পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একমঠা চা ফেলিয়া, মাখে পাথরবাটি চাপা দেওয়া হইল। বালকবালিকাগণ কেহ বাটি, কেহ গেলাস, কেহ বা পাণের ডিবার একটা খোল লইয়া বসিয়া গেল। চা সিদ্ধ হইলে, সেই ঘটিতেই দধি ও চিনি ফেলিয়া দেওয়া হইল। ঘটির মখে গামছা দিয়া ছকিয়া, বউদিদি সকলকে চা পরিবেষণ করিলেন। চা বালকবালিকাগণের উদরপথ যত হউক না হউক, ঘরের মেঝেতে ঢেউ খেলিয়া গেল। ከ Q ክ নিকটস্থ গ্রামের জমিদার অতুল ঘোষ মহাশয়ের এক চতুদশবষীয়া অবিবাহিতা কন্যা আছে। সবজাতীয়, সদ্বংশজাত, কৃতী, অবিবাহিত একটি নব্য যুবক বিনোদবিহারী গ্রামে উপস্থিত। অতঃপর ঘটনাস্রোত কোন দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা ? সেইদিন অপরাহ্লেই ঘোষজা মহাশয় বিজয় মিত্রের নিকট লোক পাঠাইয়া প্রস্তাব করিলেন । মিত্র বলিয়া পাঠাইলেন, “তা যদি হয়, তার বাড়া আর সখ কি ? বাড়ীতে জিজ্ঞাসা করি, বিনোদ কি বলে দেখি !" - বাড়িতে বললেন, “মেয়েটি চোখে দেখা—কিছু নিন্দের নয়। দেওয়া থোওয়া সম্বন্ধে যদি কৃপণতা না করে, আমাদের মান রাখে, তা হলে আর বাধা কি, এই বৈশাখ মাসেই হয়ে যাক ৷” মেয়ে পহেব হাজার বার দেখা থাকিলেও, বিবাহের সম্মবন্ধ হইলে একবার ঘটা করিয়া মেয়ে দেখিতে যাইতে হয়। সুতরাং শািভক্ষণে বন্ধ বান্ধব লইয়া বিজয় মিত্র মেয়ে দেখিতে গেলেন। ঘোষজা মহাশয় অনেক বিনয় প্রকাশ করিয়া সকলকে অভ্যর্থনা করিলেন। কিন্তু টাকার বেলায় হাজারের বেশী আর উঠিতে চাহিলেন না। বরপক্ষীয়েরা এ প্রকার অযৌক্তিকতায় হাস্য সমবরণ করিতে পারিল না। বলিল, "এন্ট্রাস পাস করা ছেলে, এল-এ পড়ছে, তারই ত হাজার টাকা বাঁধা। তার কি ক্ষমতা বলনে ? যদি চাকরির চেষ্টা করে ত পনেরো টাকা মাইনে জটলে খুব সৌভাগ্য ।” কন্যাপক্ষীয়গণ বলিল, “আহা সে যে আলাদা কথা ! সে যে পড়ছে। জলের মাছ —কত বড় হবে তার ত ঠিকানা নেই। চাই কি একদিন সে হাইকেটের জজও হতে পারে। আর যে কমে ঢুকেছে, তার উন্নতি অনেকটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কিনা, এটা ত স্বীকার করেন ?” ইত্যাদি প্রকার বাদপ্রতিবাদে ঘোষজা মহাশয় দই হাজারে উঠিলেন। ইহারা বলিলেন, “হাজার নগদ হাজার গহনা, দানসামগ্রী ও অন্যান্য বাবদ হাজার, এই তিন হাজার নইলে আমরা পেরে উঠব না।” ঘোষজা মহাশয় বলিলেন, পরে বিবেচনা করিয়া যেরূপ হয় বলিয়া পাঠাইবেন। “উত্তম কথা।”—বলিয়া বরপক্ষীয়গণ শেষবার ধুমপান করিয়া বাড়ী ফিরিয়া আসিলেন। পরদিন সংবাদ আসিল, অনেক কটে মারিয়া কাটিয়া ঘোষজা মহাশয় আড়াই হাজার পর্যন্ত উঠিবেন। ইহাতে যদি হয়, উত্তম–নচেৎ অগত্য তাঁহাকে ক্ষান্ত হইতে হইবে। বিজয় মিত্র বলিয়া পাঠাইলেন–টাকা অতি তুচ্ছ পদার্থ, কুটমবসখই বেশী প্রাথনিীয়। ঘোষজা মহাশয়ের সহিত কুটবিতার লোভে তিনি আড়াই হাজারেই সন্মত । এখন দিনসিথর হইতে পারে। বিনোদকে রাজি করিতে কোনও কল্ট হইল না, কিন্তু হাজার টাকার গহনা শনিয়া সে ভারি খুৎখাৎ করিতে লাগিল। “হাজার টাকায় কি গহনা হবে বউদিদি ? এই তোমার জন্যে পতপহার গড়ালাম, দশো পচাত্তর টাকা পৌনে তেরো আনা লাগল। হাজার টাকায় ক’খানা গহনা হবে ?” বউদিদি বলিলেন, “হাজার টাকায় কি আর গা সাজানো গহনা হয় ভাই ? নইলে নয় খানকতক, তাই হবে। তারপরে, বেচে বত্তে থাক, রোজগার কর, কত গহনা দেবে سرارند: