পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বলই না।” প্রভাস দরস্থিত মদগামী নৌকার পালে দটি বন্ধ করিয়া বলিল, “তোমার ভালবাসার বিষয়।” মাণিক ভাবিল—নিশ্চয়ই বাবাকে বলিয়া দিবে এবং মার খাওয়াইবে, সুতরাং শত্রভাব ধারণ করিয়া মুখ খি'চাইয়া বলিল, “আহ যা বল্পে আর কি ! ইয়াকি ভাল লাগে না।” প্রভাস বলিল, “ভাই—আমার কাছে আর লুকাও কেন ? আমি সব জেনেছি। তোমাদের দঃখে আমি খুব দুঃখী। তোমাদের সঙ্গে আমার আন্তরিক সহানুভূতি।” মাণিক কতকটা আশ্বস্ত হইল। একটু অপ্রতিভও হইল। বলিল, “কে বললে তোমায়?” খাতা দেখেছি। আমাদের অতুল বড়িয্যের মেয়ে কুসমে ত?" মাণিক ঘাড় নাড়িয়া জানাইল—তাই বটে। “তোমার কবিতা থেকে যেন বোঝা যাচ্চে, আকর্ষণটা উভয়তঃ প্রবল—তাই কি ?” মাণিক বলিল, “মনে ত হয় ।” --সপস্ট কখনও বলেছে ?” “না।” “তুমি কখনও তাকে স্পষ্ট করে বলেছ ?” “না।” ইহার পর দুইজনে কিয়ৎক্ষণ নীরব হইয়া বসিয়া রহিল। শেষে প্রভাস বলিল—“দেখ ওরা আমাদের সবঘর। মিলন হওয়া কিছই আশ্চৰ্য্য নয়। কিন্তু মা বাপকে জানানোর আগে, কুসমের মন জানা দরকার। অনুমান ফনমান নয়, পাট জিজ্ঞাসা করতে হবে।” মাণিক বলিল, “সে কখনও পারা যায় ?” প্রভাস ভ্র কুঞ্চিত করিয়া বলিল, “সে না পারলে চলবে কেন ? তুমি যদি সত্যই ওকে লাভ করতে চাও, তা হলে এ বিষয়ে যা কিছ কত্তব্য, সব তোমায় সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে কি করে হবে ? অার দেরী করলেও চলবে না। কুসুমের কত জায়গায় বিয়ের কথা হচ্চে, কোন দিন বিয়ে হয়ে যাবে। তখন চিরদিনটে তোমায় আপশোষ করতে হবে।” এ কথা শুনিয়া মাণিক চঞ্চল হইয়া উঠিল। এতদিন সে শধ্যে ভালই বাসিতেছিল। বিবাহ প্রভৃতির কল্পনা কখনও করে নাই। এখন মনে হইতে লাগিল, বিবাহ হইলে ত ভারি মজাই হয়! "দাদা ! কি করে তার কাছে কথা পাড়ি বল দিকিন ?” “তা আমি শিখিয়ে দিচ্চি। একট অবসর খাঁজে, আড়ালে পেলে, তার হাতখানি এমনি করে ধরে, তাকে বলবে—দেখ কুসম—আমি তোমায় ভালবাসি। একটা দরোশা মনে পথান দিয়েছি, তুমি আমাকে ভালবাস কি ? যদি বলে বাসি—তা হলে জিজ্ঞাসা করবে, “তুমি আমার হবে কি—আমায় বিয়ে করবে কি ? যদি সে অনুকল উত্তর দেয়—তা হলে তার হাতটি এই রকম করে ঠোঁটে তুলে চামো খাবে।” মাণিক বলিল, “কিন্তু দাদা! সে যদি রাজি না হয় ?” প্রভাস বলিল, “তা প্রথমবারেই রাজি নাও হতে পারে। ও রকম অনেক কেতাবে পড়া গেছে। প্রথমবারে কেউ কেউ একেবারেই না’ বলে। কেউ কেউ বা বলে—“ভারি সহসা বলেছ, সময়ে উত্তর পাবে। যে রকম হয়—তখন আবার তোমাকে শিখিয়ে দেবো।” চাঁদ উঠিয়াছিল। দুইজনে নানা জল্পনা করিতে করিতে বাড়ী ফিরিয়া আসিল। ክ Ó : পরদিন হইতে মাণিকলাল অবসর অন্বেষণ করিতে লাগিল। কয়েক দিন চেষ্টার পর তাহা লাভও করিল। একদিন সকালে কুসুমদের বাড়ী গিয়া দেখে, বাড়ীতে কেহ নাই কুসম রান্নাঘরের বারান্দায় পা ছড়াইয়া বসিয়া মুড়ি খাইতেছে। - سران) به