পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“তোদের জন্যে কি নিয়ে এসেছি তা এখনো দেখিসনি বঝি ?” কি কাকা ? কি এনেছ কাকা’-ইত্যাকার প্রশেন বিনোদকে তাহারা ছকিয়া ধরিল। বিনোদ উঠিয়া তোরঙ্গ খলিয়া, কাহাকেও একটা রবারের বানর, কাহাকেও একটা লাল বল, কাহাকেও একটা মেমপুতুল বিতরণ করিল। তাহা লইয়া বালক-বালিকাগণ মহা লক্ষফঝফ আরম্ভ করিয়া দিল। হাস্যমুখী বউদিদির পানে চাহিয়া বিনোদ বলিল, “তোমার জন্য কি এনেছি জিজ্ঞাসা করলে না বউদিদি ” বউদিদি হাসিয়া বলিলেন, “কি এমেছ ভাই ?” “কি বল দিকিন?” “কি জানি " “কি পেলে খাসী হও ?” “কি পেলে খসী হই ? দাঁড়াও, দেখি । বাঁদর নয়. সে ত ঘরেই রয়েছে—” বিনোদ কৃত্রিম কোপসহকারে বলল, “অ্যাঁ! আমার দাদাকে বাঁদর বলছ বউদিদি ?” कि বউদিদি বলিলেন, “এই দেখ, কার নাম করেছি ? নিজেরা ধরা দিলে আমি আর কি করব ?” বিনোদ বলিল, "মেমপতুলও বোধ হয় চাও না, সেও ত নিজেই রয়েছ।” বউদিদি বলিলেন, “না, মোমের মেমপুতুল চাইনে বটে। একটি সত্যিকার জ্যান্ত মেমপুতুল-যদি বিয়ে করে এনে দিতে ভাই, তা হলে খুব খাসী হতাম।” “যা এনেছি তা দেখলে আরও খাসী হবে। এই জন্যেই ত এতদিন বাড়ী আসিনি —টীকা জমাচ্ছিলাম। আমার ক্যাশবাক্সটা বের কর দিকেন বউদিদি।” বউদিদি সিন্দকে খলিয়া, সবুজ বনাত ঢাকা ক্যাশবাক্সটি বাহির করিলেন। বিনোদ চাবি খুজিতে লাগিল! এ পকেট সে পকেট, এ জামা সে জামা—কোথাও চাব পাওয়া গেল না। শেষে তোরঙ্গ দইটা খলিয়া উলট পালট করিল, কোথাও চাবি নাই। মুখখানি বিষন্ন করিয়া বলিল, “নিশ্চয়ই চাবি গাড়ীতে ফেলে এসেছি।”—বলিয়া বিনোদ মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িল । বউদিদি সান্ত্বনা করিয়া বলিলেন, "চাবি হারিয়েছ তার আর ভাবনা কি ঠাকুরপো ? মাল ত আর হারাওনি—বাক্স ত ঘরেই আছে, চাবি হবে এখন t না হয় বাক্স ভাঙ্গতে হবে, এর বেশী আর কি হবে ?” বিনোদ একটু বিষাদের হাসি হাসিয়া বলিল, “আমার যে হাতখরচের টাকা অবধি বাইরে নেই বউদিদি ” বউদিদি বলিলেন, “তা তোমার যখন যা দরকার হবে, আমার কাছে নিও এখন !” “কলকাতায় গিয়ে বাক্স না-খোলালে আর উপায় নেই। এত সাধ করে তোমার জন্যে গহনা গড়িয়ে নিয়ে এলাম, দেখাতে পেলাম না, এই দুঃখ ।” - বউদিদি বলিলেন, “না, দুঃখ কোরো না। দুদিন পরেই না হয় দেখব। কি এনেছ বলই না—কাণে শনি।” “দশ ভাঁর দিয়ে তোমার জন্যে পাপহার গড়িয়ে এনেছি।” বউদিদি খাব আহমাদ প্রকাশ করিলেন। বিনোদ ক্ৰমে সন্থ হইল। তখন বলিল, “বউদিদি, চা তৈরী করতে পার ? সকালে চা খাওয়াটা ভারি অভ্যাস হয়ে গেছে।”— শনিয়া বউদিদির মন সম্প্রমে পণ্য হইয়া উঠিল। ঠাকুরপোর এতদর সৌখীন চালচলন হইয়াছে ! কিন্তু কিছু অপ্রতিভও হইলেন। বলিলেন, “সে পার্ট ত আমাদের নেই ভাই ।” - বলিল, “চা আমার কাছে আছে, শুধ গরম জল, দুধ আর চিনি পেলেই হয় ।” এই কথা শ্রবণমাত্র বালক-বালিকাগণ ও কাকা, আমি চা খাব ও কাকা, আমায় চা দিও বলিয়া নত্য করিতে আরম্ভ করিল। উপৰ পৰাভাবে একটা ঘটকাসুর জল গল্প হইয়া আসিল। তাহারই মধ্যে