পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৪১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দিও না।” বিনোদ কিয়ৎক্ষণ ভাবিল। বলিল—“দেখ বউদিদি, এক কায করলে হয় না? ওদের বল, যেন গহনা না দিয়ে গহনার ঐ হাজার টাকা নগদে দেয়। ওভে আর এক হাজার আমরা মিলিয়ে, দ্য হাজার টাকার পছন্দ মত গহনা আমরা তৈরি করাই। কলকাতায় ত যেতেই হবে রাক্সটা খোলাবার জন্যে।” বউদিদি কিয়ৎক্ষণ কপালে হাত দিয়া ভাবিয়া বলিলেন, "এ পরামর্শ মন্দ নয়। তাই বলা যাক, মেয়ে ফিরিয়ে পাঠাবার সময় আমরা গা সাজিয়ে ফিরে পাঠাব।” “কলকাতায় গিয়ে গহনা গড়িয়ে আনতে কতদিন লাগবে বল দিকিন বউদিদি ?” “কতদিন আর? নেবতলায় কমলাদিদিদের বাড়ী যাবে, বাড়ীতে স্যাকরা ডাকিয়ে, বসে থেকে সাত দিনে গহনা তৈরি করিয়ে নেবে। ওরা ত যখন গহনা গড়ায় ঐ রকম করেই গড়ায়।” বিনোদ বলিল, “ঘোষেরা রাজি হবে ত ?” বউীদাদ বললেন, “ইঃ, রাজি হবে না ত কি ?” বউদিদি গিয়া সবামীর সহিত এ বিষয়ে কথা কহিলেন। বিজয় মিত্র বলিলেন, “রাজি না হবার ত কোন কারণ দেখিনে।” কিন্তু সব দেখিয়া শনিয়া তামাক খাইতে খাইতে বন্ধ ভাবিলেন-ভায়ার আমার বড় চাকরি হয়েছে কিনা, মেজাজটা ভারি বেড়ে গেছে।’ অতুলু ঘোষ রাজি হইলেন । একেবারে সবণশন করিয়া মেয়েকে বিবাহের আসরে নামাইতেও পারিলেন না, অত্যাবশ্যক দই চারিখানা গহনা দিতেই হইল। অথচ হাজার টাকাও দিতে হইল। শেষে সেই তিন,হাজারেই দাঁড়াইল। সমারোহ করিয়া বিবাহ সম্পন্ন হইয়া গেল। কন্যার নাম শরৎকুমারী। বিনোদের বউদিদি নববধর মাতাকে বললেন, গহনা গড়াইতে একটা সময় লাগিবে, সতরাং বধকে দুই সপ্তাহের কম ফিরিয়া দিতে পারবেন না। মাতা বললেন, “তা বেশ, এই ত কাছেই, মাঝে দুই একদিন পাকী পাঠিয়ে দেবো, একবেলার জন্যে পাঠিয়ে দিও এখন তা হলেই হবে।” সমীপস্থ একজন নবীনা বলিল, “ওগো এখন আর আগেকার মত মেয়েরা শ্বশুরবাড়ী এসে কাঁদেকাটে না। দ্য দিনে স্বামী চিনে নেয়।” বিবাহের পর সপ্তাহ অতীত হইল, তথাপি বিনোদ কলিকাতা যাইবার নাম করে না। ঠাট্টার সম্পকীয় লোকেরা চোখ টেপাটেপি করিতে লাগিল—বলিল গাছে না উঠতেই এক কাঁদি। বউদিদি আসিয়া বলিলেন, “ঠাকুরপো, আর গহনা গড়াতে না দেওয়া যে ভাল দেখাচ্ছে না ভাই। বউয়ের পিসির সঙ্গে কাল ও-পাড়ায় দেখা হল, জিজ্ঞাসা করলে, শরতের গহনা গড়িয়ে এসেছে ?” বিনোদ বলিল, “আমায় তাড়াতে চাও বউদিদি ?, খুব সহদ ত!” বউদিদি বলিলেন, “বুঝি ভাই, সব বুঝি। এক কাষ কর, যাতে দু’কুল বজায় থাকে। ভোরের বেলা উঠে কলকাতায় যাও। সারাদিন সেখানে থেকে সোণা কিনে, স্যাকরা ডাকিয়ে, মাপ দিয়ে, কমলাদিদিদের উপর ভার দিয়ে এস। সন্যের গাড়ীতে চলে এস, রাত বারোটার সময় পৌছবে এখন। আমি তোমার শোবার ঘরে খাবার ঢাকা দিয়ে রেখে দেবো ? বিনোদ বলিল, “তোমার কি বন্ধি বউদিদি।” বউদিদি হাসিয়া বললেন, “এখনই আমরা বড়োসড়ো হয়েছি বটে, কিন্তু আমাদেরও একদিন ছিল তো ভাই ! এখনও বেশ মনে পড়ে”—বউদিদি আরও যেন কি বলিতে যাইতেছিলেন, সামলাইয়া লইলেন। বিনোদ বলিল, “বল বল, কি বলছিলে বউদিদি।” বউদিদি, “না, এমন কিছ নয়।”—বলিয়া একটা সলজ হাসি হাসিলেন। বিনোদ পীড়াপীড়ি করিতে লাগিল। না শনিয়া কিছুতেই ছাড়িবে না। না বলিলে:

  • ১৬১ - -, -