাত্তিক মাসে এগারো বছরে পড়িয়াছে। স্থানে বিবাহের কথাবাত্তা হইতেছে; কিন্তু এখনও পাকাপাকি কোথাও সিথর হয় I মাণিক ক্ৰমাগত কুসুমের সঙ্গে দেখা করিয়া, কথা কহিয়া, জিনিষ দিয়া তাহার সঙ্গে । একটা বেশ ঘনিষ্ঠতা করিয়া লইল। মাণিকের প্রতি কুসমেরও একটা টান যেন দেখা যাইতে লাগিল। বৈশাখের শেষে, কলেজ বন্ধ হওয়াতে, মাণিকের এক পিসতুতো ভাই প্রভাস আসিয়া উপস্থিত হইল। প্রভাস মাণিক অপেক্ষা তিন বৎসরের বড়। মাণিক তাহাকে কতকটা গরুজন বলিয়া গণ্য করিত এবং ভয় করিয়া চলিত। প্রভাস আসিলেই মাণিককে পড়া জিজ্ঞাসা করিত, অকি কষিতে দিত, পিতা-মাতার প্রতি ভক্তি, অসৎসঙ্গের দোষ, অধ্যবসায় প্রভৃতি বিষয়ে উপদেশাদি দিত। কিন্তু কলিকাতার বন্ধগণের মধ্যে প্রভাস একজন নীরব কবি বলিয়া বিখ্যাত। তাহার মনের রন্ধুে রন্ধুে রোমান্স, কেবল প্রেমপত্রীর অভাবে কোনও মতে প্রেমে পড়া হইতে বিরত আছে। সে আসিয়া মাণিকের ভাবগতি দেখিয়া বারবার জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল—ব্যাপারটা কি ? মাণিক ত কিছই স্বীকার করে না। সন্ধান করিয়া করিয়া শেষে একদিন প্রভাস মাণিকের কবিতার খাতা হাতে পাইল। কবিতা পড়িয়া ব্যাপার কিছই বঝিতে বাকী রহিল না। মণিকের উপর তাহার ভারি ভক্তি ও সৌহান্দৰ্য বোধ হইল। সেদিন জলখাবার খাইয়া প্রভাস মাণিককে বলিল, “গঙ্গার ধারে বেড়িয়ে আসা যাক চল।” মাণিক প্রথমে আপত্তি করিয়াছিল—কিন্তু প্রভাস অনেক জিদ করিল, কিছতেই না | F. ಘ್ನ কিয়ৎক্ষণ বেড়াইয়া, তীরে উঠানো এক ভাঙ্গা নৌকার গায়ে দুইজনে উপবেশন করিল। প্রভাস বলিল, “আমি সব জানতে পেরেছি।” মাণিক আশ্চৰ্য্য হইয়া বলিল, “কি ?” “তোমার গোপন কথা।” মাণিক ভাবিল—নিশ্চয়ই সিগারেটের বিষয়। ডেকের মধ্যে লকোনো বার্ডসাই, কাগজ প্রভৃতি প্রভাসদাদা বোধ হয় দেখিতে পাইয়াছে, সতরাং সন্দিগধভাবে বলিল, “বেশী চালাকি কোরো না যাও।” প্রভাস বলিল, “এ চালাকির কথা নয়—খব গরতের কথা। জীবন মরণের সমস্যা।” এবার মাণিক যথার্থ বিষয়টি সন্দেহ করিল। বলিল, “কি হয়েছে কি ? কি বিষয় ›¢ፃ