পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এ কেবল পলাইয়া বিবাহ বন্ধ করিবার একটা ছল মাত্র। অগত্যা মোহিনী এক দীঘ পত্রে সমস্ত কথা শ্বশুরকে জানাইল। যাহা যাহা ঘটিয়াছে অকপটে তৎসমুদয়ই বর্ণনা করিল। বলিল, ঘটনা আর গোপনে রাখা চলে না। আমি যেমন আপনার বিপদে সহায়তা করিয়াছি, আপনি সেইরূপ আমাকে এ বিপদ হইতে মুক্ত করন। আমি পারিব না,-আপনি আসিয়া সমস্ত খলিয়া বাবাকে বলন। আর যে ব্রাহ্মণকে কন্যাদায় হইতে মন্ত করবেন বলিয়া বাবা প্রতিশ্রত হইয়াছেন, সেই ব্রাহ্মণের কন্যার সহিত আশর বিবাহ দিন। তাহা হইলেই সকল দিক রক্ষা হয়। শ্যামাচরণ পত্র পাইয়া অনেক কচেট আফিসে ছটি লইলেন। যে দিন বিবাহ সেই দিন বেলা দশটার সময় সপরিবারে মোহিনীদের বাড়ীতে পৌঁছিলেন। সেই বৈঠকখানা আবার আজ লোকপাণ । সবণাকার বিবাহের অলঙ্কার লইয়া উপস্থিত। রায় মহাশয় মধ্যস্থলে বসিয়া সভা উত্তজবল করিতেছেন। শ্যামাচরণবাবুও সেইখানে বসিলেন । রায় মহাশয় ভারি অপ্রতিভ ;– আদর অভ্যর্থনা যেন একট অতিরিক্ত মাত্রায় করিলেন। বেলা হইয়াছে, নানাহারের জন্য অনুরোধ করিলেন। শ্যামাচরণবাব বললেন—“আমাকে যদি একটি ভিক্ষা দেন, তবেই আমি আহার করিব।” অত্যন্ত উৎসকে হইয়া কত্তা জিজ্ঞাসা করিলেন—“ব্যাপারখানা কি বলন দেখি ?" তখন সেই গহপণ লোকের সমখে শ্যামাচরণবাব কন্যার বিবাহের ইতিহাস আদ্যোপান্ত বিবত করিলেন। তাহার পর মোহিনীর পত্ৰখানি বাহির করিয়া পাঠ করিলেন । শেষে সহসা রায় মহাশয়ের পা দখানি জড়াইয়া ধরিয়া বলিলেন—“আপনার বিন আনমতিতে যে এ কায্য হইয়া গিয়াছে, আর এতদিন যে আপনার নিকট ইহা গোপন রাখা হইয়াছে, তাহার জন্য আমাকে আর আপনার পত্রকে ক্ষমা করিতে হইবে।” সকলেই বলিল,—যাহা হইয়াছে, তাহা ভালই হইয়াছে। এমন বিপদে মোহিনী যে ব্রাহ্মণের জাতি রক্ষা করিয়ছে, সে কুলোচিত কাৰ্য্যই করিয়াছে। রায় মহাশয়েরা গ্রামের জমিদার ; বংশাবলীক্লমে চিরদিনই বিপনের বন্ধ । হরেকৃষ্ণবাব বৈবাহিককে সাদরে উঠাইয়া বলিলেন,—“ভাই, আমি সবান্তঃকরণে তোমাকে ক্ষমা করিলাম। তোমার সঙ্গে সঙ্গবন্ধ-বন্ধন হয় ইহা পৰব হইতেই আমার ইচ্ছা ছিল। নারায়ণ সে ইচ্ছা পণ করিলেন। এখন তোমরা বস, আমি বধমাতার মুখ দেখিয়া আসি।” স্বর্ণকারের নিকট হইতে কয়েকখানা অলঙ্কার লইয়া রায় মহাশয় বধ দেখিতে অতঃপরে প্রবেশ করিলেন। বাড়ীর লোকে শুনিয়া অবাক। বিসময়ের ঢেউ কতকটা প্রমিত হইলে বধকে বরণ করিবার ধর্ম পড়িয়া গেল। সন্ধ্যাবেলায় শ্ৰীমান আশাতোষের সহিত সেই কন্যার শুভবিবাহ সম্পন্ন হুইল। মেয়েরা ছাড়ে নাই; মোহিনীকেও বাসরে গিয়া গান গাহিতে হইয়াছিল! চৈত্র, ১৩o৫ ] হিমানী প্রথম পরিচ্ছেদ মণিভূষণ আজ হিমানীর নিকট চিরদিনের জন্য বিদায় গ্রহণ করিতে আসিয়াছে। হিমানীর পিতা বাবা কালিদাস মিত্র খন্টধমাবলম্বী—কলিকাতার একটি প্রসিদ্ধ মিশনরি কলেজের অধ্যাপক। মণিভূষণ আজ পাঁচ বৎসর যাবৎ এই কলেজের ছাত্র। কলেজে মণিভূষণের মত প্রতিভাসম্পন্ন ছাত্র দুইটি ছিল না। যেমন তাহার মেধা, তেমনি পধি;—তাহার উপর আবার ঈশ্বর তাহাকে প্রচার দেহসৌন্দয্যের অধিকারী কবিয়া মণি খাণনযোগ সাধন করিয়াছিলেন। অধ্যাপক মিত্র মণিভূষণকে অত্যন্ত স্নেহ করিতেন। \9&